শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০১ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০১:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সংকট চলছে

হাসান মোরশেদ

হাসান মোরশেদ: ‘এটিএন নিউজ এক্সট্রা’তে সিলেট সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ ছিলো। সিলেট শহরের কেন্দ্রে বসেই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ঝামেলার কারণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কথা বলতে পারিনি। যা বলতে চেয়েছিলাম এখানে গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করি:-

১. ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সংকট চলছে। আজকে সাত-আটদিন। সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অনেকগুলোতেই ত্রাণ পৌঁছায়নি। স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষে সব জায়গায় পৌঁছানো এখনো সম্ভব না। কিন্তু বিশেষায়িত বাহিনীর অবস্থা কী? বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছুঁড়ে ফেলা ত্রাণের বস্তার আঘাতে তাহিরপুরে আহত কয়েকজন, এঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন!  তাহিরপুর কি বান্দরবনের গহীন জঙ্গল যে হেলিকপ্টার থেকে বস্তা ছুঁড়ে ফেলতে হবে? 

সুনামগঞ্জের ত্রাণের রুট সিলেট হওয়া উচিত নয়। মূল পয়েন্ট হতে পারতো ভৈরব। সুনামগঞ্জের জন্য সেখানে সব ত্রাণ জমা থাকবে। বাল্কহেড বা কার্গো করে একাধিক সাব পয়েন্টে আসবে ত্রাণ। যেমন আজমিরীগঞ্জে যদি বাল্কহেড/কার্গো অবস্থান নেয় সেখান থেক স্পিডবোট/ট্রলারে করে শাল্লা উপজেলা ও দিরাইয়ের কিছু অংশে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সাচনার আশেপাশে যদি আরো বাল্কহেড/কার্গো অবস্থান নেয় সেখান থেকে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর এবং দিরাইয়ের কিছু অংশে ছোট বোটে করে বিতরণ সম্ভব।  দোয়ারা বাজারে অবস্থান নিলে সেখান থেকে সুনামগঞ্জ সদর এবং ছাতক ত্রান বিতরণ সম্ভব। 

[২] আগেও এই কথাটি বলেছিলাম। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উক্ত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা পূর্ব প্রস্তুতি নেবে। প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো বড় অবকাঠামো যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হবে, প্রতিটি ইউনিয়নে যথেষ্ট খাদ্য মজুত থাকবে। সুনামগঞ্জের যে হাওরগুলো দেশের  মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল সরবরাহ করে সেখানে মানুষ খেতে পারছে নাÑ এটা একটা কথা হলো? প্রতিটি ইউনিয়নে ঐ ইউনিয়নের জনসংখ্যার অনুপাতেই  খাদ্য মজুত রাখতে হবে। ‘লজিক’-এর মতো প্রকল্পগুলো আরো বিস্তার করাতে হবে, যথেষ্ট পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট ও নৌকা থাকতে হবে। 

[৩] প্রকৃতি রাষ্ট্রসীমা মানে না। প্রকৃতিগতভাবে সিলেট অঞ্চল মেঘালয় ও আসামের সাথে সংযুক্ত। ওদিকে বৃষ্টি হলে এদিকে নদীতে পানি আসবে, ওদিকে ভূমিধস হলে এদিকের নদীর তলদেশ ভরতে থাকবে। রাজনৈতিক গুঁতাগুঁতি করে লাভ নাই। উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে সহাবস্থান করতে  হবে নিজেদের স্বার্থেই।

আমি মেঘালয়ে পড়ালেখা করেছি দুই যুগ আগে। ওখানে এখন ডিফরেস্টিং, ওপেন মাইনিং অনেক বেশি হচ্ছে। ফলে ভূমিধসও তীব্র। আমাদের নিজেদের ভালোই  জন্যই ওদিকে যাতে বন-বিনাশ এবং খনন কম হয় সেটার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে  হবে। এদিকে ভারতের কোনো বাঁধ নেই। জৈন্তিয়া হিলসে একটা ছোট্ট বাঁধ আছে যা রান অফ মডেলের অর্থাৎ পানি আটকে রাখে না,  কেবল স্রোত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। টিপাইমুখ বাঁধ আদৌ হয়নি। ফারাক্কা এখান থেকে বহু বহু দূরে। আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরার মানুষও ক্লাইমেট চেঞ্জের শিকার হচ্ছে। এটাকে দীর্ঘমেয়াদে একটা আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার ভেতর নিয়ে আসতে হবে। লেখক ও গবেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়