শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২২, ০২:৫৫ রাত
আপডেট : ১৯ মে, ২০২২, ০২:৫৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বোমা মেশিন মেরে পাথর তোলার নামে কোয়ারিগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে

আরিফ জেবতিক

আরিফ জেবতিক: সিলেটে শুধু আমাদের মহল্লার থেকে হাঁটা দূরত্বে আশেপাশে কতোগুলো দীঘি ছিলো, এই হিসাবটা দিই। দীঘি মানে বিশাল বিশাল দীঘি, পুকুরের নাম দীঘি -এমনটা নয়। তালতলা দীঘি, বেকা দীঘি, মাছুদীঘি, রামের দীঘি, ধোপাদিঘী, লালদীঘি। এর একটাও এখন নেই। সব দীঘি ভরাট করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফালতু সব আবর্জনা তৈরি করা হয়েছে। আজকে সিলেট শহরে পানি উঠে গেছে। জলমগ্ন শহরের ছবি দিচ্ছেন আমার সিলেটি বন্ধুরা। জনজীবন স্থবির। আমাদের ছোটবেলা সিলেটে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে বলে কখনোই মনে পড়ে না। এই দীঘিগুলো যখন ভরাট করা হয়, সিলেট শহরের হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ছাড়া কেউ কখনোই প্রতিবাদ করেনি। বাকি গোটা শহরবাসী নিজেদের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। সিলেটে এখন যথেচ্ছা পাহাড় কাটা হচ্ছে গত কয়েক দশক ধরে। টিলা আর পাহাড় কেটে স্টেডিয়াম হচ্ছে, জনবসতি হচ্ছে, সরকারি আবাসন হচ্ছে। 

সিলেট শহরের পাহাড় কাটা নিয়ে একডজন মানুষ ক্ষীণকায় প্রতিবাদ করে। বাকি গোটা শহর থাকে ভাবলেশহীন। বোমা মেশিন মেরে পাথর তোলার নামে জাফলং, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি, কোম্পানিগঞ্জের কোয়ারিগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। গোটা শহর নিশ্চুপ। এরা শুধু জলমগ্ন থাকবে এমন নয়। এই পাহাড়-টিলা কাটা না আটকানোয়, এই পাথর কোয়ারিগুলোকে সংরক্ষণ না করায় যে পাপ হচ্ছে, তার মূল্য এরা কীভাবে চুকাবে সেটাই দেখার বিষয়। প্রকৃতির প্রতিশোধ নির্মম। আপনে ভাবলেশহীন ছিলেন, প্রতিবাদে সামিল হননি, উদ্যোগী হননি-এর মূল্য শুধু আপনে চুকাবেন এমন না, আপনার চৌদ্দগোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই মূল্য চুকিয়ে যাবে। লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়