শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০২:১০ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ১১:৫৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাহিত্য কিংবা সংগীতে কেন একক অবতার হতে পারলেন না নজরুল?

মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম: কাজী নজরুল ইসলাম কেন বাংলাদেশে সাহিত্য কিংবা সঙ্গীতে এককভাবে অবতার হতে পারলেন না? প্রশ্নটির জবাব যেদিন পাবো, সেদিন বিশদ লিখবো। বিশ বছর আগে দৈনিক পূর্বকোণে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলাম। ‘আমরা নজরুলের দ্বিতীয় বোবামৃত্যু প্রত্যক্ষ করছি’ শিরোনামে। এই আলভোলা কবিমানুষটি মাতুলালয় সূত্রে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হন। খুব ছোটবেলায় ঢাকায় তাঁর কোলে চড়ার অমূল্য স্মৃতিটিও বাসী হয়ে গেছে সেই কবে...! সে যাই হোক, অল্প স্মৃতিচারণ পুনরায় শেয়ার করছি।

১৯৮০ সালে তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি, নজরুল সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। গেয়েছিলাম ‘আমি যার নূপুরের ছন্দ ...’ গানটি। তবে গান শেখার সময় মূল ঝোঁক ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীতে।

মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে যা হয় আর কী! আমার কাছে নজরুলের তুলনায় অনেক সহজ লাগতো রবিঠাকুরের গান। ওস্তাদ যেদিন নজরুল গীতির স্বরলিপি লিখে কঠিন ধৈর্য্য পরীক্ষায় ফেলতেন মনটা বিষণ্ন হয়ে যেতো। তিনি জানতেন, আমার চঞ্চলতা বাগে আনতে রাগাশ্রয়ী নজরুল গীতি যথেষ্ট। পুরো ধ্যানে রেওয়াজ ছাড়া উপায় নেই। রাগ হতো। এতো কঠিন কঠিন রাগের গান কি জন্য লিখলেন নজরুল? 

বিশেষ করে ওস্তাদ কাদের বক্স যখন গলায় গমকের কাজ দেখিয়ে ‘আমার যাবার সময় হলো’ গেয়ে মীড়ের টানে ‘দাও বিদায়’ অংশে কণ্ঠের রেওয়াজি কালোয়াতি করতেন মেজাজটা খারাপ হয়ে যেতো। ওদিকে আম্মা দরজার আড়াল থেকে ইশারা দিয়ে বুঝাতেন, বুঝছো, ঠিক এভাবেই তোমাকে রপ্ত করতে হবে। এতো জটিল সুর রেওয়াজ করতে অস্থির লাগতো। তুলনায় সিংহভাগ রবীন্দ্রসঙ্গীত কোনো রকম রাগাশ্রয়ী সূক্ষ্মতা ছাড়া গেয়ে ফেলা যায়। আজ ভাবি, নজরুলকে ধারণ করাটাই কষ্টকর ছিলো আমাদের মতো অলস বাঙালির। লেখক ও চিকিৎসক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়