শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০৪ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তিন যমজ শিশুর নাম স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু রাখা বিষয়ে আতঙ্কের কথাটি বলি!

হেলাল মহিউদ্দীন

হেলাল মহিউদ্দীন: নামের ইতিহাস-সম্পর্কিত কারণে স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু সহজে শনাক্তযোগ্য হবে। ওদের শৈশব বিষাক্ত হবে। সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। ট্রমায় তারা জর্জরিত হবে। ছোট হতেই দেখবে আঙ্গুল উঁচিয়ে লোকজন চেঁচিয়ে চেনাচ্ছে- ‘আরে চিনলি না, এটা সেই স্বপ্ন, ওই যে পদ্মা সেতু বুঝলি না!’  শৈশবে, খেলার সাথী হতে শুরু করে স্কুল-কলেজ-কর্মক্ষেত্রে, সমাজে হাসি-ঠাট্টা-বিদ্রুপ-তীর্যক মন্তব্য ও মানসিক পীড়ন কি ট্রিপ্লেটরা এড়াতে পারবে? সরকার বদল হলে, সময় উল্টে গেলে তারা যে অন্যায়-অবিচার-বঞ্চনার শিকারও হবে না, গ্যারান্টি আছে? 

শিশুগুলোর সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্ত করার, ট্রমা ও মনোযাতনার কারণ হবার দায়ভার কি পিতামাতার নয়? বিনা দোষে যমজদেরই কেন পিতামার স্বেচ্ছাচার ও স্বার্থপরতার বলি হতে হবে? সকল জনক-জননীর আবেগ, রাজনীতি, প্রচার পাবার কৌশল সবকিছুর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেও বলি তাঁরা কি নবজাতকদের জিজ্ঞেস করে তাদের নাম রাখতে পারেন? উত্তর যেহেতু ‘না’ হতে বাধ্য, শিশুদের নাম রাখার বেলায় দায়িত্বজ্ঞান এবং ভবিতব্যবোধ খুবই দরকারি।

দুনিয়াজুড়েই শিশুর নামকরণ একটি গভীর মানবিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সমাজ-পরিচর্যার বিষয়। এমন স্বর্গীয় বিষয়কে ইট-কাঠ-রড-সিমেন্ট-রাজনীতি-প্রচারক্ষুধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ফেলতে অন্যরাও যাতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত না হন, কিংবা প্রতিযোগিতায় নেমে না পড়েন, সেজন্য এই আলাপ। নইলে চুপ থাকতাম। চুপ থাকতে না পারার মূল কারণ জনক-জননী প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়তে চেয়ে সফল হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শুভকামনা জানিয়েছেন। সমস্যা হচ্ছে এবার তাঁর নজরে পড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হলে (পোড়ার দেশে এ রকমটিই ঘটে) অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যত সামাজিক নিপীড়নে বিপন্ন হবে! ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়