শিরোনাম
◈ পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা লজ্জিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ শাহজালালে ২৩ লাখ সৌদি রিয়াল ফেলে পালালো যাত্রী ◈ ফিনল্যান্ড-সুইডেনে ন্যাটো সেনা পাঠালে জবাব দেবে রাশিয়া: পুতিন ◈ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ◈ পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে নাচ-গান? দর্শকদের রোষানলে অভিনেতা অপূর্ব ◈ শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট ◈ মানবতাবিরোধী অপরাধে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ◈ সাকিবকে নিয়ে আবার সমস্যায় বিসিবি ◈ পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত: ইউনূস সেন্টার ◈ পদ্মা সেতু নিয়ে ভারতের উচ্ছ্বাস, ফের বাস চলাচল শুরু 

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩৭ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় সরকারকে সংযুক্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ

হাসান মোরশেদ

হাসান মোরশেদ: উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবেলা- দুই ক্ষেত্রেই স্থানীয় সরকারকে সংযুক্ত রাখা বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ তা প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রমাণ করেছেন, সিলেটে। সিলেট সার্কিট হাউজে তাঁর মতবিনিময় সভা লাইভ দেখেছি। সিলেট, সুনামগঞ্জের প্রশাসনিক ব্যক্তিরা ছিলেন, ছিলেন আওয়ামী লীগের পদস্থ নেতৃত্ব এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারের প্রধান নির্বাহী অর্থ্যাৎ সরকার প্রধান যখন মতবিনিময় করেন তখন কথা কম বলতে হয়, টু দ্য পয়েন্ট বলতে হয় এবং সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বলতে হয়। সরকার প্রধান অফুরন্ত সময় নিয়ে আসেন না দুর্যোগকালে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই জায়গায় ব্যর্থ হলেন। তাঁদের ধারাবাহিক স্তুতিবাক্য এবং কে কী করছেন সেই ব্যক্তিগত ফিরিস্তি শুনে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন- কথা সংক্ষেপ করার জন্য। একজন নেতা আগ বাড়িয়ে শুরু করতে চেয়েছিলেন মেয়রের সমালোচনা। প্রধানমন্ত্রী সেই নেতার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন, ‘মেয়র তো ভালো। কাজ করে’। ইনি যে শেখ হাসিনা, ইনি যে খালেদা জিয়া ননÑ এটা আওয়ামী লীগের নেতারাই মনে হয় ভুলে যান।  সিলেটের মেয়র বিএনপির কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে ব্ল্যাংক চেক দিয়েছে সিলেটের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু বিএনপি আমলে যখন আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মেয়র ছিলেন তখন বিএনপি তাকে পাশ কাটিয়ে আলাদা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছিলো। খালেদা জিয়া এবং তখনকার সিলেট বিভাগের একমেবাদ্বিতীয়ম মন্ত্রী সাইফুর রহমান এই সংকীর্ণতা চর্চা করেছেন। বিপরীতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগ সরকার এবং সিলেটের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের থেকে যে সহযোগীতা পেয়েছেন সেটা অবিস্মরণীয়। 

সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে মেয়রের সমালোচনা করতে গিয়ে বরং প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে তাঁর জন্য প্রশংসাবাক্য বের করিয়ে আনলেন। এটা শেখ হাসিনার উদারতা। আরিফুল হকের সৌভাগ্য। মেয়র আরিফুল হকের আরো সৌভাগ্য প্রধানমন্ত্রী ডেকে নিয়ে তাঁর কথা শুনলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী যদিও সকৌতুক মেয়রকে খোঁচা দিয়েছেন তাঁর দল বিএনপির দুর্যোগকালীন নিস্ক্রিয়তা নিয়ে কিন্তু মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। মেয়রও সুনির্দিষ্ট দুটি পয়েন্ট উল্লেখ করে সংক্ষেপে কথা শেষ করেছেন। সরকারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির আরিফুল হককে নয় বরং স্থানীয় সরকারের অংশ হিসেবে সিলেটের মেয়রকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই চর্চা সুন্দর এবং অনুকরণযোগ্য। ভবিষ্যতে যারা আওয়ামী লীগ থেক মেয়র পদে মনোনয়ন চান তাঁদের জন্য এটা একটা শিক্ষা সুযোগ ছিলো- সরকার প্রধানের  সামনে কীভাবে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে হয়। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বেঁচে থাকলে হয়তো তাই করতেন। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরই কেউ কেউ সক্রিয় হয়ে কীভাবে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত  করেছিলেন- এ শহরের ভোটার  হিসেবে অনেকের মতো আমিও জানি। লেখক ও গবেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়