শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০১:৪৫ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ০১:৪৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পলিটিশিয়ানদের জন্য সবই সম্ভব!

তসলিমা নাসরিন: এমনিতে কোনো বড় সড় নামি-দামি মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। কারও কারও সঙ্গে পরিচয় থাকলেও ওঠাবসা নেই। তবে একজন বাঙালি মন্ত্রীর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তিনি একদিন তাঁর বাড়িতে আমাকে ডাকলেন। আমার সঙ্গে মূলত তিনি কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন। আমার কবিতা ভালোবাসতেন খুব।  আমি যখন তাঁর সঙ্গে তাঁর বৈঠকঘরে বসে কথা বলছি, দু’একজন মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ঘরে ঢুকছিলেন। বাইরে অবশ্য অনেকে সাক্ষাৎপ্রার্থীই অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ একটি লোক ঘরে ঢুকে মন্ত্রীর পায়ের কাছে বসে মন্ত্রীর পা দুটো তাঁর মাথায় নিয়ে বসে রইলেন। এমন ভক্তি দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। আমি ভেবেছিলাম, মন্ত্রী এবার খুব রেগে যাবেন, লোকটিকে ধমকে ঘর থেকে বের করে দেবেন। তাজ্জব হয়ে গেলাম, মন্ত্রী তা করলেন না। লোকটির মাথায় তখনও তাঁর দুটো পা, আর দিব্যি তিনি সবার সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যবহার করছেন। আমি বাড়ি  ফিরে এসে আমার এই অভিজ্ঞতার কথা এক বন্ধুকে জানালাম। জিজ্ঞেস করলাম, মন্ত্রী কী কারণে লোকটিকে ধমকালেন না, তার মাথা থেকে নিজের পা-ই বা কেন সরিয়ে নিলেন না?

বন্ধুটি বললো, ধমকাবেন কেন? পা-ই বা সরিয়ে নেবেন কেন? তাঁর তো ভালো লাগছিল ব্যাপারটা। -ওরকম অদ্ভুত আচরণ কোনও মানুষের ভালো লাগে? -পলিটিশিয়ানদের লাগে। -পলিটিশিয়ানদের কি চক্ষুলজ্জা নেই?-না। -লোকটি মাথায় মন্ত্রীর পা নিয়ে পা দুটোকে মাথায় ঘসছিল বারবার, এ তো সভ্য লোকের কাজ নয়, আর এসব মেনে নেওয়াও তো সভ্য লোকের কাজ নয়। -পলিটিশিয়ানরা সভ্য, কে বললো তোমাকে? -কোনও শিক্ষিত, সুস্থ লোক তো মেনে নেবে না। -পলিটিশিয়ানরা তো তাও নন। তাঁদের ভাবতে ভালো লাগে লোকে তাঁদের ভালোবাসে, মানুষকে দেখাতে চান এসব,  দেখ দেখ আমি কত জনপ্রিয়। -আমার সঙ্গে কেউ এমন আদিখ্যেতা করলে আমি তো তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবো। -সে কারণে তুমি পলিটিশিয়ান হতে পারবে না কখনও। -মন্ত্রী কি বুঝতে পারেননি লোকটি কোনও স্বার্থের জন্য তাঁর পা মাথায় নিয়ে বসে ছিল? -নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। সে কারণে লোকটি যদি তাঁর পা আক্ষরিক অর্থে চেটে দিত সারাদিন ধরে, তিনি সানন্দে তার সেই সেবাই গ্রহণ করতেন। -কী অসম্ভব কাণ্ড। -অসম্ভব কিছুই নয়। পলিটিশিয়ানদের জন্য সবই সম্ভব। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়