শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২২, ০২:০৯ রাত
আপডেট : ২৫ মে, ২০২২, ০২:০৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রাক-আধুনিক ও আধুনিক মুসলিম দুনিয়ার ফারাক কোথায়?

পারভেজ আলম

পারভেজ আলম: ফারাক তো অনেক জায়গাতেই আছে। তবে একটা জায়গায় ফারাকটা পুরাপুরি ১৮০ ডিগ্রি। আমার এক জার্মান বন্ধু সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মাস্টার্স থিসিস লিখছেন আব্বাসি আমলের কিছু টেক্সটের উপরে। তো কিছু আগে এক রাইতে আমার বাসায় আড্ডা দেওয়ার সময় সে বলতাছিল যে যদি আগের কালের কোনো সমাজে জন্ম নেওয়ার সুযোগ থাকতো, তাহলে সে মুসলিম সভ্যতার কোনো অঞ্চলে জন্ম নিতে চাইতো। কারণ এই সভ্যতাটা ছিলো একটা ‘মেরিটোক্রেসি’ তথা মেধাতন্ত্র। তো, ইসলামী সভ্যতা যে একটা মেরিটোক্রেটিক সভ্যতা ছিল, এই ব্যাপারটা ইতিহাস পাঠ করতে গিয়া আমি নিজেও নিশ্চিত হইছি। 

আগের আমলের মুসলিম দুনিয়ায় দাসরাও যে উজির, সুলতানের পর্যায়ে যাইতে পারতো, তার কারণ ছিল মেরিটোক্রেসি। আমি অনেক নামকরা উজির, লেখক, দার্শনিকদের জীবনী পড়তে গিয়া দেখছি যে সে হয়তো দাস বা গরিবের সন্তান ছিল। কিন্তু যেহেতু তার মেধা ছিল, তাই ছোটবেলা থেইকাই তার বিকাশের সকল সুযোগ তার সামনে হাজির করা হইছে। 
আব্বাসি আমল থেইকা ওসমানি আমল পর্যন্ত এই ব্যাপারগুলা অব্যাহত ছিল। আপনি দেখবেন ওসমানিদের নামকরা বেশ কয়েকজন উজিরই ছিলেন প্রকৃতপক্ষে দাসের সন্তান, কিন্তু ওসমানি এলিটরা তাদেরকে নিজ সন্তান হিসাবেই বড় করেছেন। তৎকালীন দুনিয়ার সেরা শিক্ষা ও ট্রেইনিং তাদেরকে দিছেন। আমি বলতাছিনা যে, এইটা অতি ভাল সিস্টেম ছিল। কিন্তু এইটা যে একটা চূড়ান্ত মেরিটোক্রেটিক সমাজ ছিল, এই ব্যাপারে আমার কোনই সন্দেহ নাই। কারো দ্বিমত থাকলে, কারণ সহকারে তা জানাইবেন। আমার মনে হয়, আধুনিক কোনো জাতি যদি উন্নতি করতে চায়, তবে তার একইসাথে মেরিটোক্রেসি এবং ডেমোক্রেসির চর্চা করা উচিত। কেননা মেরিটোক্রেসি হইল একধরনের খাসতন্ত্র। মানে, এলিটদের পছন্দের ব্যবস্থা। যা নানান ধরণের জুলুমের সহায়কও। কিন্তু আবার মেধাবী ও যোগ্যদের যখন ইডিয়ট ও অযোগ্যদের নেতৃত্ব এবং শাসন মানতে বাধ্য করা হয়, তাও নানান জুলুমের জন্ম দেয়। প্লাস, এই ধরনের ব্যবস্থা কখনো ঠিকভাবে ফাংশন করতে পারে না (বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এই সমস্যার মুখোমুখি)। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়