শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০২:৩০ রাত
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০২:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসলামের প্রতীক কী হতে পারে? 

জান্নাতুল মাওয়া আইনান

জান্নাতুল মাওয়া আইনান: ইসলামের যে ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন তাতে প্রতীকের তেমন কোনো কাজ নাই, দরকারও নাই। এজন্যই দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামের আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতীক ছিলো না। এই যে ক্রিসেন্টকে ইসলামের সিম্বল হিসেবে ধরা হয়, এটাও আসলে কোনো ইসলামিক উদ্ভাবনা না। এমনকি এই যে কাবাকে ঘিরে সারা দুনিয়ার সব মুসলিম নামাজ পড়ে, হজ্ব করে, সেই কাবাও ইসলামের প্রতীক নয়। কারণ এই রিলিজিয়নে আল্লাহর একত্বকে এতো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে তার সামনে কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রতীককে কোনোভাবে আসার সুযোগই রাখা হয় নাই। কিন্তু মানুষের একটা অভ্যাস হলো প্রতীক তৈরি করা। ফলে, মুসলিমরাও নানান প্রতীক তৈরি করেছে তো বটেই এখন রীতিমতো সেইসবের পূজাও করছে। 

এর মধ্যে ইসলামের একটা অন্যতম সিম্বল হয়ে গেছে হিজাব আর দাড়ি টুপি। অথচ এই তিনটার সাথে ইসলাম ধর্ম আর দর্শনের তেমন কোনো গভীর লেনদেন আগে কখনো ছিলো না। এগুলো নেহাতই কালচারাল অনুষঙ্গ। সুতরাং ইরানের আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে হিজাব বিরোধিতা। হিজাব বিরোধিতা আর মুসলিম বিরোধিতা এক জিনিস না। ইরানের যারা এই আন্দোলন করছেন তাদের প্রায় সবারই মুসলিম হবারই কথা। কারণ ইরানের মোল্লাতন্ত্র ক্ষমতায় আসার পরে অন্য ধর্মের লোকেদের মেরে ধরে ইরান থেকে বিদায় করা গিয়েছে। তো ইরানের মুসলিমরা ইরানের মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। নারীরা হিজাব আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। যারা এই আন্দোলনকে ইসলাম বিরোধী আন্দোলন বলে হাজির করতে চাইছেন তারা প্রতীক পুজারি। তাদের কাছে হিজাব আর দাড়ি টুপি মানেই ইসলাম। ইসলামকে একটা ছোট গন্ডী আর কয়েকটা সিম্বলের মধ্যে আটকে ফেলার জন্য দুর অথবা অদুর ভবিষ্যতে এই লোকগুলোর গল্প প্রচন্ড ঘৃণার সাথে ইসলামের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। 

ইরানের মোল্লাতন্ত্রে হিজাব আর দাড়িটুপি হইলো অন্যায়ের প্রতীক। প্রতীকের কাজই এমন। এটা ঘনঘন মিনিং পাল্টায়। আর হ্যাঁ যারা উশখুশ করে বলছেন দেশের অবস্থা ভালো না আর আমরা ইরান নিয়ে পড়ে আছি। আপনারা কি মনে করেন বাংলাদেশ দুনিয়ার বাইরে? এই ঘটনাপ্রবাহ, এইখান থেকে উঠে আসা ধারণা গুলো কি বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে না? আমরা নতুন যুগে পা রেখেছি। এই যুগের রাজনীতিতে নারীদের জাতীয়তাবাদের নাম করে, রিলিজিয়নের নাম করে বসিয়ে দেয়া যাবেনা। আপনার রাজনৈতিক আদর্শ যদি ইনক্লুসিভ না হয় আপনি হারবেন, হারিয়ে যাবেন। আপনাদের আলোচনার টেবিলে মেয়েদের সসম্মানে বসতে দেন আর নইলে আলোচনায় থাকার ক্ষমতা ছেড়ে দেন। নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ