শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:২১ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ১০:৫১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজে এমনমানুষ অনেক বড় প্রয়োজন

অজয় দাশগুপ্ত : এখন মেরুদণ্ডওয়ালা বাঙালি খুঁজে পেতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দরকার হয়। চারদিকে শুধু জ্বী জ্বী, স্যার, স্যারের এই জমানায় এখনো দুয়েকজন বাঙালি আছেন যাঁরা শিরদাঁড়া সটান করে জীবন পার করে দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের আমলে স্যারকে মন্ত্রী করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এ দেশের  বিবেক নামে পরিচিত বহু বুদ্ধিজীবী যারা বঙ্গবন্ধুর সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি পেয়েছিলেন তাঁরা এমন প্রস্তাব লুফে নিলেও তিনি সময় ক্ষেপন করে তা ফিরিয়ে দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয়ী হবার পর এরশাদ সরকার তাঁকে উপাচার্য হবার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি না বলার পর এরশাদ বিরক্ত হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তাহলে নির্বাচন করলেন কেন? দৃঢ় চেতা অধ্যাপকের জবাব দিয়েছিলেন, অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দায়িত্ব নেননি।  

বাংলা একাডেমির সভাপতি পদের লোভনীয় প্রস্তাব ও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন স্যার। এগুলো তাঁর প্রত্যাখানের অহংকার। হিসেব করে দেখেন এর যে কোনো একটা নিলেই তাঁর চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা কতোটা মুশকিল হতো। কারণ সবগুলোই ছিল অফার, লোভনীয় প্রস্তাব। যে মানুষটি জীবনের শুরুতে পিতার আদেশ না মেনে অর্থনীতির পরিবর্তে সাহিত্যে  ডিগ্রি নেন, সিভিল সার্ভিসে চাকরির লোভ ত্যাগ করেন অবলীলায় তাঁকে মূল্যায়ন করা এই সমাজের পক্ষে অসম্ভব। যৌবনে তাঁর প্রতি মনযোগ ছিল কম। জানতাম তিনি না কি আমাদের পক্ষের কেউ না। এই পক্ষ-বিপক্ষ যখন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে পড়লো তখন দেখলাম দুধ আর পানির তফাৎ কোথায়? এই মানুষ টি ডিগবাজি খান নি। পদ-পদবির লোভে কাবু হননি। যা লিখেছেন যা করেছেন তার স্বচ্ছতা প্রমাণিত। তাঁর কলাম, সময় বহিয়া যায় পড়েই কলাম লিখতে শুরু করেছি। কালক্রমে তাঁর সম্পাদিত সময় পত্রিকায় লিখেছি। পরিচিত হয়ে বুঝেছি কি গভীর জ্ঞান ও পরিমিতিবোধ তাঁর ভেতর।

আজ তাঁর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন। শতায়ু হন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যার। দেশ রাষ্ট্র ও সমাজে এমন মানুষের বড় প্রয়োজন আজ। লেখক: কলামিস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়