শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩০ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২২, ০১:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খাদ্যমজুত আরও বাড়াতে উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন আছে

ড. আতিউর রহমান

ড. আতিউর রহমান: হঠাৎ করেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ দ্রুত বন্যা নেমে এসেছে। এই দুই জেলার ৮০-৯০ শতাংশ বাড়িই বন্যাক্রান্ত। উত্তরে মেঘালয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এই হঠাৎ বন্যা। এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করলেও শরিয়তপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলাসহ মধ্যাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। আর উত্তরবঙ্গের তিস্তা অববাহিকায় বন্যার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শেরপুর, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এখন দেশের ১২টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ১৮টি পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের রয়েছে গভীর অভিজ্ঞতা এবং অনুকরণীয় ঐতিহ্য। 

১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪ সালের বন্যা মোকাবেলা ছাড়াও আমরা সিডরের মতো দুর্যোগ সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করেছি। আশা করছি সবাই সম্মিলিতভাবে এবারও পারবো। এভাবে পানি আসবে তা মানুষের ভাবনাতে ছিলনা। তাই বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে এবারে নতুন করে ভাবতে হবে। কৃষক, ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের পুরোনো ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রেখে ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণের সংস্থাসমূহকে  অন্তত ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সহজ শর্তের ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের বরাদ্দ বন্যাকবলিত জেলাগুলোর জন্য বাড়াতে হবে। এসব জেলায় পারিবারিক কার্ড বেশি করে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যার্ত এলাকায় প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য নিশ্চয় বেশি করে অর্থ পাঠাবেন। এর বাইরেও এসব এলাকায় সামাজিক ও প্রশাসনিক ত্রাণ উদ্যোগেও তারা অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সামাজিক দায়বদ্ধ তহবিল থেকে নির্ভরযোগ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মতৎপরতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলেও তারা তাদের সিএসআরের অর্থের একটি অংশ দিতে পারেন। সবচেয়ে বড়োকথা হলো বিপদের দিনে আমাদের সবাইকে এই সব বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে চরের মানুষ খুবই দুঃখী মানুষ। তিস্তা অববাহিকা ছাড়াও ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের চরাঞ্চলের বন্যার্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি এনজিও ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি। কভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। 

এর ওপর এলো বন্যা। এমন সংকট কালে যেন অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল ও নিত্যপন্যের দাম ইচ্ছেমতো না বাড়ায় সে দিকে প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারি খাদ্য মজুত সন্তোষজনক বলেছেন খাদ্য মন্ত্রী। শূন্য শুল্কে খাদ্য আমদানির সুযোগ করে দেবার নীতিটিও ভালো। তবে সাবধানের মার নেই। খাদ্যমজুত আরও বাড়াতে উদ্যোগী হবার প্রয়োজন রয়েছে। সবশেষে বলবো আসুন সবাই মিলে এই সংকট মোকাবেলা করি । বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই। লেখক: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়