শিরোনাম
◈ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দুই হাতের রগ কর্তন ◈ ‘শিগগিরই সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবে বিএনপি’ ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ◈ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ◈ নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো ◈ ‘গাজী আনিসের শরীরে আগুন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ◈ ‘নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ উনি আগুন নিয়ে খেলতে পারেন না’, বললেন মমতা ◈ মোহাম্মদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ ◈ চীনে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজ, ১২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০২:০৬ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ০২:০৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে স্ট্রোকের ঝুঁকি খুব বাড়ছে কেন?

কামরুল আহসান

কামরুল আহসান: কেন যেন বাংলাদেশে স্ট্রোকের ঝুঁকি খুব বাড়ছে। এটা কি অতিরিক্তি টেনশনের কারণে নাকি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে নাকি আবহাওয়া, খাদ্যভ্যাসের মতো কোনো কারণে। সম্প্রতি আমার ছোটনানী স্ট্রোক করেছেন। কাল শুনলাম আমাদের এলাকায় দুজন স্ট্রোক করেছেন। ...শুনলাম আমার এক বন্ধুর মা স্ট্রোক করেছেন। কিছুদিন আগেই শুনলাম অপেক্ষাকৃত এক তরুণ স্ট্রোক করেছেন। কেন? বাংলাদেশে এসব নিয়ে তেমন গবেষণা হয় না। হলেও আমরা হয়তো জানতে পারি না। পত্রিকায় মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবেদন ছাপা হয়, কিন্তু সেগুলোকে ঠিক গবেষণামূলক লেখা বলা যায় না। 

স্ট্রোক একটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। স্ট্রোক হওয়া মানেই শরীর একটা নাড়া দিয়ে দেয়। এরপর স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন। প্রথমবার স্ট্রোক হলে কোনোভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, দ্বিতীয়বার ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। আব্বা দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করে ফিরে এসেছিলেন একপাশ অবশ হয়ে। তৃতীয়বার আর ফিরলেন না। আব্বা স্ট্রোক করেছেন অতিরিক্ত টেনশনে, যদিও তার টেনশনের কোনো কারণ ছিলো না, কারোরই আসলে টেনশনের কোনো কারণ থাকে না, এটা একটা অভ্যাস, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙি, জীবন নিয়ে বোঝাপড়া। আমাদের এই সমাজব্যবস্থায় আমাদের প্রত্যেকেরই আসলে অকারণ টেনশন বাড়ছে। কী প্রতিযোগিতামূলক একটা সমাজ, টিকে থাকার জন্য কী ভয়ঙ্কর লড়াই! এখানে তো আসলে কোনো মানুষই সুস্থ থাকতে পারে না। সুস্থ থাকা মানে বিকারহীন থাকা, বোধবুদ্ধিহীন থাকা। 

মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশিরভাগ বাবা-মায়েরই টেনশন হয় ছেলেমেয়েদের ঠিক মতো মানুষ করতে পারলেন কিনা তা নিয়ে, সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে, নিজেরও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবে-নিকেশ থাকে। কোনো দায় না নিয়ে জীবনটাকে মানুষ যদি ঠিকমতো উদযাপন করতে পারতো তাহলে হয়তো টেনশন অনেক কমতো। আমি নিজেই তো টেনশনে একেক সময় সাদা হয়ে যেতাম। পরিবারের বড় ছেলে, নানা উল্টাপাল্টা কাজ করে জীবনটার বারোটা বাজিয়েছি, টেনশন ছাড়া আর করার ছিল কী! টেনশনে একটা কাজ হয়, কাজের গতি বাড়ে। কিন্তু, ক্ষতি যেটা কাজের মান নষ্ট করে, এবং স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। টেনশন না করে শুধু কাজ করলে কাজটা সুন্দর হয়। আর টেনশন বিষয়টা যে শুধু কাজের  সাথে সম্পর্কিত তাও না, এটা একেবারেই মনোজাগতিক ব্যাপার। কারো ব্রেনের  গঠনটাই থাকে টেনশনের। এ-নিয়ে বেশ কিছু সাইকোলজিক্যাল বই পড়েছিলাম। মানুষের বেড়ে ওঠা, তার চারপাশের পরিবেশ-সংস্কৃতি অনেক কিছুই প্রভাব ফেলে তার মানসিক গড়নে। 

স্ট্রোক বিষয়টা কি শুধু মানসিক নাকি শারীরিক এ-বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ। সবমিলিয়ে এ-নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা হওয়া খুবই দরকার। দিন দিন স্ট্রোক রোগী বাড়বে এটা কোনো কাজের কথা না। স্ট্রোক করে মরে গেলে এককথা, অক্ষম হয়ে ঘরে পড়ে থাকা অন্যকথা। রোগী ও পরিবারের এতে ভোগান্তির শেষ থাকে না। আল্লাহ আমাদের রহম করুক।  যেকোনো দায়বদ্ধতার চেয়ে আমাদের নিজের প্রতি যত্ন বাড়ুক। লেখক ও সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়