শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০২:১৪ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০২:১৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সমস্যা ভোটের পদ্ধতিতে নয়, রাজনৈতিক বোঝাপড়ায়

মঞ্জুরে খোদা টরিক

মঞ্জুরে খোদা টরিক: ড. জাফর ইকবাল বলছেন, ‘এক টুকরো কাগজ মানে কোথাও গাছ কাটা পড়েছে, ...পেপারের ধারণা... অত্যন্ত প্রিমিটিভ একটি আদিম আইডিয়া...।’ যাক এতোদিনে জানলাম, কাগজের ভোট হলো পরিবেশ বিরোধী। বাংলাদেশে ভোট নিয়ে বিতর্ক কি পরিবেশ ধ্বংস-রক্ষার প্রশ্ন নিয়ে? না ভোটের গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে? আর কাগজ শুধু গাছ থেকে হয় আপনি একজন বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে এ কথা বলেন কী করে? রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা ময়শা, খড়, ঝরাপাতা-ছাতা, কাপড়, কচুরিপানা আরো অনেক কিছু থেকেই হয়। তা যখন গাছ কাটা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন হয় তখন আপনি কোথায় থাকেন? সরকারের নীতিকে সমর্থন করবেন, সরাসরি করেন, ভান-ভনিতার দরকার কী? আপনার আর কি গোপন আছে?

বাংলাদেশ হচ্ছে অন্তহীন বিতর্কের দেশ। এমন কোনো বিষয় নেই যে তা নিয়ে বিতর্ক নেই? এমনকি যে বিষয়গুলো মীমাংসিত তা নিয়েও বিতর্ক আছে। যা অনেক আগে মীমাংসা হবার কথা ছিল তা নিয়ে বিতর্ক। আর খুব সহজে মিমাংশা যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক। ভোট কীভাবে কোন পদ্ধতিতে হবে? কাগজে না মেশিনে তারও মীমাংসা হয়নি। ভোট রাজনীতির খুব প্রাথমিক ও মৌলিক একটা ধারণা, তাও স্বাধীনতার ৫০ বছরে ঠিক হয়নি। কানাডার অন্টারিওতে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। ‘অত্যন্ত আদিম আইডিয়ার’ কাগজের ভোটই হচ্ছে, কিভাবে? শুনুন। (১) আনুষ্ঠানিক ভোটের দিন ২রা জুন, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ পর্যন্ত। (২) তার আগে ২২ থেকে ২৮ মে, সকাল ১০টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত বিরতিহীন অগ্রীম ভোট চলছে। (৩) চিঠির মাধ্যমে ভোট দেয়া যাবে। 

সেটা ৪ থেকে ২৭ মে’র মধ্যে পত্রের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। ২ জুন সন্ধা ৬টার মধ্যে নির্বাচন অফিসে তা পৌছাতে হবে। তাহলে কি হলো? প্রায় একমাস ধরে চিঠির মাধ্যমে ভোট, এক সপ্তাহ ধরে অগ্রীম ভোট, এবং মূল ভোটের দিন টানা ১২ ঘন্টা তারা ভোট দিতে পারছেন। ভোটারের সংখ্যা এককোটিরও কম।

কীভাবে ভোট হচ্ছে? কাগজের ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট হচ্ছে। একটা কালো ফোল্ডারের মধ্যে এ-ফোর সাইজের কাগজের মধ্যে সেই ভোট থাকে। যাকে ভোট দেওয়া হবে তার নামের পাশে ক্রসচিহ্ন দিতে হয়। তারপর সেই ফোল্ডার মেশিনে ধরা হলে কাগজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোল্ডার থেকে বেড়িয়ে মেশিনের মধ্যে চলে যায়। সেখানে অটোমেটিক গণনা হয়ে যাচ্ছে। আর যারা ভোট দিচ্ছেন তাদের তথ্য মূল ডাটা সার্ভারে চলে যাচ্ছে। এখানে কাগজেই ভোট হচ্ছে এবং যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে তাকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ঝামেলাহীন। আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা সরকারি টাকা খরচ করে আলু-পটল-মাছ চাষ, খিচুরি রান্না  দেখতে বিদেশ যায় কিন্তু তাদের কখনো বিদেশে ভোট কি করে হয়.. সেটা দেখতে বিদেশে যেতে দেখলাম না। সেটা কেন? তার মানে এই মহান কর্ম ও অভিজ্ঞতায় তারা স্বয়ংসম্পন্ন ও পারদর্শী। এর এক্সপার্টিজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং তারা এখন রপ্তানি করতে পারবে, নয় কী?

ভোট মেশিন বা কাগজ যাই হোক, দরকার রাজনৈতিক পরিবেশ ও বোঝাপড়া, যেটা আমাদের দেশে নেই। সেটা না থাকলে কোনো পদ্ধতিই কাজে লাগবে না। লেখক ও গবেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়