শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:২৭ দুপুর
আপডেট : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেখ হাসিনার সরকারের অবিশ্বাস্য অগ্রগতি স্বাভাবিক রাখতেই কড়া নজরদারি দরকার

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে  রেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কথাটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন তাহলো, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন পুণরায় গঠন করে তার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।

প্রশ্ন রাখতে চাই, আসলে এর একটিও কি সম্ভব হবে? বাস্তবতা কী বলে? দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা আর মিথ্যে স্বপ্ন দেখানো, মিথ্যে আশ^াস দেওয়া  কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক নেতার কাজ হতে পারে কি? শুধু ২০০৯ থেকে এ যাবৎ অর্থাৎ ২০২২ এর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা কয়েক হাজার বার ‘বিদায় ঘন্টা’ বাজিয়েছেন সরকারের। ‘পরিণতি খারাপ হবে’ বলে হুমকি দিয়েছে ১ হাজারবারের বেশি। কমপক্ষে ১ হাজার ৯শ’ ৮০ বার দলটি এ সরকারের পদত্যাগ চেয়েছে। বেসরকারি টিভি,   বেতার ও সংবাদ-পত্রের তথ্যমতে, এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছে পাঁচশতাধিকবার। চলমান একাদশ সংসদে বিএনিপর সদস্যসংখ্যা এতো নিচে যে তাতে দলটির সাংগঠনিক অযোগ্যতাই প্রমাণিত হয়। 

সরকারি দল এই সংসদ বিলুপ্ত করবে নাকি?  কেনো? এ দাবি ‘মামা বাড়ির আব্দারে’র মতো না?

সংসদ ভবন এলাকা থেকে দলটির নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার কবর সরানোর দাবি উঠেছে। আদালতে দণ্ডিত দলটির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিএনপিতে সিদ্ধান্তহীনতা চরমে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যাকে করা হয়েছে সেই তারেক রহমানও দণ্ডিত। অবস্থা ক্রমেই জটিলতার দিকে যাচ্ছে। দলটির অতীত কর্মকাণ্ড জনগণকে ভীষণ বিরক্ত করছে। দলের সমর্থকের সংখ্যা আস্তে আস্তে ক্রমাবনতির দিকে। গণমাধ্যম ছাড়া দলটির ‘এক্টিভিটিস’ চোখে পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে অতি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন,  বিএনপি ভুয়া  ভোটার তালিকা  তৈরি করে এবং  ভোটের দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনগণের  ভোটাধিকার ছিনিয়ে  নেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে  ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি গত সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৭০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং আসন বাণিজ্যের কারণে জনগণ তাদের  ভোট দেয়নি।’

শুধু কী তাই? ২০১৩ সালে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা ও রক্তক্ষয়ী অগণতান্ত্রিক হামলা চালিয়েছিল কারা? বিএনপি-জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর সেসময়কার ভিডিওচিত্র প্রমাণ করে তারা এ দেশে পরিকল্পিত উপায়ে সন্ত্রাস করেছে! 

অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে সকলকে  দেশের জন্য কাজ করার কথা। কিন্তু বিএনপি রাজনীতির নামে যেভাবে পশ্চাৎপদ রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ষড়যন্ত্রের নতুন পরিকল্পনায় নেমেছে এতে আর যাই হোক ভবিষ্যতে দলটি লোক খুঁজে পাবে বলে মনে করছেন না পর্যবেক্ষকরা। এতোকিছুর পরও পচাচিন্তা-ভাবনা নিয়েই যদি তারা রাজনীতি করে, দলটির যদি  শিক্ষা না হয় তাহলে ভবিষ্যৎ কেবল অন্ধকারই হবে। সংবিধান অনুযায়ী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অবশেষে  দুর্নীতির দায়ে জেল খাটবেন এটা কী দলটির সমর্থকদের কেউ ভেবেছিল? না ভাবেনি। অথচ এটাই বাস্তবতা যে তিনি শেখ হাসিনার কৃপায় বাসাতে আছেন, জেলের ভেতর নয়।  আসলে ইতিহাস সঠিক জবাব দিয়ে থাকে। সমাজে  অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি টিকিয়ে রেখে আর যাই হোক মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব নয়। যুদ্ধাপরাধী লালনসহ বিএনপির রাজনীতির নানারকম ঘৃণ্য কৌশল কিন্তু এখন মানুষের কাছে পরিষ্কার। আর ঠিক উল্টোটাই দেখা যায় জননেত্রী  শেখ হাসিনার রাজনীতিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন  দেখতেন  সে স্বপ্নই আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন এক এক করে। তাঁর অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। 

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  সপরিবারে হত্যার পর ঘাতকেরা ভেবেছিল বাংলাদেশ পাকিস্তানের পথে ফিরে যাবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাত্র কয়েকদিন পর ২৮ আগস্ট ‘দি  গার্ডিয়ান’ লিখেছিল ১৫ আগস্টের ঘটনার  ভেতর দিয়ে যেন বাংলাদেশের জনগণ আইয়ুবের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রচারণা এবং সামরিক ‘শাসনকালে’ প্রত্যাবর্তন করেছে। একটি  বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হয়। আর ১৫ আগস্টের অন্যায় স্পর্ধাকে জাতি অস্ত্রের ভয়ে  মেনে নিয়েছিল বলেই ১৫ বছর এ  দেশে  জেনারেল জিয়া ও এরশাদের সামরিক  স্বৈরাচার অব্যাহত থাকে। ঘাতকদের ঘৃণ্য ও বর্বর রাজনীতি এদেশের অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে যায়। পিতাকে হত্যার পর শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৯ বার ক্যু,  ষড়যন্ত্র ও হামলা চলে। সৃষ্টিকর্তা তাঁকে প্রাণে বাঁচান। এরপর ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে জাতিকে উদ্ধার করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। আবার ২০০১-এ নতুন করে ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে দেশ। সংখ্যালঘু হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, দখল শুরু হয়। অপরাধ ছিল নৌকায় ভোট দেওয়া। এরপর ২০০৯-এ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর মানুষের আস্থা বাড়তেই থাকে। পাঁচ দশকের রাজনীতির ইতিহাস ঘেঁটে মানুষ খুঁজে পেয়েছে গণতন্ত্রের সুবাতাস। নারীর ক্ষমতায়ন। ভরসার জায়গা। মানুষ দেখতে পায় শেখ হাসিনার জীবনযাত্রায়  কোথাও বিলাসিতা বা কৃত্রিমতার ছাপ নেই। সেই মমতাময়ী জননেত্রী থেকে আজ অন্যতম  বিশ্বনেত্রী। অসংখ্য গুণে গুণান্বিত বিশ্বমানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা। কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব। সারল্যে ভরা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি এখন  শেখ হাসিনা। আমাদের বড়বড় সাফল্য আছে। চোখের সামনে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ। করোনার টিকাদানে দেশের অগ্রগতি অবিশ^াস্য। এটা ‘হু’ (ডব্লিউএইচও) বলেছে। জঙ্গি উত্থান হচ্ছে বৈশ্বিক সমস্যা। কিন্তু আমরা স্বাভাবিক করতে পেরেছি। আমাদের র‌্যাব-পুলিশ- সোয়াত-গোয়েন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কেউ বা দেশের কোনো মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয় এজন্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা তুলে ধরতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের সরকারপ্রধান হয়েও নাগরিক ইস্যুর বিষয়ে সজাগ তিনি। আমরা জানি, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও জ¦ালানি নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং সুন্দর বাংলাদেশ, ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ, অগ্রগতির বাংলাদেশকে স্বাভাবিক রাখতেই কড়া নজরদারিতে  রাখতে হবে সন্দেহভাজন ক্ষেত্রগুলো, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের!  

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ