শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২২, ০৩:০৭ রাত
আপডেট : ১৯ মে, ২০২২, ০৩:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সমষ্টি মানুষ কখনো হারে না- হয় জেতে, না হয় শেখে

রাজিক হাসান

রাজিক হাসান: ব্যক্তি মানুষ কখনও কখনও হেরে যায়। কিন্তু সমষ্টি মানুষ? না সমষ্টি মানুষ কখনও হারে না। হয় জেতে, না হয় শেখে। নিকোলাস স্টেনো একজন সত্যিকারের রেনেসাঁর মানুষ। তিনি ডেনমার্কে ১৬৩৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমাদের বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের গ্রহের পললতা এবং মাটি গঠনের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝাতে সক্ষম হন। নিকোলাস স্টেনো ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনের বিজ্ঞানের বিকাশে সাহায্য করেছেন, দেখিয়েছেন কীভাবে পক্ষপাত ছাড়াই জিনিসগুলোকে দেখতে হয় এবং অভিজ্ঞতামূলক পর্যবেক্ষণগুলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীর করার জন্য বৌদ্ধিক বাধাসমূহ কেটে দিতে পারে। তার সেরা কৃতিত্ব, সম্ভবত তিনি যে নীতিগুলো ধারণ করেছেন, তা আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে সত্যের সন্ধানকে রূপ দেয় এবং অজানা সৌন্দর্যের সন্ধান হিসাবে উপলব্ধি করে। নিকোলাস স্টেনো লিখেছেন ‘সৌন্দর্য হল যা আমরা দেখি, আরও সুন্দর হল যা আমরা জানি এবং সবচেয়ে সুন্দর হল যা আমরা জানি না।’ সেইসাথে রবার্ট হুকের (১৬৩৫ - ১৭০৩) ভূতাত্ত্বিক গঠন, জীবাশ্ম পর্যালোচনা বিজ্ঞানের নতুন দ্বার ভূতত্ববিদ্যার নতুন পথের সন্ধান দেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান- বিজ্ঞানের তিনটি শাখায় তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন।

অবদান রেখেছেন রসায়ন, স্থাপত্যকলা আর ম্যাপ তৈরির কাজেও। তিনি একজন ‘রেনেসাঁম্যান’ হিসেবেও পরিচিত। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কার করে অণুজীববিজ্ঞানের দুয়ার খুলে দেন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী বই ‘মাইক্রোগ্রাফিয়া’ তার হাতেই রচিত। বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিজ্ঞান বিষয়ক যে বইটিকে প্রথম বেস্টসেলার বলা হয় তা হচ্ছে রবার্ট হুকের ‘মাইক্রোগ্রাফিয়া’। ৩০ বছর বয়সী হুক ১৬৬৫ সালে যখন এই বইটি প্রকাশ করেন, তখন বিজ্ঞানী মহলে তাকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। প্যালিওন্টোলজি বা জীবাশ্ববিজ্ঞান নিয়েও হুক কাজ করেন। তিনি বিভিন্ন ফসিলের উপর প্রাচীন কোষ পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে ফসিলগুলো একসময় জীবন্তই ছিল এবং কালের পরিক্রমায় এরা খনিজে পরিণত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার এই বৈপ্লবিক কথাগুলো তখনকার বিজ্ঞান সমাজ সহজে মেনে নিতে পারে নি। হুক তার পর্যবেক্ষণ থেকে আরও জানান যে পৃথিবীতে প্রাচীনকালে এমন অনেক জীব ছিল যা বিলুপ্ত হয়েছে। কথাটি খুবই সহজ সরল মনে হচ্ছে, কেননা আমরা সবাই জানি যে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছিল এবং অনেক প্রাণী রয়েছে বিলুপ্তির পথে। কিন্তু হুকের সময় এ কথার গুরুত্ব ছিল অসীম।

এরপর কঁতে দ্যা বুঁফো (১৭০৭--১৭৮৮) লিখে ফেললেন ৪৩ খণ্ডের বই। পৃথিবীর উৎপত্তি, শীতল হওয়া,স্বতঃস্ফূর্ত জীবনের উদ্ভব, ভূতাত্ত্বিক আলোড়ন,সমুদ্রের উৎপত্তি, সরীসৃপ, পাখি,মাছ,তিমি, প্রাকৃতিক যুগসমূহ বিষয়াবলী ব্যাপকভাবে তুলে ধরলেন। চাঞ্চল্যকর ব্যাপার হলো, জীবজগতের অভিযোজনের ধারণাও ব্যক্ত করেন। দ্যা বুঁফো প্রথম সাহসের সাথে উচ্চারণ করেন, ‘বাইবেল যা বলে, পৃথিবী তার চেয়ে ঢের বেশি পুরোনো। আমাদের প্রাণের বিভিন্ন রূপ বিবর্তিত হতে সময় লেগেছে লক্ষ লক্ষ বছর।’ এরপর আবির্ভূত হলেন স্পষ্টবাক, সাহসী ভূতত্ত্ববিদ জেমস হাটন ( ১৭২৬--১৭৯৭)। তিনি বললেন,‘ পৃথিবীর ত্বক ক্ষয় হতে য়েমন দীর্ঘ সময় লাগে, তেমনই পর্বত গঠনও চলে দীর্ঘ সময়ব্যাপী। যে হিমালয় পর্বতের শিলাস্তর প্রায় ৬ কোটি বছর আগে সমুদ্রে নিমজ্জিত ছিল, তা উত্থিত হয়ে পর্বতে পরিণত হতে  লেগেছে দীর্ঘ সময়। হিমালয় বছরে গড়পড়তা ১০ সেন্টিমিটার করে উঁচু হয়ে চলেছে। গত কয়েক হাজার বছরে হিমালয় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার উঁচু হয়েছে।

এই বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত আছে।’ ১৭৮৮ সালে প্রকাশিত বই এ ‘পৃথিবীর তত্ত্ব’/ theory of the Gqvi_-এ এসব তথ্যাদি পাওয়া যায়। চার্চ-নিয়ন্ত্রিত ধর্মতত্ত্ববিদরা বাইবেল-উপাখ্যান-সাংঘর্ষিক এই বইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাবাণ ছুঁড়তে থাকে। ১৭৯০ সালে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণে জেমস হাটন এর সমুচিত জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের পক্ষে পালিয়ে আসাটা অজ্ঞানতার লক্ষণ’। এভাবেই যুগে যুগে ধর্ম-প্রভাবিত ধারণাগুলো স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানচর্চাকারীদের আর কৌতুহলী মানুষকে গোলকধাঁধায় ঘুরিয়েছে। চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক, এই পাঁচটি-ই মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়। সর্বদেশের সর্বভাষার অভিধান চিরকাল এই সাক্ষ্যই দেয়। সুতরাং ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার বাইরে কোনো জ্ঞানও নাই, সত্যও নাই। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়