শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২২, ০৩:০৪ রাত
আপডেট : ১৯ মে, ২০২২, ০৩:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশে অন্তরায়

মঞ্জুরুল আলম পান্না

মঞ্জুরুল আলম পান্না: বুর্জোয়া রাষ্ট্রের প্রতিটি সরকারই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করবে, এটাই তার চরিত্র। পুঁজিবাদী রাষ্ট্র উচ্ছিষ্টভোগী কিছু সাংবাদিককে দালাল বানিয়ে রেখে তার প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজে লাগাবেÑ এটাও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে শক্ত লড়াইয়ে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের লড়তে হয় ঐক্যবদ্ধভাবে। হালুয়া-রুটির লোভে সাংবাদিকদের মধ্যে যারা রাতের অন্ধকারে উপরওয়ালাদের পদলেহন করেন, তাদের বয়কটের মধ্য দিয়েই কেবল সম্ভব স্বাধীন গণমাধ্যমের পথ রচনায় এগিয়ে যাওয়া। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণমাধ্যমকর্মী আইন, ওটিটি আইনসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের বিরুদ্ধে সম্পাদক পরিষদ যেভাবে কথা বলে যাচ্ছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় বড় কর্মকর্তার পদ নিয়ে যারা নিজ প্রতিষ্ঠানের সংবাদকর্মীদের ওপর নির্যাতন করছেন, গণমাধ্যম বিরোধী নানা কালা কানুন প্রণয়নের যারা উপদেষ্টার ভূমিকায় কাজ করছেন, তাদের সামনের সারিতে রেখে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা কীভাবে সম্ভব, তা বোধে আসে না। 

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গত শনিবার সম্পাদক পরিষদের আলোচনাতেও মুখোশধারী এমন একাধিক সাংবাদিককে দেখলাম স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে নানান সবক দিতে। শুধু ওই দিনের আলোচনাতেই নয়, সারা বছরই তারা এ ধরনের সবক দিয়ে থাকেন টকশোতে, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে। তুমুল বিতর্কিত ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ প্রণয়নে ভূমিকা রাখছেন, এমন এক ‘মহান’ সাংবাদিক নেতাকেও দেখলাম সেখানে বয়ান দিতে। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্পাদক পরিষদের নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞ সাংবাদিকরাতো মুখোশধারী এসব হলুদ সাংবাদিকের নাড়ীনক্ষত্র জানেন। এদেরকে পাশে রেখে যে প্রকৃত সাংবাদিকতার পথ বিনির্মাণে কোনো লাভ হবে না, তাদের চেয়ে ভালো কেউ জানেন না নিশ্চয়। তারপরও কেন তাদের সঙ্গে রাখতে হয়? উত্তরে কি তারা বলবেন যে, ‘সবাইকে নিয়েই পথ চলতে হয়’? বর্তমান সরকারও তো বাম-ডান সবাইকে নিয়ে পথ চলছে, চোর-ডাকাত-দুর্নীতিবাজদেরও দুধ-কলা দিয়ে পুষছে রাজনীতির জন্য। সমস্যা কোথায় তাহলে? লেখক: সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়