শিরোনাম
◈ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দুই হাতের রগ কর্তন ◈ ‘শিগগিরই সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবে বিএনপি’ ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ◈ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ◈ নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো ◈ ‘গাজী আনিসের শরীরে আগুন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ◈ ‘নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ উনি আগুন নিয়ে খেলতে পারেন না’, বললেন মমতা ◈ মোহাম্মদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ ◈ চীনে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজ, ১২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ১১:০৭ দুপুর
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ১২:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাবির ওয়েবপেজে শিক্ষকদের পূর্ণ প্রোফাইল বাধ্যতামূলক করা উচিত

কামরুল হাসান মামুন

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে: অধ্যাপক হারুন অর রশিদ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য ছিলেন তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। আমার মনে আছে তখন প্রায়ই রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রতিটি বিভাগে চিঠি আসতো শিক্ষকরা যেন তাদের নিজ নিজ ওয়েবপেইজ নিজ দায়িত্বে হালনাগাদ করে। অর্থাৎ সবাই যেন নিজের একাডেমিক পরিচয়টি যেন ওখানে দেন। একাডেমিক পরিচয় কি

একাডেমিক পরিচয় মানে হলো তার একটি একাডেমিক সিভি যেখানে থাকবে বর্তমান পদবি, কোন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কি কি ডিগ্রী অর্জন করেছে, কতজন পিএইচডি/মাস্টার্স সুপারভাইস করেছেন, এক কপি ছবি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গবেষণা পত্রের পূর্ণ তালিকা। সেই তাগাদা অধ্যাপক হারুন অর রশীদ ২০০৯ সালে প্রো-উপাচার্য হওয়ার পর  থেকে শুরু করেন এবং এখন পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ বছর যাবৎ তাগাদা অব্যাহত আছে কিন্তু আজ পর্যন্ত ৩০% শিক্ষকও এই কাজটি করেননি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজ হলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায়। আমাদের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, তাদের অভিবাবক কিংবা দেশের বাহির থেকে কেউ যদি কোন বিভাগ বা এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্মন্ধে জানতে চায় সেটা এখন আর ফিজিক্যাললি ক্যাম্পাসে এসে জানতে হয় না। du.ac.bd তে ক্লিক করে প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক সম্মন্ধে জেনে নেওয়া যায়। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছে এবং সে বর্তমানে একটিভ গবেষক কিনা বা কতগুলো গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে, কেমন জার্নালে প্রকাশ করেছে ইত্যাদি সব কিছু জেনে নেওয়া যায়। এই ওয়েবপেজ দেখেই একজন শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওই বিভাগে সে পড়বে কিনা, ওই শিক্ষকের সাথে গবেষণা করবে কিনা ইত্যাদি। 

এখন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজ ভিজিট করে একেকটি বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বারের লিস্টে ক্লিক করে অনেকের ছবিই নাই। তারপর আবার সিভি নাই। কারো কারো এই দুটো থাকলেও গবেষণপত্রের তালিকা নাই। মোটা দাগে প্রায় ৭০% বা তার বেশি শিক্ষকের গবেষণা পত্রের তালিকা নাই। এইটা মানা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধ্যাপক হতে হলে ন্যূনতম ১২টি গবেষণাপত্র লাগে। তাহলে সকল অধ্যাপকের ন্যূনতম ১২টি গবেষণা পত্র নিশ্চই আছে। এই ১২টি গবেষণাপত্রের তালিকা দিলেওতো শূন্য থাকার চেয়ে অনেক ভালো। তেমনি সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক হতেও ন্যূনতম যথাক্রমে ৩ এবং ৭টি প্রকাশিত গবেষণাপত্র লাগে। সবাই যদি তাদের ওয়েবপেজে এই তালিকা সহ অন্যান্য সব ডকুমেন্ট আপলোড করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বহির্বিশ্বে অনেক উন্নত হবে। অন্তত এখন দৈন্যদশা থেকে মান অনেক বৃদ্ধি পাবে। কোন ফ্যাকাল্টি মেম্বারের পেইজে গিয়ে ক্লিক করে শূন্য বা ব্ল্যাংক পাতা আসলে সেটা খুবই annoying হয়। 

এত তাগাদা দেওয়া সত্বেও শিক্ষকরা কেন এটি করেন না সেটা আমার বোধে আসে না। এইটা না করার পেছনে হয়ত নানা কারণ থাকতে পারে। একটি কারণ হতে পারে কে কি করে সেটা exposed হয়ে যাবে। যেই গবেষণাপত্র দিয়ে প্রমোশন হয়েছে সেগুলো যে মানসম্মত না সেটা exposed হয়ে যাবে। কারো হয়ত ২০ টা প্রকাশিত আর্টিকেল আছে যার ১৫টিই দেশীয় গার্বেজ জার্নালে। এইগুলো আপলোড করলে সেও exposed হয়ে যাবে। এক সময় পিএইচডি করার সময় কিছু গবেষণা করেছে। তারপর ন্যূনতম প্রমোশনের জন্য যতগুলো আর্টিকেল প্রকাশ করার দরকার ততগুলো করে আর করেনি। অর্থাৎ অধ্যাপক হওয়ার পর হয়ত আর কিছুই করেনি যা ওয়েবপেইজে দিলে exposed হয়ে যাবে।

ভারতের আইআইএসসি বা আইআইটির ওয়েবপেইজ একটু ঘুরে দেখুন। কত রিচ। বিশেষ করে আইআইএসসি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ফ্যাকাল্টিদের প্রোফাইল এমআইটি, হার্ভার্ড কিংবা কেমব্রিজ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিদের মত। তাই তাদেরটা তুলনায় আনছি না। পাকিস্তানের Quaid-i-Azam University এইবার টাইমস হাইয়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং-এ অবস্থান ৫০১-৬০০ এর মধ্যে। যেখানে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১-১০০০ এর মধ্যে। পাকিস্তানের আর ৬টি প্রতিষ্ঠান আছে যাদের রেঙ্কিং ৬০০-৮০০-র মধ্যে। Quaid-i-Azam University-র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবপেজ ভিজিট করলেই বুঝতে পারবেন ওদের রেঙ্কিং কেন এত ভালো। প্রথমত এদের সকল শিক্ষকের ন্যূনতম যোগ্যতা পিএইচডি। দ্বিতীয়ত এদের সকল শিক্ষকের ওয়েবপেজ ভিজিট করলে তাদের সকলের প্রকাশিত গবেষণাপত্রের পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায় এবং প্রায় সকলেরই অত্যন্ত গড়ে ২৫-৩০ টি ভালো মানের গবেষণাপত্র আছে এবং কারো কারো ৬০ থেকে ৮০টিও আছে। তার অর্থ হলো রেঙ্কিং-এ ভালো করতে হলে শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা হওয়া উচিত পিএইচডি এবং সকল ফ্যাকাল্টির গবেষণাপত্রের পূর্ন তালিকাসহ পূরণ একাডেমিক সিভি থাকা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক হারুন অর রশিদের প্রথম চিঠির পর পরই আমার নিজের ওয়েবপেইজে আমার সব তথ্য দেই এবং এখনো তা নিয়মিত আপডেট করি। কমেন্ট থ্রেডের প্রথম লিংকে আমার ওয়েবপেইজের লিংক দিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেইজে নিজের পূর্ণ প্রোফাইল আপলোড করা সকল শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা উচিত। তাহলে ভালো গবেষণা করার একটা চাপ তৈরী হবে। মনে রাখতে হবে পদার্থবিজ্ঞানের কাজের সংজ্ঞানুসারে চাপ বা বল/প্রতিজন ব্যতীত কাজ শূন্য এবং এটা না করাই আমাদের কাল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়