শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ০১:০৫ রাত
আপডেট : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ০১:০৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবী!

আহসান হাবীব

আহসান হাবীব: আমাদের দেশে এখন প্রচুর ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবী। এরা বিভিন্ন মতাদর্শের ভাড়া খাটে। তবে দৃশ্যত এরা ধর্মের ভাড়া খাটে বেশি। কারণ এটা এই দেশে সবচেয়ে বেশি চলে। সরকারের ভাড়া খাটা তো পুরনো মৌলিক বিষয়। সরকার বুদ্ধিজীবী পোষে, যেমন অনেককে পোষে বিদেশি শক্তি। কেউ আমেরিকার দালাল, কেউ ভারতের আবার কেউবা চীন রাশিয়ার। এরা কেউ পেইড, কেউবা ননপেইড। এটা নির্ভর করছে বুদ্ধিজীবীতার মাত্রার উপর। এই ভাড়াখাটার ফলে যারা মূল শক্তি, তারা তাদের উপর এক ধরণের দাবী অধিকার করে ফেলে। যারা সরকার বিরোধী বুদ্ধিজীবী, তারা যদি কোন ইস্যুতে চটজলদি বিরোধীতা করে বিবৃতি বা স্ট্যাটাস না দেয়, এরা নাখোশ হয়, বুদ্ধিজীবীদের গালাগাল করতে থাকে। ধরুন সাফ গেমসে নারী ফুটবলাররা যে গণসম্বর্ধনা পেলো, এর পরপরই কোরান তেলাওয়াত করে যে ছেলেটা তৃতীয় হলো, তাকে কেন গণসম্বর্ধনা দেয়া হবে না- এই নিয়ে ধর্মওয়ালারা তাদের জন্য ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবীদের উপর চড়াও হলো। বেচারা বুদ্ধিজীবীদের দল তখন পড়ি কি মরি করে স্ট্যাটাস লিখতে বসে গেলো। সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবীর সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ছে। ভারতবিরোধীতা এদের প্রধান জিগির। এর পেছনে যে মতলব তা কিন্তু দেশপ্রীতি নয়, সাম্প্রদায়িক এটিচুডই প্রধান। সেটাকে তারা লুকিয়ে ফেলে ভারতীয় আধিপত্যের নামে। এই ধরণের বুদ্ধিজীবী আবার আমেরিকা কিংবা পাকিস্তান কিংবা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কিছু লিখবে না। বরং এরা বলবে মাদ্রাসার শিক্ষার মান বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভাল। এই ধরণের বুদ্ধিজীবীদের যারা গুরু তাদের ঐ একই মৌল বৈশিষ্ট্য। আবার এদের যারা শিষ্য, তারা কখনো কখনো গুরুদের চেয়েও এক কাঠি সরেস। আবার যেসব বুদ্ধিজীবী ভারতবিরোধী নয়, তারা আবার আমেরিকা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত। এরা আবার রাশিয়া বা চীন বিষয়ে রা কাড়ে না। তবে বাংলাদেশে চীনপন্থি বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী বর্তমান আওয়ামী সরকারকে তুলোধূনো করে উঠতে বসতে, সংগে ভারতের দফারফা। তবে এরা বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে কিছু বলে না, বরং আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে এদের ক্ষমতায় বসানোতেই তাদের সমূহ আগ্রহ। 

নারীকে কেন্দ্র করে এদেশে বিচিত্র বুদ্ধিজীবীতা আছে। মোটাদাগে হিজাবী এবং ননহিজাবী। হিজাবকে কেন্দ্র করে যারা ভাড়া খাটে, তাদের দর্শনগত মিলটা আছে আন্তর্জাতিক বন্ধু শত্রু হিসেবের মধ্যে। ভারতে যদি হিজাব নিয়ে কোন ঘটনা ঘটে, তাহলে একদল ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের তুলাধূনা করে, এরাই আবার ইরানে হিজাবের জন্য নারীর মৃত্যুতে রা কাড়ে না। দেশে যখন হিজাবীরা আধুনিক পোশাক পরা নারীকে অপমান করে, এরা হিজাবের পক্ষে শোরগোল তোলে। আবার একদল আছে হিজাবের বিরুদ্ধে, পোশাক যার খুশি যেমন পরবে, কারো হস্তক্ষেপ করার কিছু নাই- এরা নির্ভেজাল নারীবাদী। নারীর ছোট পোশাক নিয়েও বিচিত্র বুদ্ধিজীবীতা এই দেশে চলছে। মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে তো বুদ্ধিজীবীদের ভাগ আছেই। একদল মনে করে স্বাধীনতা ভারতের স্বার্থে ঘটেছে, আর একদল মনে করে স্বাধীনতা ধর্মের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ। এরা এখনো দ্বিজাতিতত্ত্বের ঘোর সমর্থক। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের ভাড়াখাটার রাজনীতি মূলত আবর্তিত হচ্ছে ধর্মকে কেন্দ্র করে। ভারত পাকিস্তান সৌদিআরব আমেরিকা ইত্যাদি এদের বিভক্তির উপাদান। তবে এটা দেখতে পাওয়া খুব বিরল যে কেউ প্রগতিশীলতার পক্ষে তাদের বুদ্ধি খাটাচ্ছে। এদের নিজস্ব কোন চিন্তা নাই, সব ধার করা, সুবিধামত ফেরি করছে। লেখক: ঔপন্যাসিক 

  • সর্বশেষ