শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩৮ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানুষের চাপ ছাড়া কোনো সরকার ভালো কাজ করে না

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকার শীর্ষ দশের মধ্যে ৬টিই ইউরোপের এবং নির্দিষ্ট করে বললে, নর্ডিক দেশগুলোর। এর মধ্যে ফিনল্যান্ড ১ নম্বরে। সুখে থাকার প্রধান শর্ত কী? একটা নীরোগ এবং স্বাস্থ্যবান শরীর আর সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত মন। ফিনল্যান্ড তার দেশের জিডিপির ৭.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য খাতে আর শিক্ষা খাতে দেয় জিডিপির ৬ শতাংশের ওপরে। নরওয়ে আরো বেশি দেয়। সেখানে দেয় ১১ শতাংশের এর ওপরে আর শিক্ষা খাতে দেয় জিডিপির ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে। সুইডেন দেয় স্বাস্থ্য খাতে দেয় ১১ শতাংশের আর শিক্ষা খাতে দেয় জিডিপির ৭.৬ শতাংশের। সবচেয়ে সুখী ১০টি দেশের সবকটির প্রায় একই অবস্থা। এতে কি প্রমাণিত হলো? একটি দেশকে সুন্দর ও সভ্য বানানোর সবচেয়ে প্রথম যেই কাজটি করতে হবে সুস্থ্য এবং জ্ঞানী ও আলোকিত মানুষ তৈরি করা। তার জন্য এই দুই খাতে মেগা বিনিয়োগের কোন বিকল্প নাই। আর আমরা কি করছি? গত বছর দেখেছিলাম শিক্ষায় বরাদ্দ এর আগের বছরগুলোর তুলনায় কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে জিডিপির ২.০৮ শতাংশ করা হয়েছিল। যা হওয়া উচিত তার ৩ ভাগের এক ভাগেরও কম। অথচ এইবার সেখান থেকে নেমে জিডিপির ১.৮৩ শতাংশ। যার নিন্দা করার ভাষা জানা নেই। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা স্বাস্থ্য খাতে। আমাদের স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বেহাল অবস্থা। তথৈবচ শিক্ষা খাত। 

যার প্রতিফলন আমরা সর্বত্র দেখতে পাই। এমনকি রাস্তাঘাট, নদনদী, খালবিল, বিমানবন্দর, ট্রেন-বাস স্টেশন, বাজার, সরকারি অফিস, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি ফেইসবুকেও। সর্বত্র এত অনিয়ম, এত ঝামেলা, এত বিতর্ক, এত ভেঁজাল যে মানুষের জীবন অতিষ্ট। ফলে যে যখন পারছে অর্থ সম্পদ ও ছেলেমেয়েসহ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এইটাতো সমাধান না। সিঙ্গাপুরের মত ছোট্ট একটি দেশ কত সম্পদশালী সুন্দর একটি দেশ। কারা করেছে? সিঙ্গাপুরের মানুষ। তাই সমাধানের শুরুটা হতে হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশাল বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে। আগে সুস্থ্য ও শিক্ষিত মানুষ তৈরি করতে হবে। সুস্থ্য ও শিক্ষিত মানুষই কেবল সভ্য ও সুন্দর দেশ গড়তে পারে। শিক্ষিত মানুষই পারে বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে আর একই সাথে ভিন্ন মতের মানুষদের সহাবস্থান নিশ্চিত করে দেশের মানসিক এনট্রপি কমাতে। ফুল স্টপ। একবার কল্পনা করুন যে আমরা যদি জিডিপির অন্তত ৫.৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দিতাম তাহলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দ অনেক বাড়াতে পারতাম। সেখানে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা সুন্দর করতে পারতাম। 

দরিদ্র মেধাবীদের ফুল রাইড বৃত্তি দিতে পারতাম। এর সাথে সরকারের সদিচ্ছার প্রমান স্বরূপ যদি ভালো মানের আলোকিত শিক্ষাবিদদের ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিতে পড়তাম তাহলেই বিদ্যমান শিক্ষক এবং অন্যান্য ব্যবস্থা দিয়েই আমরা অসাধারণ শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারতাম। কয়েক বছরের মধ্যে দেশ পাল্টে যেত। কিন্তু তাতে একটা সমস্যা আছে। সমস্যা হলো তখন বর্তমান কুরাজনীতি অচল হয়ে যেত। ভালো সুরাজনীতি দ্বারা কুরাজনীতি প্রতিস্থাপিত হতো।

আমাদের কোন সরকার কোন ভালো কাজ এমনি এমনি করেনি। মানুষের চাপ ছাড়া কোন সরকার ভালো কাজ করে না। তাই আগে জনগনকে তৈরি হতে হবে। শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা অনেকেই বলে এবং দাবি জানায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি কখনো জোরালো হতে দেখিনি। ডাক্তাররাও চুপ, পোটেনশিয়াল রোগীরাও চুপ। আমি নিজেও কেবল শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাই বলি। স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তেমন করা হয়নি। কিন্তু এই দুটোকেতো আলাদা করে দেখা যাবে না। ইন ফেক্ট শিক্ষার আগে স্বাস্থ্য আসে। আজকে যারা সুস্থ্য আছি কালকে আমরাই রোগী হবো। চিকিৎসার জন্য আর কত বিদেশে দৌড়াবেন? এতে দেশের টাকা বিদেশে চলে যায়। আর তার সাথে ঝামেলা ও জঞ্জাল পোহানোতো আছেই। লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়