শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০২:৩৮ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০২:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সমস্যা, সমস্যার সমাধান ও ভাষা

মঈন চৌধুরী

মঈন চৌধুরী: আমাদের পরিচিত এই বিশ্বজগতের জন্মমুহূর্তে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে কিছু গণিতনির্ভর সমস্যার। যতদিন জীবন আসেনি পৃথিবীর, ততদিন প্রকৃতি নিজেই জগৎসৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছে তার নিজস্ব ভাষায়, গণিতযুক্তিকে গ্রাহ্য করে। এ সময় বিভিন্ন মৌলকণা সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন মৌলিক বস্তু, বস্তুপরমাণু যোজনী-গণিতের সাথে গণিত মিলিয়ে, তার নিজস্ব যোগ-বিয়োগের চরিত্র নির্ধারণ করে, মিশে গেলে অন্য কোনো পরমাণুর সঙ্গে যৌগ গড়ার তাগিদে। কিংবা এমনও বলা যায়, এরকম যোজনীনির্ভর যৌগের সৃষ্টি হয় ভারসাম্যহীন একটা সমস্যার সমাধান করার জন্যই। প্রাকৃতিক শক্তির কোয়ান্টামগুচ্ছ তার দেশ-কালকেন্দ্রিক বিভিন্ন চরিত্র নিয়ে সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন পার্থিব সমস্যা, আবার প্রাকৃতিক কারণেই কোনো এক নির্দিষ্ট গণিতকে গ্রাহ্য করে সমাধান হয়েছে, সেই সমস্যাটির। আজও এই পৃথিবীতে আমরা যে ভৌত পরিবর্তন লক্ষ্য করি তার প্রেক্ষাপটে অবস্থান করে বিভিন্ন পর্যায়ের গাণিতিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া। পাহাড়, নদী, সাগর, মহাসাগর, খাল, বিল এ-সবের অবস্থান ও বিবর্তন এবং বৃষ্টি, বজ্র, ভূমিকম্প ইত্যাদির সৃষ্টি ও বিনাশের পেছনে কাজ করছে হরেক রকম গণিতসূত্র।

এই গণিতসূত্রকে কেন্দ্র করেই বিবর্তিত হচ্ছে  বিশ্বজগৎ। বিভিন্ন  মৌলিক ও যৌগিক বস্তুর গণিতকে নির্ভর করে পৃথিবীতে হঠাৎ যখন জীবন এলো, তখন থেকেই সৃষ্টি হলো এক নতুন ধরনের জটিল জৈবগণিতের। আর জীবনের এই গণিতকে অবলম্বন করেই জন্ম নিল জীবন প্রকাশের এক অসাধরণ উপাদান-ভাষা ও ভাষার যুক্তি এবং তা অবস্থান নিল জীবনের অবচেতন চেতনায়। জৈবগণিত-নির্ভর ভাষা ও ভাষার যুক্তি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবেই বন্দি হলো জীবন-কোষে, ক্রোমোজমের অনন্ত কোয়ান্টাম-নকশায়। জীবনের সাথে যেহেতু জন্ম ও মত্যু এবং জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী ক্রিয়া-বিক্রিয়া-কেন্দ্রিক দেশ-কাল অবস্থান করে, সেহেতু বংশ-বৃদ্ধি, খাদ্য-গ্রহণ, পরিবেশ-সমন্বয় ইত্যাদির মতো বিষয় নিয়েও সৃষ্টি হলো বিভিন্ন সমস্যার আর এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে করতেই জীবন বিবর্তিত হয়ে ক্রমান্বয়ে উপস্থিত হলো উন্নততর জৈব-জীবন সংগঠনে। উন্নতর জীবন-সংগঠনে উপস্থিত হওয়ার পর ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণে যে-জীবন প্রকৃতিকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারেনি, কিংবা সমাধান করতে পারেনি বৈশ্বিক সমস্যার, সে জীবনের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এবং প্রাকৃতিক সমস্যা-সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত জড় ও জৈব ভাষার যৌক্তিক ক্রিয়া-বিক্রিয়াকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগে ডাইনোসোরাস প্রজন্ম পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এখনও জীবন শুধুমাত্র সমস্যা সমাধান করে বাঁচার জন্যই ভাষা ব্যবহার করে। এখনো একটি পাখি প্রজননের কালে সুর ধরে গান গায়, ময়ূর পেখম তুলে নাচে, আর একটি বানর বাঘ দেখলেই আমলকী গাছে ডাল ঝাঁকিয়ে চিৎকার করে সাবধান করে দেয় গোত্রের সাথীদের। বানরের অঙ্গভঙ্গি আর শব্দনির্ভর ভাষা প্রাকৃতিক কারণে হরিণও বুঝতে পারে। বানরের ভাষাকে বুঝে নিয়ে হরিণও পালায় আমলকীর লোভ সামলে নিয়ে। একটি অন্ধ গাছ আলোর ভাষা বোঝার ফলেই এঁকেবেঁকে উঠে যায় আকাশের দিকে, অগ্রাহ্য করে আশেপাশে অন্ধকারের পরিবেশ। যে জীবন ভাষা বোঝে না কিংবা যার ভাষাকে জোর করে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, প্রকৃতি তার জন্য নিয়ে আসে মৃত্যুর অভিশাপ। মৃত লাশ জীবনের সমস্যা সমাধান না করেই তৈরি করে জড়ের গণিত। হোমোসেপিয়েস- সেপিয়েনস নামের মানব-প্রজন্মও বিভিন্ন দেশ-কালে বহুমাত্রিক যুক্তিকে গ্রাহ্য করে সমস্যার সমাধান করতে করতে বর্তমানে এসে পৌঁছেছে। বিভিন্ন মাত্রার জাগতিক সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষও ব্যবহার করেছে ইন্দ্রিয়নির্ভর দেহের ভাষা, চোখের ভাষা, হাতের ভাষা, মুখের ভাষা, যৌন ভাষা আর লিখিত ভাষাচিহ্নকে। ভাষা শুধুমাত্র মুখের হয় আর লিখিত হয়এ ধারণাও এখন আর সত্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের ইন্দ্রিয়নির্ভর যে-কোনো কর্মকান্ডই যেহেতু অর্থবোধক ভাষা হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে, সেহেতু জাগতিক যে-কোনো সমস্যা ও তার সমাধান মানবিক ইন্দ্রিয়কে গ্রাহ্য করেই আবর্তিত হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে,  জন্মের পর মানুষ তার ছয় ইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, মুখ, যৌনাঙ্গ ও ত্বক) দিয়েই পরিবেশ-পৃথিবীর কণাতরঙ্গচিত্রকে মস্তিষ্ক-নিউরনে সংরক্ষণ করে থাকে এবং এ ধরনের জৈবিক কর্মকান্ডে ক্রোমোজমবাহিত সহজাত প্রবৃত্তির ভূমিকাও থাকে প্রত্যক্ষভাবে। লেখকের মতে, অহংসম্পর্কীয় চিন্তাভাবনা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে মানুষ একজন মানুষ তার যৌনাঙ্গকেও একটি পৃথক ইন্দ্রিয় হিসেবে প্রাধান্য দেয় এবং এ কারণে ভাষাকেন্দ্রিক সমস্যা ও সমাধানের মানুষের যৌনাঙ্গকে একটি পৃথক ইন্দ্রিয় হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ফ্রয়েড, ইয়ং, পাবলভ, লাকাঁ প্রমুখের তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে ইন্দ্রিয় হিসেবে যৌনাঙ্গকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ