শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০২:২৫ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০২:২৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমাদের একটা গোপাল ভাঁড় প্রয়োজন!

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ: ভারতীয় স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান কুনাল কামরা পলিটিক্যাল স্যাটায়ার করে বেশ নাম কামিয়েছেন। একবার তাকে এক রাজনৈতিক নেতা বলেছিলেন, ‘কমেডি করছো, ভালো কথা। আরও কমেডি করো, বেশি বেশি করে করো। কিন্তু রাজনীতিটা আমাদের ওপর ছেড়ে দাও না কেন?’ উত্তরে কুনাল বলেছিলেন, ‘সেটাই তো করেছিলাম। এরপর আপনারা কমেডি করতে শুরু করলেন, তো আমরা কী করবো?’ বাংলায় একসময় গোপাল ভাঁড় ছিলো। এখন? এপারওপার দুপার বাংলাতেই কমেডিতে প্রজ্ঞা, ধী, কথার মারপ্যাঁচের বদলে সস্তা চটুল কিছু বলে পেছনে রেকর্ড করা ‘হা হা’ বাজিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোটাই হচ্ছে রেওয়াজ।

গোপাল ভাঁড় খুব তামাক খেতে ভালোবাসতেন। সেটা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পছন্দ না। একদিন এক তামাক ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কৃষ্ণচন্দ্র দেখলেন, ক্ষেতের মাঝখানে এক গাধা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তামাক খাচ্ছে না। গোপালকে জব্দ করার এই সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? অনেক ভেবেচিন্তে কথা গুছিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, ‘দেখলে গোপাল? গাধাতেও তামাক খায় না।’ এর জবাব দেয়ার জন্য গোপালকে অবশ্য খুব চিন্তা করতে হলো না। তার ঝটপট উত্তর, ‘মহারাজ, এমনও তো হতে পারে যে গাধাতেই তামাক খায় না।’ এই কথা বলার পর গোপালের প্রাণদণ্ড হওয়ার কথা। কিন্তু গোওয়ালের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে মুগ্ধ হয়ে হা হা করে হেসে উঠে কৃষ্ণচন্দ্র উলটো তাকে বখশিশ দিয়েছিলেন।

গোপাল নামে আসলেই কেউ ছিলেন নাকি কেবলই একটা মিথ, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। তবে ইতিহাস বলে কেবল গোপাল নন, এই অঞ্চলের নানা রাজদরবারেই একসময় কবি, ভাঁড়, শিল্পীরা সম্মানের স্থান পেতেন, এখন পান চাটুকাররা। একসময় গোপালরা গর্দান যাওয়ার ভয় নিয়েও রাজ্য পরিচালনায় রাজার ভুলগুলো হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ড ও কথার মাধ্যমে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এখন কী হয় সবাই দেখতেই পান। এই কথার সঙ্গে এই ছবির কী সম্পর্ক? একটা কারণ হচ্ছে, ‘পিক ফর অ্যাটেনশন’। ছবি দিলে নাকি ফেসবুকে রিচ বাড়ে। রিচ বাড়লেই তো বেশি মানুষ পড়বেন, নাকি? 
আরেকটা কারণ একটু বিস্তারিত বলতে হবে। আমার পরিচিতদের অনেকে আমাকে বদরাগী হিসাবে জানেন, অনেকে মনে করেন কমেডিয়ান। আমি মনে করি, যার আচরণে যেমনটা প্রাপ্য, আমি তার সঙ্গে তেমন। আমি মনে করি, আমার মুখোশগুলোর অনেকগুলোই অনেকে দেখেছেন, মুখ কেউ কখনও দেখেননি। এসব দার্শনিক কথাবার্তা থাক। তবে একজন ভালো স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান বা গোপালের মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ভাঁড় হতে পারলে গর্বই বোধ করতাম।

মানুষকে রাগানো সহজ, প্রাণ খুলে হাসাতে পারা খুব কঠিন কাজ। বিশেষ করে গর্দানের ভয় থাকলে তো কথাই নেই। প্রচণ্ড হাসির কৌতুক শুনেও হঠাৎ কাউকে রেগে গিয়ে বলতে শুনেছি, ‘ইয়ারকি করো ভালো কথা। কিন্তু সবকিছু নিয়ে ইয়ারকি করা ভালো না।’ ফলে জনগণেরও ভূমিকা আছে। কান্নাটা এমনি এমনিই আসে। দুঃখ, কষ্ট, অভিমান, হতাশা, বিষণ্নতা, একাকীত্ব ইত্যাদি নানা কারণেই মানুষ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই কাঁদে। কিন্তু হাসার জন্য রীতিমতো মন ও মগজকে প্রশিক্ষিত করতে হয়। আমাদের একটা গোপাল ভাঁড় প্রয়োজন। আপনার সবচেয়ে পছন্দের কমেডিয়ান কে?follwo ?? @anupamdkan on instagram. লেখক: সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ