শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০২২, ০১:০৩ রাত
আপডেট : ০৮ মে, ২০২২, ০১:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আশির দশকের ওজোন স্তরে ফিরবে পৃথিবী

অনলাইন ডেস্ক: পৃথিবীকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা করে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর। ১৯৭০ এর দশকে বিজ্ঞানীরা এই স্তরের পুরুত্ব লক্ষ্য করেন। বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় স্তর যা সূর্যের বিকিরণের কারণে পাতলা হতে শুরু করে। এর পেছনে মূলত দায়ী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা সিএফসিএস। এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যা মশা মারার অ্যারোসলের বোতল থেকে রেফ্রিজারেটরে পর্যন্ত উপস্থিত ছিল।

১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি এই সিএফসিএস নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে ছিল। বর্তমান সময়ে এটি দ্রুত বাড়ছে। তবে ওজোন পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ওজোন স্তর ১৯৮০-এর দশকে যেমন ছিল ঠিক সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।

ওজোন স্তর যখন হঠাৎ করে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে বিশ্ব তখন নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। সিএফসি গ্যাস নির্গমণ কমাতে ভোক্তা বয়কট, রাজনৈতিক পদক্ষেপ, মন্ট্রিল প্রোটোকল নামে একটি বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নতুন প্রযুক্তিতে বিশাল বিনিয়োগ শুরু হয়। সেই উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকের প্রথম দিকে শুরু হয়। বন্ধ করা হয় সিএফসি উৎপাদন।

১৯৮৯ সালে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সিএফসি গ্যাস ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। সিএফসির পরিবর্তে হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (এইচএফসি) ব্যবহার শুরু হয়, যা ওজোন স্তরের জন্য কম বিপজ্জনক। কিন্তু এটিও শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। এইচএফসি বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার জন্য কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ২০ বছর আগেও এইচএফসি ব্যবহারের পদক্ষেপকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে দেখা হয়েছিল। বর্তমানে সেটিই জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এইচএফসির ব্যবহার বর্ধিত করা হয়েছে।

ওজোন স্তর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশ্বব্যাপী যে প্রচেষ্টা তা সমস্যার সমাধান করতে পারে। তবে একটি সমস্যা সমাধানে আরও নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সিএফসি হ্রাস করার যে প্রচারাভিযান তা সাফল্য পেয়েছে। জলবায়ু সংকটে এই পদক্ষেপ জটিল হলেও এটিকে শিক্ষামূলক হিসেবেই দেখা উচিত।

সূত্র: ভক্স

  • সর্বশেষ