শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর, ২০২২, ০১:৫৩ রাত
আপডেট : ০৮ অক্টোবর, ২০২২, ০১:৫৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবি সুফিয়া কামাল এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গন্ধুকন্যার প্রয়োজনীয়তা 

আতিকুজ্জামান ফিলিপ

আতিকুজ্জামান ফিলিপ: জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালে যুক্তরাজ্য সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একজন কাউন্সিলর চাইলেই পদ ছেড়ে দেব। আমি চাই দলে নতুন নেতৃত্ব আসুক’। একজনও কাউন্সিলর তো দূরের কথা দলের ন্যূনতম কোনো কর্মী কিংবা দূরতম কোনো সমর্থকও চায় না জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব ছেড়ে দিক। বেশ মনে আছে, ৯১’র নিবার্চনে পরাজয়ের পর দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শেখ হাসিনা। তাতে আওয়ামী লীগের কিছু বয়স্ক নেতা বেশ খুশি হলেও আওয়মী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা বেঁকে বসেছিলো, সেদিন তাদের তুমুল আপত্তি আর বাঁধার মুখে আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদ সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে সাহস করেনি। সেদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নেত্রীকে সদলবলে পুরো একটা দিন স্রেফ ঘেরাও করে রেখেছিলো বলা যায়। তারা কিছুতেই নেত্রীকে পদত্যাগ করতে দেবেন না। 

এমন অবস্থায় শেখ হাসিনাও জেদ ধরে বসে থাকলেন। কারো অনুরোধই শুনছেন না, এমনকি কারো ফোনও ধরছেন না। এমনি করে দিন পার হয়ে শেষবেলায় একটা ফোন এলো, এবার এমন একজন মানুষ ফোন করলেন যার ফোন না ধরে তিনি থাকতে পারলেন না। মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত ‘কবি সুফিয়া কামাল : মায়ের প্রতিকৃতি’ শীর্ষক লেখায় শেখ হাসিনা নিজেই লিখেছেন, ‘এই ফোনটা না ধরার সাহস আমার নাই। আমি যখন শুনলাম কবি সুফিয়া কামাল ফোন করেছেন তখন আমাকে ফোন ধরতেই হলো’। ফোনে সুফিয়া কামাল বললেন, ‘তুই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার কর, এই দল, এদেশের মানুষ ছেড়ে কোথায় যাবি? তোকে সভাপতি থাকতে হবে’। শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমি কাজ করব কেবল, সভাপতির পদে থাকব না’। সুফিয়া কামাল ধমক দিয়ে বললেন, ‘আমি যা বলছি তা-ই তোকে মানতে হবে’। 

সুফিয়া কামাল আরো বলেছিলেন, ‘তোর উপর অনেক বড় দায়িত্ব, এই দেশ তোর আব্বা স্বাধীন করেছেন, এখন তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন তোকেই করতে হবে। দেশের মানুষের জন্য তোকে কাজ করতে হবে। সাহস রাখ, তুই পারবি’। কবি সুফিয়া কামালের কথাগুলো আজও নিরেট সত্য, সেই বাস্তবতা আজও হারিয়ে যায়নি। কবি সুফিয়া কামালের মতো এমন কোনো বর্ষীয়ান মুরুব্বি এখনো বেঁচে আছেন কিনা জানি না যার কথা নেত্রী ফেলতে পারবেন না। তবে কবি সুফিয়া কামাল আজ বেঁচে না থাকলেও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের যেসব কোটি কোটি আওয়ামী অন্তঃপ্রাণ কর্মী সমর্থক আছেন তারা যে নেত্রীকে কোনো অজুহাতেই সরে যেতে দেবেন না এটা তো দিবালোকের মতোই সত্য। পুনশ্চ: অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন এখনই অন্তত প্রাথমিকভাবে হলেও নেত্রীর উচিত তার উত্তরসূরী নির্বাচন করে তাকে সামনে নিয়ে আসা। 

কিছুদিন আগেই নেত্রী ৭৫ পেরিয়ে ৭৬ এ পা দিয়েছেন। আমরা চাই নেত্রী আরও শতবছর আমাদের নেতৃত্ব দিক। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ লিখন তো কেউই খণ্ডাতে পারবে না, প্রকৃতির নিয়মেই আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে, নেত্রীকেও চলে যেতে হবে। সেদিন যেন হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখেই নেত্রী কর্তৃক মনোনীত উত্তরসূরীর রাজনৈতিক রিহার্সাল এখনই শুরু হওয়া উচিত। নেত্রীই থাকবেন সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা, তিনিই সকল কিছু দেখভাল করবেন কিন্তু কোনো সংকটময় মুহূর্তে হঠাৎ করে যেন কোনো শূন্যতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য নেত্রী কর্তৃক মনোনীত উত্তরসূরীর রাজনৈতিক রিহার্সাল এখনই শুরু হওয়াটা জরুরি। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়