শিরোনাম
◈ শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা  বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ সরকার আলোচনার কোনো পরিস্থিতি রাখেনি, কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ঘোষণা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ◈ বিটিভিতে হামলা-আগুন, সম্প্রচার বন্ধ ◈ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ◈ আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয়: ডিবিপ্রধান ◈ নরসিংদীতে গুলিতে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত শতাধিক ◈ চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২ ◈ নেত্রকোনায় ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আহত অর্ধশত, ৭ আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ ◈ শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায় সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে বিএনপি-জামাত আগুন-সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে: ওবায়দুল কাদের   

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪২ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেষ কথা হলো, যেমন জনগণ, তেমন তার সুপারস্টার, তেমন মিডিয়া

মোজাফ্ফর হোসেন

মোজাফ্ফর হোসেন: আমাদের চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগত একটা সার্কাসের জায়গা। নায়িকারা হজ করে বোরকা ধরেন। কোনো নায়ক মারা গেলে তার অভিনয়ের মূল্যায়নের চেয়ে সে যে শুটিং থামিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, সেটা ফলাও করো ছাপা হয় মিডিয়ায়। বাংলা সিনেমায় ধর্ষকের চরিত্রে অভিনয় করে ‘সুখ্যাত’ ভিলেনও কথায় কথায় যেভাবে আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানআল্লাহ বলেন, হুজুরও ফেল মেরে যাবে। এফডিসির নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থী নায়ক এফডিসিতে মসজিদ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চান। নায়ক অমর সানী ভক্তদের সিনেমা দেখার পাশাপাশি পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সংগীতশিল্পী পুরস্কার নিতে গিয়ে বলছেন, রোজা রেখে আমি গানটি করেছি, সকল প্রশংসা তাই আল্লাহর। সিনেমার নায়িকা তার আয় দিয়ে আধুনিক স্টাইলে মসজিদ বানিয়ে দিচ্ছেন। একজন পরিচালক কিছুদিন আগে আবেগে কাঁদতে কাঁদতে তার সিনেমাকে ‘পাপমুক্ত সিনেমা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, সেখান নায়িকার হাত কেউ ধরেনি উল্লেখ করে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবাগত নায়িকা এক নায়িকা সিনেমা মুক্তির আগে পবিত্র পবিত্র হজটা সেরে আসলেন। শুটিং শেষ করে সহি সালামতে ওমরাহ পালনের জন্য দোয়া নিয়ে হজে গেলেন মাহিয়া মাহী। হজ থেকে ফিরে নিজের রেস্টুরেন্টে দাঁড়িয়ে থেকে ইফতারি বিক্রি করছেন তিনি। রেস্টুরেন্টের নাম কি জানেন? ‘ফারিশতা’! সহি নাম না?
এদেশের মুসলমানরাও তেমন, সিনেমা করা লোকজনকেও ইসলাম প্রচারকের ভূমিকায় দেখতে চান। এফডিসি আর ইসলামি ফাউন্ডেশন গুলিয়ে ফেলেন। মনে আছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর সিনেমা দেখে এসে বলেছিলেন, এই সিনেমা ওজু করে দেখা যাবে। ওজু করে সিনেমা দেখা যাবে, এইটা কোনো সিনেমার যোগ্যতা হতে পারে না, অর্থাৎ শিল্পের মানদণ্ডও ধর্ম দিয়ে নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রবণতাও শুরু হয়েছে। কাজেই অনন্ত জলিলদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্ম হতে দেখি, যারা সিনেমার সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে ‘শরিয়তী’ বিনোদন ব্যবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছেন। সেই হিসেবে নতুন সংযোজন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। 

আজব একটা দেশ, একইসঙ্গে মসজিদের দেশ, আবার ভেজাল-ঘুষ-দুর্নীতির দেশ। অসৎ পথের রোজগার জমানোর জন্য খোঁজে ইসলামি স্কিম। [ফলস্বরূপ. গত দু বছরে ব্যাংকের ইসলামি শাখা বেড়েছে দশগুণ। কার্যক্রমে তেমন পরিবর্তন না করে ইসলামি নাম দিয়ে বিভিন্ন সেবা চালু করেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো]। অধিকাংশ সারাজীবন হারাম চিন্তা করে, হারাম আয় করে আর হালাল সাবান-পারফিউমের বিজ্ঞাপন দেখে আলহামদুলিল্লাহ বলে। সাবান-পারফিউমও যে হালাল হতে পারে, একমাত্র এই হারাম মগজেরই আবিষ্কার। এই কারণে আমাদের বিনোদনকর্মীরা আচরণে মওলানা, কিন্তু জীবিকা সিনেমা/মিডিয়া। তাতে ইসলামধর্মের উন্নতি কতোটা হচ্ছে জানি না, তবে শিল্পের যে বিরাট ক্ষতি হচ্ছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেয়। সারাজীবন সিনেমা করে অবসরে যাওয়ার পর প্রমাণ করছেন, সিনেমা মুসলমানদের জন্য না। তারা তো তাদের হিসেবে পার পেয়ে গেলেন, এপার-ওপার দুটোতেই। কিন্তু নতুন যে মেয়েগুলো আসবে, তাদের জন্য কী বার্তা দিয়ে গেলেন? মুসলমানদের জন্য সিনেমা না; এই তো? অথবা সিনেমা করতে হলে অনন্ত জলিল-ওমর সানীদের মতো করতে হবেÑসকালে শুটিং বিকালে ওয়াজ। শেষ কথা হলো, যেমন জনগণ, তেমন তার সুপারস্টার, তেমন মিডিয়া। লেখক: কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়