শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৩, ০৩:২৭ রাত
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২৩, ০৩:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিনার মাহমুদের আত্মহত্যা, গ্রাম এবং বৈশাখের পূর্ণিমায়

আনোয়ার শাহাদাত

আনোয়ার শাহাদাত: মিনার ভাই [মিনার মাহমুদ] যখন নিউ ইয়র্ক ছেড়ে ঢাকায় গেলেন, তখন কেউ জানত না যে তিনি আসলে এই আমাদের নিজস্ব শহরটি ছেড়ে কার্যত ঢাকাতে ‘আত্মহত্যা’ করতে যাচ্ছেন। সে আমরা সবাই পরে বুঝেছি। ফলে এখনও যখন কেউ আমাদের শহর থেকে ঢাকাতে পা রাখে তখন ওখানকার স্থায়ী অনেকের সন্দেহ হতে থাকে যে এই বুঝি আত্মহত্যার তালিকায় আরও নাম জুড়তে থাকল। একদিন নাইম ভাই তো [নাঈমুল ইসলাম খান] তেমন করেই বললেন যে, আমান দৌলা ফিরেছেন এবং তিনি যদি মিনারের মতোই আশা করেন যে সবকিছু আগের মতোই হবে তাহলে তাকেও আত্মহত্যা করতে হবে। যদিও তিনি যখন এ কথা বলছিলেন সেখানে আমিও ছিলাম এবং আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন যে একমাত্র শাহাদাতকে দেখে মনে হয় যে ও আত্মহত্যা করবে না কারণ ওকে দেখি এইসব [ফিরে পেতে চাওয়া] লয়ে ওর কোনও মাথাব্যাথা নেই। আমার ধারণা তিনি [নাঈম ভাই] ঠিক বলেছিলেন, আমি আত্মহত্যা করবনানে। 

আরে আমি তো যেভাবে ‘ভাব’ করেছি তাতে আমার প্রথম প্রেমিকা মনে করেছিল যে আমি যদি আক্ষরিক অর্থে দরি-কলস গলায় গিট দিয়ে কীর্তন খোলায় না ডুবি তবে আর এ জীবনের কী মানে। তো তার এক বন্ধু একদিন বলল আপনি তো কথা দিয়ে কথা দিয়ে রাখনেনি। আমি বললাম, আমি হলাম গিয়ে কথা রাখার মানুষ। তিনি বললেন কেনও আপনি নিকি এমন ভাব করতেন যে ‘ছ্যাকা’ খেলে হয় দেবদাস হবেন না হয় কীর্তনখোলায় কলসে গলায় বেধে ডুব দেবেন। আমি বলি, বলি, ‘ছ্যাকা খেয়েছি’ টের পেলে তো নিশ্চয় ডাবল কলসি লয়ে কীর্তনের জলে নেমে পরতাম। তার বন্ধু বললো, বুঝেছি যে আপনি কিছু টের পান না ‘এমন কি ছ্যাকা’। প্রায় চল্লিশ বছর হলও দেবদাসের ভয়ে একদিনও দাড়ি খৌরি ছাড়া কাটাইনি। হাঃ হাঃ কলসি দরি তো দুরের কথা।

কথাগুলো এ কারণে এলো যে যদি কিছুদিন পরে যখন দেশে যাইবো তখন যদি আবার অনেকে মনে করে থাকেন এই বুঝি দরি-কলস লয়ে কীর্তনে নেমে পড়ল না হয় নির্জন হোটেলে অঢেল ঘুমের বড়ি মেরে পরে হাঃহেঃহোঃহিঃ, মিনার ভাইয়ের অমন মরণের পরে একটা লেখা [মাহবুব আজিজের প্রেরণায়] সমকালে লিখেছিলাম যেখানে আমি এই কথা বলছি যে, আহ! মিনার ভাই, আমি হলে ঢাকায় না থেকে গ্রামে ফিরে যেতাম একান্তই যদি নিউ ইয়র্কে ফিরতে না চাইতাম এবং গ্রামে গিয়ে চাষাবাদ শুরু করে দিতাম। ফলে গ্রামে খবর পাঠিয়েছি গরু [বলদ] কিনতে আমার জন্যে যাতে আমি গিয়েই বা এসেই যেন হাল চাষে নেমে পড়তে পারি। সিনেমা বানাবার জন্যে যেতে ইচ্ছে করে আর তা না হলে গ্রামে গিয়ে হাল জুরে দেবোয়ানে এই সামনের বৈশাখের পূর্ণিমার যোবায়, ভরা জোয়ারের জলে ভেজা মাটিতে। চিয়ার্স। জীবন হলও মরণ অভিশাপের আনন্দ, বেঁচে থেকে তা উপভোগ করা। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়