শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২২, ০১:০৮ রাত
আপডেট : ২৪ মে, ২০২২, ০১:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভোজ্যতেল নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী

রহমান বর্ণিল

রহমান বর্ণিল: সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় উপরের দিকে আছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। সূর্যমুখী তেল উৎপাদনেও দেশ দুটির একটি প্রথম, অন্যটি দ্বিতীয়। সরিষার তেল উৎপাদনে প্রথম ইউক্রেন, রাশিয়া আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। পাম ওয়েল উৎপাদনে শীর্ষে থাকা ইন্দোনেশিয়া পাম তেল বা ভেজিটেবল ওয়েল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়াও রপ্তানি বন্ধের সকল প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত করেছে।

বাংলাদেশে বার্ষিক বিশ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার নব্বই শতাংশই হচ্ছে আমদানি নির্ভর। অর্থাৎ দেশের চাহিদার মাত্র দশ শতাংশই আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। করোনা অতিমারীর কারণে বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছিল ২০২০সাল থেকে। আর সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। যেহেতু দেশ দুটি ভোজ্যতেল উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে আছে। তাই এই দুটি দেশ থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ব্যাপক চাপ পড়েছে পাম ও সয়াবিন তেলের ওপর। ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে পাম তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়াও গত এপ্রিলে পাম তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
করোনা অতিমারী ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সারাবিশ্বে ভোজ্যতেলের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশেও যেহেতু ভোজ্যতেলের জন্য আমদানি নির্ভর, সেহেতু আমাদের দেশেও তেলের দাম বাড়া স্বাভাবিক। তবে পৃথিবীর আর আর দেশের সাথে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত তেলের দাম কমই বলা যায়। সেটা কেবলমাত্র টাকার অংকে নয়, সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বিবেচনায়ও। কিন্তু তারপরও দেশে সয়াবিন তেলের দাম সাধারণের আরেকটু নাগালের মধ্যে থাকতো যদি না আমাদের পরহেজগার মুনাফাখোর কারবারিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতো।

গত পাঁচদিনে অবৈধ মজুদ থেকে সাত লাখ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এটা তো কেবল ধরা খাওয়ার হিসেব। ধরা খায়নি এরকম আরো কত হাজার লিটার তেল কত মজুদদারের গুদামঘরে পড়ে আছে সেটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশে দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বমুখীতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারদর যতটা না দায়ী, তারচেয়ে বেশি দায়ী আমাদের অবৈধ বাজার সিন্ডিকেট। পেঁয়াজের দাম যখন আকাশ ছুঁলো আমরা তখনো দেখেছি, একদিকে পেঁয়াজের জন্য মানুষ হাহাকার করছে অন্যদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এবং ঢাকার কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা গুদামঘরে পচে যাওয়ায় হাজার হাজার বস্তা পচা পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। নোনাপানির বাংলাদেশে লবণের দামও বেড়ে যায় বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে।

যে দুয়েকটা রাষ্ট্র এখনো সয়াবিন তেল রপ্তানি করছে, শোনা যাচ্ছে তারাও শীঘ্রই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে রপ্তানিতে। সুতরাং ধরে নেওয়া যায় দেশে সয়াবিন তেলের দাম খুব সহসা কমছে না। এমতাবস্থায় রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তেলবীজ, ভোজ্যতেল উৎপাদনে কৃষক ও তেল শিল্পকে উৎসাহিত করা। আর জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে দৈনিন্দন রান্নাবান্নায় মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকারক এই ভোজ্যতেলের কনজিউম যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়