শিরোনাম
◈ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দুই হাতের রগ কর্তন ◈ ‘শিগগিরই সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবে বিএনপি’ ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ◈ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ◈ নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো ◈ ‘গাজী আনিসের শরীরে আগুন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ◈ ‘নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ উনি আগুন নিয়ে খেলতে পারেন না’, বললেন মমতা ◈ মোহাম্মদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ ◈ চীনে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজ, ১২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২২, ০৩:০৮ রাত
আপডেট : ২১ মে, ২০২২, ১০:৩৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাফ্ফার চৌধুরীর মতো বরেণ্যজনদের  মৃত্যু হয় স্বপ্নপূরণ না হওয়ার অপূর্ণতায়

হাসান শান্তনু

হাসান শান্তনু: বিদিশাকে আগের রাতে তাঁর বাবার বয়েসী বয়োবৃদ্ধ স্বামী এইচ এম এরশাদ যেই আঙ্গুলে আপেল কেটে খাওয়ান, পরেরদিন হাওয়া ভবনের চাপে সেই আঙ্গুলে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন তিনি। ‘নারী, গোলাপফুল বিষয়ক কবি’ এরশাদের বিবিকে তালাক দেয়ার সরকারি চাপের অন্যতম কারণ ছিলো, যুক্তরাজ্যে নন্দিত সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বাসায় বিদিশার ‘গোপন বৈঠক’। বিদিশাসহ এরশাদের দলের কয়েক নেতা যখন বৈঠক করেন, ওই সপ্তাহে তখন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিলো।

হাওয়া ভবন আশঙ্কা করে, আওয়ামী লীগের জোটে এরশাদের দলের যোগ দেয়ার বিষয়ে বিদিশা যুক্তরাজ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেশে ফেরেন। চাপ দেয় এরশাদকে তালাক দেয়ার জন্য। নিজের সমান বয়সী কবির মেয়েকে বিয়ে করে ‘বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ প্রমাণের’ যে চেষ্টা এরশাদ করেন, সরকারি চাপে তালাক দেওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখোশ খুলে যায়। হাওয়া ভবন তখন অন্যের বিবিকে তালাক দেয়ানোর কাজটাও করতো।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সিনেমা ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’তে প্রস্তাব পেয়েও অভিনয় করেননি আবুল হায়াতসহ বেশ কয়েকজন। চারদলের জোট সরকারের রোষানলের ভয়ে, তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায়। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়। যাঁরা বিএনপি-জামায়াতের সরকারের কৃপা হারানোর ভয়ে গাফ্ফার চৌধুরীর সিনেমায় অভিনয় করেননি, তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে সরকারের দুর্দান্ত সুবিধাভোগী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরেকটি সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন গাফ্ফার চৌধুরী। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সরকারের শীর্ষপদে দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগও করেন তিনি। তবে অনুদান পাননি। সেই সিনেমা তাঁর পক্ষে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ কতো ছাঁইপাশ মার্কা নির্মাতা সরকারি অনুদানে কথিত সিনেমা বানানোর সুযোগ পাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের রোষানলের ভয়ে যাঁরা 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি'তে অভিনয় করেননি, তাঁদের অনুচর, সহচররাও সিনেমা বানাতে আওয়ামী লীগের সরকারের অনুদান পাচ্ছেন। 

অবাক করা দেশ! গাফ্ফার চৌধুরীর মতো বরেণ্যজনদের মৃত্যু হয় স্বপ্নপূরণ না হওয়ার অপূর্ণতায় আর এরশাদের মতো পতিত স্বৈরাচারীদের স্বপ্ন পূরণ হয় ‘রাজনৈতিক মর্যাদার’ সঙ্গে। বাঙালি, বাংলা ভাষার অস্তিত্ব যতোদিন থাকবে, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ততোদিনই বেঁচে থাকবেন। সব মৃত্যুর মানে চিরতরে পৃথিবী থেকে মুছে যাওয়া নয়। কিছু মৃত্যু মানে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানের রেখাটা মুছে দিয়ে অমরত্বের পথে যাত্রা। গাফ্ফার ভাইয়ের মৃত্যু তেমনই। তাঁকে অন্তিম অভিবাদন, বিনম্র শ্রদ্ধা। আত্মার শান্তি কামনা।

লেখক: সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়