শিরোনাম

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৫২ রাত
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৫২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতীয়তা ও জাতীয়তাবাদ

শামসুদ্দিন পেয়ারা

শামসুদ্দিন পেয়ারা, ফেসবুক থেকে: সেনাপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতির গদি দখলকারী জেনারেল  জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে খন্দকার আব্দুল হামিদ ও বিএনপি'র তাত্ত্বিকরা "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ" নাম দিয়ে নতুন কিছু একটা বানিয়ে যে "বাঙালি জাতীয়তাবাদ"-এর উপর ভিত্তি করে বাঙলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম গড়ে উঠেছিলো ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে যা পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল, সেই "বাঙালি জাতীয়তাবাদ"-কে "মুসলিম বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন" তথা ১৯৪৭-এর আগের মুসলিম লিগের যে "মুসলিম সাম্প্রদায়িক আন্দোলন" অর্থাৎ  হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক বিভাজনভিত্তিক যে "পাকিস্তান আন্দোলন", তার‌ই ধারাবাহিকতা হিসাবে "বাঙালি মুসলিম জাতীয়তাবাদ" তথা "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ" হিসাবে চালাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। 
  "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ" বলে কোন‌ও রাজনৈতিক তত্ত্ব এদেশে দাঁড়ায়নি। যা হয়েছে তা হলো বিএনপি-জামাতের একাধিক শাসনামলে এদেশে "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ" কায়েমের নামে চরম হিন্দু-বিরোধী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী বিদ্বেষী এবং ভারতবিরোধী গণহিস্টিরিয়া সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে এক ধরণের 'সফ্ট পাকিস্তান' বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পূর্ণ সাফল্য না আসলেও কিছুটা সাফল্য তো এসেছে। কক্সবাজারে দুই ট্রাক ও চট্টগ্রাম বন্দরে ধরা পড়া ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান বিষয়টিকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে। 
  মানুষের জাতীয়তা নির্ধারিত হয় নাগরিকত্বের দ্বারা। বাঙলাদেশের নাগরিকরা "বাঙলাদেশি", নেপালের নাগরিকরা "নেপালি", ব্রাজিলের নাগরিকরা "ব্রাজিলিয়ান"। এক‌ইভাবে জাপানি, চাইনিজ, রাশিয়ান, জার্মান, ভারতীয় ও পাকিস্তানি। এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকত্বভিত্তিক জাতীয়তা, যা পাসপোর্টে লেখা থাকে। এখানে কোনো তত্ত্ব, আদর্শ বা রাজনৈতিক দর্শন নেই। এটা স্রেফ একজন মানুষের নাগরিকত্বের পরিচয়মাত্র। আর "বাঙালি জাতীয়তাবাদ" হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলাভাষি মানুষদের এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ভাষিক ও ভৌগলিক অস্তিত্বের প্রামাণ্য বাস্তবতা। জাতীয়তা  ও জাতীয়তাবাদ -- দু'টা আলাদা দুই জিনিস।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়