শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২২, ০১:২৭ রাত
আপডেট : ২৩ মে, ২০২২, ১১:৩০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ ট্রেইলার দেখে বুকটা ধক করে উঠলো

শর্বাণী দত্ত

শর্বাণী দত্ত: মুজিবের ট্রেইলার দেখে বুকটা ধক করে উঠলো। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা বানানোর কথা কারোর মাথায় এসেছে। এবং সেই মাথাটি (বা মাথাগুলো) বাংলাদেশের কারোর নয়। পাশের দেশের। আমি ব্যক্তিপূজায় একদমই বিশ্বাসী নই, তাই বঙ্গবন্ধুকে ঈশ্বর জ্ঞান করা বা এরকম কোনো উছলান আবেগ আমার সত্যি বলতে গেলে নেই।

তবে উনি একজন অবিসংবাদী নেতা তো ছিলেন ই। দোষে গুণে মিলিয়েই বঙ্গবন্ধু একজন Flamboyant Leader ছিলেন। এরকম Larger than life কারোর বায়োপিক বানাতে তাঁর ব্যাপারে একটা নূন্যতম আবেগ থাকতে হয়, জিজ্ঞাসা থাকতে হয়। জিজ্ঞাসা থাকলেই জবাব আসে। তখন জ্ঞান বাড়ে, অনেককিছু জানা হয়, বোঝা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বানানো প্রথম সিনেমা, পরিচালকসহ সিংহভাগ স্টাফ ই ভারতীয়, প্রথমেই একটু ভড়কে গিয়েছিলাম।

তবে অত নামকরা পরিচালক, অত নাম-ডাক, জ্ঞানগম্যি- আমি ভেবেছিলাম বেশ ভালো কিছু দাঁড়িয়ে যাবে। শ্যাম বেনেগাল বঙ্গবন্ধু মানুষটিকে সম্ভবত খুব হাল্কাভাবে নিয়েছেন। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণটা শুনলেও আমার মনে হয় এই মানুষটির বজ্রকণ্ঠ আর দ্বিধাহীন আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে এর চাইতে অনেক ভালো ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সিনেমা বানানোর মতো যোগ্য কেউ আছে কিনা, সে বিষয়ে আমার নিজেরই কোনো ধারণা নেই।

তবে যদি আসলেই না থেকে থাকে, লজ্জা না পাওয়াটাই লজ্জাজনক। একটা দৃশ্যে দেখলাম শেখ মুজিব (আরেফিন শুভ) ভাষা আন্দোলনে স্লোগান দিচ্ছে রাজপথে (নাকি আমি বুঝতে ভুল করেছি?)। আমি যতটুকু জানতাম, বঙ্গবন্ধু তখন জেলে বন্দী। ভাষা আন্দোলনে উনার অবদান ছিল, তবে সরাসরি অংশগ্রহণ ছিলনা। আন্দোলন, প্রতিরোধ, স্লোগান, এমনকি স্বাধীনতার ডাক দেওয়া- সব কটা দৃশ্যে আরেফিন শুভকে বঙ্গবন্ধু না, ইদানিংকার ছাত্রলীগের কোনো এলেবেলে চাটুকার নেতা বলে মনে হচ্ছিলো।

কণ্ঠে যথেষ্ট জোর নেই, আরোপিত একধরণের কৃত্তিমতা। পরিচালকের ব্যর্থতা নাকি আরেফিন শুভকে নিঙড়ে নিঙড়ে এতটুকুই বের করা গেলো, তা বলতে পারছিনা। গ্রাফিক্সের দৃশ্যগুলো মোটামুটি হার্টব্রেকিং। ভীষণ অদ্ভুত। এরকম গ্রাফিক্সের কাজ, ৪০ কোটি বাজেটের সিনেমায়, একজন জগৎবিখ্যাত নেতার বায়োপিকে। বিস্ময়কর! মেকাপ ফেকাপ নিয়ে সবাই বলেছে, সবাই বোঝে। তবে মেকাপের চাইতে সিনেমার মেকাপ নিয়ে আরও অনেক বেশি আশাহত আমি, তাই সে আলাপে আর না যাই। বহুকাল পর, একদিন হয়তো আমরা আমাদের টাকায়, আমাদের মেধায়, আমাদের জায়গায় একটা সত্যিকারের সিনেমা বানাবো। সেদিন আর সিনেমার দৃশ্যে অস্থির হয়ে বঙ্গবন্ধুকে খুঁজতে হবেনা, বঙ্গবন্ধু নিজেই পর্দায় ধরা দেবে। পুরোটা সেদিনও হবেনা হয়তো, তবে যতটুকু হবে, শুধু আমাদের হবে। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়