শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০৭ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সন্তানকে গণরুমে রেখে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান কীভাবে?

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে) শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের সাথে কোন প্রকার মত বিনিময় বা আলোচনা হয়না। অথচ তারা কিন্তু অংশীজনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশীজন। তাদের সন্তানদের মাধ্যমে তারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ। আমার যদি ক্ষমতা থাকতো প্রতিটি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্যারেন্টসদেরও দাওয়াত দিতাম। তাদের সাথে নবীনবরণের বাহিরেও আলাদাভাবে মতবিনিময় সভা করতাম। তাদের বোঝাতাম ফিক্সড একটি বেতন দিয়েই আপনার দায়িত্ব শেষ না। এর বাহিরেও আপনাদের অনেক করণীয় আছে। তাদের বলতাম যাদের অবস্থা ভালো, যারা সক্ষম তাদের উচিত শিক্ষার্থীর বিভাগকে মুক্ত হস্তে ফড়হধঃব করতে যেন বিভাগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে। আপনাদের সন্তানরা তখনই লেখাপড়ার ভালো পরিবেশ পাবে যখন আপনার সন্তানদের সহপাঠীরা ভালো থাকবে।

বেঁধে দেয়া একটা টিউশন ফি তো থাকেই। যারা পারেন তাদের উচিত এর বাহিরেও স্বপ্রণোদিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সাহায্য করা।  এর বাহিরেও প্রতিবছর অন্তত একবার প্যারেন্টসদের সাথে মিটিং করা উচিত। তাদের জানা উচিত তাদের সন্তানরা কেমন করে থাকছে, কি খাচ্ছে, কেমন পড়াশুনা করছে ইত্যাদি। এইরকম মিটিং করলে আমরা অনেক শিক্ষার্থীর বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব বলে আমার ধারণা। প্যারেন্টসদের জানানো উচিত আপনার সন্তান যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেত তাহলে কি করতেন? আপনাদের মত অনেকের সন্তান কেবল মাত্র একটি ভর্তি পরীক্ষায় একটু খারাপ করার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পেরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। সেখানে টিউশন ফী থেকে শুরু করে থাকা খাওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। 

অতটা না করলেও একদম কিচু করবেন না তা কি করে হয়। আর কিছু যদি না করেন তাহলে অন্তত সরকারকে সঠিক পরিমানে ট্যাক্স দিন এবং একই সাথে সরকাকে চাপ দিন সরকার যেন বেশি করে শিক্ষায় বরাদ্দ দেয়। সরকার যেন আপনাদের সন্তানদের নিয়ে রাজনীতি রাজনীতি খেলা বন্ধ করে। আপনারা অন্তত এইটা নিশ্চিত করুন যেন আপনাদের সন্তানেরা গণরুমে না থাকে। তার জন্য একটি প্রাইভেট ব্যবস্থা অন্তত করুন। আন্ডার গ্রাজুয়েটের ৪ টি বছর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টুকু যদি কাজে লাগাতে পারে কেবল আপনার সন্তান বা আপনাদের লাভ না। দেশেরও লাভ। পৃথিবীর ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্যারেন্টসদের ডাকা হয়। তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়। আপনার সন্তানকে গণরুমে রেখে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান কিভাবে? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই আপনার দায়িত্ব শেষ না বরং আপনার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। নিজের সামর্থ না থাকলে সরকারকে চাপ দিতে হবে তবুও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হেলাফেলা করা যাবে না। এই অপচয় রোধ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়