শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:২২ সকাল
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জীবন তো তারুণ্যেরই আরেক নাম

সাদিয়া নাসরিন

সাদিয়া নাসরিন: তিনটা বাচ্চা ছাড়া আর কোনো প্রাচুর্য আমার নেই। তাই নিজের সবটুকু দিয়ে ওদেরকেই সম্পদ বানানোর চেষ্টা করেছি। পরীক্ষার পাশ ফেল আমার কাছে কখনো ততোটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলোনা, যতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো স্বচ্ছতা, দৃঢতা, সাহস এবং সততা অসততার তফাৎ করতে পারার মতো মাথাটা তৈরি করে দেওয়া। তাই খুব সচেতন ভাবেই আমি ওদের সিলেবাসের পড়ালেখার চাইতে বাইরের বই পড়িয়েছি বেশি। জীবন দক্ষতা, মননশীলতা, সাংস্কৃতিক নির্মাণ এসবকে গুরুত্ব দিয়েছি শিশুকাল থেকেই। যতোটুকু আমার আছে তার সবটুকু লিগ্যাসি তাদের দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই পথেই আমার মেয়েটা নিজেকে ডেভেলপ করেছে, ছোট দুইভাইকেও টেনে নিয়েছে। নিজের ম্যানার, ইথিক্স, এটিকেট আর কালচারাল এ্যাক্টিভিটি দিয়ে ছোটভাইদের গড়ে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই, দুই ভাইও বোনের পদচিহ্ন ধরে তাদেরও নানাবিধ কাজে যুক্ত থাকে। 
কী করেনা এই মেয়ে। স্কুলের হরেক রকমের এক্সট্রা কারিকুলার, এ্যাংকরিং, প্রিফেক্টশিপ, হ্যান্ডবল ম্যাচ, ফুটবল ম্যাচের কমেন্টরি থেকে শুরু করে ছায়ানটের গানের ক্লাস, গোঁথে ইনিস্টিটিউটে ডয়েচ ক্লাস, বাতিঘরের নাটক, শর্টফিল্মে অভিনয়, হরেক বিষয়ের অলিম্পিয়াড এবং শেষ পর্যন্ত বটতলার অ্যাকটরস স্টুডিওর চার মাসের কোর্স।
সে যা করতে চেয়েছে, তাই করেছে। আমি শুধু একটা কাজই করেছি, তা হলো ওকে বিশ্বাস করা, ভরসা করা, আস্থা রাখা এবং সুযোগ দেওয়া হ্যাঁ, অবশ্যই তাদের এসব বিবিধ এক্সট্রা এ্যাকটিভিটির জন্য আমার স্ট্রেস বহুগুণে বেড়েছে, ওদের আনা নেওয়ায় বাড়তি সময় দিতে হয়েছে, বিশ্রাম কম হয়েছে, খরচ বেড়েছে, মাঝেমাঝে ভীষণ ক্লান্ত হয়েছি, কিন্তু শেষপর্যন্ত ওরা যা চেয়েছে তার সাথে আমি থেকেছি। আমাদের প্রাপ্তি এটুকুই যে, এখন পর্যন্ত ওরা আমাকে ভুল প্রমাণ করেনি। ওরা যতটুকু পেরেছে, যা কিছু হয়েছে নিজের যোগ্যতাতেই হয়েছে। এবং যা করেছে তা পূর্ণ ডেডিকেশন দিয়েই করেছে, যা শুরু করেছে ভালো করেই শেষ করেছে। তো, গত চারমাস মারসাদ বটতলার অ্যাকটর্স স্টুডিওর কোর্স করেছে। আর পাঁচমাস পর যার এ লেভেলস এর ফাইনাল এসেসমেন্ট, তার এসময় এরকম একটি ফুল কোর্স করতে সাহস লাগে।
মেয়ে বলেছে তার সাহস আছে। আমি তাকে বিশ্বাস করেছি। সে ভালোভাবেই কলেজ, কোচিং এবং কোর্স সামলেছে। এবার সে মঞ্চে ওঠবে প্রোডাকশন নিয়ে। আমি জানিনা সে খুব ম্যাজিকাল কিছু করে উথরে যাবে কিনা। তার দরকারও নেই। আমি শুধু চাই প্রথম মঞ্চে সে নির্ভয়ে দাঁড়াক, গলা উঁচু করে সংলাপ বলুক। তাকে শুধু একটা কথাই আমি বলতে চাই, ‘মা, লাইফ ইজ নাথিং বাট অ্যা প্লে। ইদার অনস্টেজ অর ব্যাকস্টেজ। এখানে সব সময় ভালো পারফরমেন্স হয়না। মাঝেমাঝে পারফরমেন্স খারাপ হওয়াটাও দরকার। তাতে পুরোটা আবার রিভাইস প্ল্যান করা যায়’। অল দ্য বেস্ট, মা ঝঁনধরঃধ গধৎংধধফ। বি:দ্র: রাত এগারোটা পর্যন্ত রিহার্সাল করে এসে রাতভোর কস্টিউমে ডিজাইন করছে, আর একা একা ডায়লগ বলছে, এর নাম সৃষ্টির উন্মাদনা, এর নাম তারুণ্য। জীবন তো তারুণ্যেরই আরেক নাম, তাইনা। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়