শিরোনাম
◈ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দুই হাতের রগ কর্তন ◈ ‘শিগগিরই সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবে বিএনপি’ ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ◈ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ◈ নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো ◈ ‘গাজী আনিসের শরীরে আগুন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ◈ ‘নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ উনি আগুন নিয়ে খেলতে পারেন না’, বললেন মমতা ◈ মোহাম্মদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ ◈ চীনে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজ, ১২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০২:১৩ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ০২:১৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশি ফল খাওয়ার উপযোগী করে পরিবেশন বেশ পরিশ্রমসাধ্য!

শোয়েব সর্বনাম

শোয়েব সর্বনাম: আমাদের দেশি ফলগুলা খাওয়ার উপযোগী করে পরিবেশন বেশ পরিশ্রমসাধ্য। আম, লিচ, কলা, বরই, পেয়ারা ও জামরুল এইরকম কিছু স্মার্ট ফ্রুটস আছে যদিও, বাট ব্যাকডেটেড ফলগুলাই বেশি। তরমুজ বিচি সহই খাওয়া যাবে কিনা এই সিদ্ধান্ত নিতেই জীবনের অর্ধেকটা কাটায়ে দিলাম। অথচ অস্ট্রেলিয়ার তরমুজগুলাতে বিচি নাই। ফলে, ওইখানকার লোকেদের তরমুজ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হচ্ছে না। তারপর, এই কাঁঠাল জিনিসটা খাওয়ার মতো পরিশ্রমসাধ্য ফল জগতে কমই আছে। অনেকগুলো প্রসেস। কাঁঠাল গাছে থাকা অবস্থায়ই গোফে তেল দিয়ে বসে থাকতে হবে। বড় সাইজের পাকা কাঁঠাল ভাঙার জন্য শক্তিশালী লোক খুঁজে বের করতে হয়। তারা হাতে তেল মাখায়ে চ্যাগায়ে বসে কাঁঠাল ভাঙেন। ধুরন্ধুর ধরনের লোকেরা আবার এই কাঁঠাল ভাঙেন অন্যের মাথায়। এতো ঝামেলার পর একটা ১ কেজি সাইজের কাঁঠাল ভাঙলে বড়জোড় ২০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগি ফল পাওয়া যাবে। তার উপর, লোকাল ফলগুলো একটু অভদ্রগোছের। এইগুলোর রস গড়ায়ে পরবে সারা শরীর মাখায়ে যাবে। আম কিনে এনে অনেকে কিউব কিউব করে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে তুলে খায়। এতো পরিশ্রমের কোনো মানে হয়? 

গাব জিনিসটা দেখতে যতো সেক্সি খাইতে ততো ভালো না। চালতা কীভাবে খাওয়া যায় আমি এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। রান্না বা আচারের বাইরে এই ফল ন্যাচারালি খাই নাই জীবনেও। এক একটা জাম্বুরা প্রসেস করতে যে পরিমাণ এনার্জি ব্যয় হয়, ওই জাম্বুরাটা খেয়ে সেই পরিমাণ এনার্জি গেইন করা সম্ভব না। একই কথা আনারসের ক্ষেত্রেও বলা যাবে। কিংবা পানিফল, তালের শ্বাস এইগুলোর খোসা ইত্যাদি ছিলে কেটে ফেলে টেলে খাওয়ার জন্য যা অবশিস্ট থাকে, পরিশ্রম অনুযায়ি তা পোষায় না। আমার ধারণা ছিল জগতের সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ফলটার নাম নারিকেল। দা জাতীয় ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার না করে এই ফল উপভোগ করা অসম্ভব। ছোটকালে দেখতাম ঢাকার আশেপাশের গ্রামের দিকে একটা ফল পাওয়া যেতো, আমরা বলতাম মাখনা। ফলটা অনেকদিন দেখি না, যেহেতু ঢাকার আশেপাশে আর কোনো গ্রাম নেই। আজকে গ্রাম থেকে আত্মীয়রা আসার সময় অন্যান্য ফলের সাথে এই জিনিসটাও বস্তা ভরে নিয়ে আসছে। এই মাখনা জিনিসটা দুনিয়ার সবচেয়ে পরিশ্রমসাধ্য ফল। বড় সাইজের আনারজাতীয় ফ্রুট এই মাখনা, দেখতে কুৎসিত ও পিছলা, গায়ে কাঁটা কাঁটা। অনেকেই হয়তো এই ফলটা চিনেন না বা ভিন্ন নামে চিনেন। 

মাখনা একটা চ্যালেঞ্জিং ফ্রুট। এই ফলটা এনজয় করতে চাইলে আপনার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা দিতে হবে। ডুব দিয়ে গভীর পানির অনেক তলায় গিয়ে এই ফল সংগ্রহ করতে হবে, এইগুলো ওইখানেই হয়। বাট যেকোনো খানে পানিতে ডুব দিলেই মাখনা পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নাই। বড় করে দম নিয়ে সারাটা পুস্কুনির তলা হাতায়ে হাতায়ে পরে একখানে হয়তো টের পাওয়া যাবে কাঁদার ভিত্রে ডুবে আছে এই মাখনার বাচ্চা মাখনা। ফলটা ভাঙলে ভেতরে কয়েকটা লেয়ারে শক্ত ও পিছলা ধরনের গোটা। সেই গোটা খুলে নিয়ে দাঁত দিয়ে ভাঙতে হবে। তার ভিতরে পাওয়া যাবে সাদা রঙের বস্তু। চামচের পিছনের অংশ দিয়ে খোঁচায়ে খোঁচায়ে সেইগুলা সাদা অংশটুকু বের করলে তারপর পাওয়া যাবে জগতের সবচেয়ে বিস্বাদ ও বিরক্তিকর ফল মাখনা। ফলটা খাওয়ার নিয়ত করলেই ধৈর্যশক্তির একটা পরীক্ষা হয়ে যায়। 

মাখনা অনেকে শখ করে খায়, ঢাকাইয়াদের প্রিয় ফল। জগতে এতো খাবারের জিনিস থাকতে গভীর পানিতে ডুব নিয়ে এই জিনিসটা উদ্ধার করে এনে কেন খেতে হবে সেইটাও আমি বুইঝা পাই না। তারপরও দুপুরের দিকে একটা মাখনা ভাঙতে...। এখনো প্রসেসিং...। একটা আস্ত মাখনা ভাঙলে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ খাওয়ার উপযোগী ফল পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে কষ্ট লাগে পিছলা পিছলা গোটাগুলাকে ভাঙার আগে সাফ করতে। ইউটিউবে বেটার কোনো ইন্সট্রাকশন ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে না। ফুড ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, খাওনের দোকানে দোকান ঘুরাঘুরি বাদ দিয়ে এইসব ফল কাটাছিলার স্মার্ট প্রসেস নিয়ে ব্লগ করতে পারেন। উপকার হবে মানুষের। আপাতত দোয়াপ্রার্থী। লেখক: কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়