শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২২, ০১:২৪ রাত
আপডেট : ২৪ মে, ২০২২, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সিনেমাটি যতো না শেখ মুজিবের বায়োপিক, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক

মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম: অবশেষে জানা গেল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত ছবির বাজেটটি মাত্র ৭০ কোটি রুপি। বাংলা টাকার হিসেবে মোটামুটি ৮৩ কোটি (সরকারি ভাষ্যমতে)। 

এই টাকা ডলারে কনভার্ট করলে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য ৮৫ টাকা হিসেবে। আমরা যারা হলিউড ঘরানায় ছবিটি আশা করেছিলাম তাদের অনেকেই জানি সেই মাপে ছবি বানানোর খরচ কত বেশি হতে পারে। মাত্র নয় মিলিয়ন ডলারে সম্ভবত এর চেয়ে ভালো কিছু করার ক্ষমতা ৮৭ বছর বয়স্ক বেনেগাল সাহেবের বাবারও হবে না। তারপরও বুড়ো মানুষটি প্রচুর খেটেছেন আর্ট ফিল্ম এবং কমার্শিয়াল ঘরানার ফিউশন ঘটাতে। সেই সাথে রাজনৈতিক প্রপোগাণ্ডার চাপও তাঁকে সামলাতে হয়েছে। এই সুযোগে আপাতত জেনে নিতে পারি হলিউডে বাণিজ্যিক সফল কয়েকটা বায়োপিকের ব্যাপারে। ২০১২ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ ‘লিংকন’ বানিয়েছিলেন ৬৫ মিলিয়ন ডলারে। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যবসা করেছে ২৬৫ মিলিয়ন ডলার। আগামীতে আরও করবে। 

১৯৮২ সালে রিচার্ড অ্যাটেনবরা ‘গান্ধী’ নির্মাণ করেছিলেন ২২ মিলিয়ন ডলারে। এই সময়ে করলে এই বাজেট নির্ঘাৎ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যেত। ২২ মিলিয়ন খরচের বিনিময়ে সেই ছবি ব্যবসা করেছে ১২৮ মিলিয়ন। আমার প্রিয় বায়োপিক মাইলো ফোরম্যানের ‘অ্যামাদুস’ নির্মাণে ১৯৮৪ সালে ব্যয় হয়েছিলো ১৮ মিলিয়ন ডলার। অস্কার বিজয়ী ছবিটি ব্যবসা করেছিলো ৯০ মিলিয়ন ডলার। এরকম প্রচুর উদহারণ দেওয়া যাবে। কিংবা আগ্রহীরা নিজেরাই খোঁজ নিতে পারেন। তবে সবার প্রিয় নেলসন ম্যাণ্ডেলাকে নিয়ে নির্মিত সর্বশেষ ছবি ‘ম্যাণ্ডেলা: লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বানাতে পরিচালক জাস্টিন চাকউইক খরচ করেছিলেন ৩৫ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে আয় করেছেন ২৮ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ছবির মান ভালো হলেও ব্যবসা আশানুরূপ হয় নি। সে তুলনায় ২০০৯ সালে ম্যাণ্ডেলাকে নিয়ে নির্মিত পরিচালক ক্লিন্ট ইস্টউডের ‘ইনভিক্টাস’ ছিল সবচেয়ে সফল বায়োপিক। প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের ছবিটি ব্যবসা করেছিলো ১২০ মিলিয়ন ডলার।

তবে বায়োপিক ঘরানায় সম্প্রতি ছোট বাজেটে বিশাল সাফল্যের সিনেমার মধ্যে আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘দ্যা কিংস স্পিচ’ সিনেমাটি। শ্যাম বেনেগালের থেকে কম বিখ্যাত বৃটিশ-অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক টম হুপার। দ্বিতীয় বিশ্বশুদ্ধের প্রাক্কালে ইংল্যান্ডের তোতলা রাজা ষষ্ঠ জর্জ বক্তব্য দেবার জন্য কিভাবে সাবলীল উচ্চারণ অনুশীলন রপ্ত করেন তা নিয়েই সিনেমাটির আবেগময় গল্প। ২০১০ সালে নির্মিত ছবিটির বাজেট ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ছবিটি আয় করেছে ৪২৮ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো ২০১৭ সালে নির্মিত ‘ডার্কেস্ট আওয়ার।’ বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টিন চার্চিলের বায়েপিক। পরিচালক জো রাইট ছবিটি বানাতে খরচ করেছিলেন ৩০ মিলিয়ন ডলার। আয় হয়েছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার। 

শ্যাম বেনেগালের নির্মাণ ব্যয়ের ব্যাপারে আরও বিশদ কিছু বলার চেয়ে সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করা শ্রেয়। ‘মুজিব’ ট্রেইলর দেখে হতাশ হওয়া সিনেবোদ্ধাদের কথা মাথায় আনলে ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনে ঝালাই করার সুযোগ আছে।

তবে আরেফিন শুভ’র ব্যাপারে আলাদা করে বলার কিছু বলার নেই। অন্তত ভয়েস ডাবিং করতে যদি আরও কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয় তাও ভালো। ছবিটি মুক্তি পাবার পর আবার নিশ্চয় চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে কত টাকা শ্রাদ্ধ কিংবা উসুল হলো। কারণ সিনেমাটি যত না শেখ মুজিবের বায়োপিক তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। তবে সারা দেশের সব প্রেক্ষাগৃহে এক যোগে মুক্তি দিয়ে টানা ছয় মাস চালিয়ে ছবিটি সবাইকে দেখতে বাধ্য করলে ১০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হতেও পারে। আর সেটা না হলে শ্যাম বেনেগাল হয়তো বলতে পারেন এত অল্প বাজেটে এমন সিনেমা সার্বজনীন করা চাট্টিখানি কথা নয়। লেখক ও চিকিৎসক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়