সভ্যতার সৃষ্টির পরপরই সামাজিক ব্যাধির মতো চালু হয় ক্রীতদাস প্রথা। এরপর সময় যতো গড়িয়েছে, বেড়েছে তাদের প্রতি অমানবিক নির্যাতনের পরিমাণ। মানুষ হিসেবে নূন্যতম অধিকার কেড়ে নিয়ে এক অভিশপ্ত জীবনে ঠেলে দেওয়া হতো এসব ক্রীতদাসদের। পশুর মতোই ‘পোষ্য’ হিসেবে মনে করা হতো তাদের।
ক্রীতদাস প্রথার ইতিহাস অতি প্রাচীন। যতদূর জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ সালে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম ক্রীতদাস প্রথার চালু। তারও হাজার খানেক বছর পর থেকে এই প্রথা ছড়িয়ে পড়ে মিশর আর ভারতে। তারও অনেক অনেক পরে চীনে জাঁকিয়ে বসে অমানবিক এই প্রথা । ৮০০ থেকে ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসে এবং ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে শুরু হয় ক্রীতদাস প্রথার যে চিত্রটির সাথে আমরা সাধারণভাবে পরিচিত তার জয়যাত্রা। এ যেন সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে অসভ্যতার আর অমানবিকতার শীর্ষে উঠবার প্রক্রিয়া। এভাবে প্রায় পুরো বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়ে ক্রীতদাস প্রথা। ওদের কান্না ধ্বনিত হতে থাকে সবখানে, সবসময়। ক্রীতদাস প্রথার প্রথমদিকে এর বিস্তার ছিল কম। উৎপাদনের মূল চালিকা তখনও হয়ে ওঠেনি ক্রীতদাসেরা, দাস বেচাকেনার ব্যবসাটিও শুরু হয়েছে অনেক পরে। কিন্তু মানুষ বরাবরই ভীষণ ‘বুদ্ধিমান’-অমানবিকতার নতুন নতুন কৌশল শিখে নিতে একটুও দেরি হয়নি আমাদের ।
১৪৯৪ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস পাঁচশো রেডইন্ডিয়ানকে দাস করে পাঠিয়েছিলেন স্পেনের রানী ইসাবেলাকে। ওদের বদলে চেয়েছিলেন শূকর! রানী ইসাবেলা ছিলেন অবশ্য কোমল মনের মানুষ। তিনি এহেন প্রস্তাবে রাজি হননি, ক্রীতদাসদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৭০০ সালে গিনিতে স্পেন আর পর্তুগালরা তো রীতিমত কোম্পানি খুলে বসেছিল, আমেরিকান আর ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বছরে দশ হাজার টন দাস সরবরাহ করবে বলে! মানà