শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২২, ০২:৪০ রাত
আপডেট : ১৯ মে, ২০২২, ০২:৪০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধুকন্যার হিম্মত ও কুচক্রী মহল

শঙ্কর মিত্র

শঙ্কর মিত্র: পদ্মা সেতু নির্মাণে একক কৃতিত্ব জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিশ্বব্যাংকের গালে থাপ্পড় দেওয়ার হিম্মত বঙ্গবন্ধুর কন্যা ছাড়া সম্ভব নয়। এদেশের কুচক্রীরা নানা ষড়যন্ত্র করেছে পদ্মা সেতু যাতে না হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই সেতু আজ বাস্তবে রূপ লাভ করলো। এখন সেতুর নামকরণ নিয়ে আরেকদফা বিতর্ক জুড়ে দিচ্ছে একটি মহল। আমাকে যদি কেউ বলে পদ্মা সেতু কার নামে হওয়া উচিত, আমি একবাক্যে বলবো শেখ হাসিনার নামে। কিন্তু আমি চাই না শেখ হাসিনার নামে পদ্মা সেতু হোক। শেখ হাসিনা নিজেও এটা না করেছেন। আমি চাই পদ্মা নদীর নামেই সেতুর নামকরণ হোক। এই পদ্মার সাথে বাঙালির অস্তিত্ব, আবেগ জড়িত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ছিল, ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।’ অথবা আমাদের দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা সুরমা নদীর তটে।’ অসাধারণ দেশপ্রেমের সংগীত। পৃথিবীতে হাজারটা ব্রিজ আছে, নদী আছে কিন্তু পদ্মা নদী একটাই। যমুনা একটাই। এই নদী আমাদের গর্ব অহংকার। 

পদ্মা নদীর ব্রিজ পদ্মা নামেই পরিচিত হোক বিশ্বজুড়ে। শেখ হাসিনার অমর কীর্তি মানুষ মনে রাখবে। ব্রিজটি যতোদিন থাকবে ততোদিন শুধু বাংলা নয় বিশ্বের মানুষ বলবে ক্ষমতাধরদের গালে থাপ্পড় দিয়ে কীভাবে তৃতীয় বিশ্বের এক নেত্রী ব্রিজটি বানালেন। আরেকটি কথা, ব্রিজটি উদ্বোধনের সময় অবশ্যই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাদের যেন দাওয়াত দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ব্রিজটি হবে না, ভেঙে যাবে এবং বিএনপির কেউ যেন এ ব্রিজে না ওঠেন। আমি মনে করি এটা তিনি কোনো অভিমান বা প্রতিহিংসা থেকে বলেছিলেন। মানুষের জীবনে এমন মানসিক দুর্বলতা কোনো সময়ে চলে আসতে পারেই। এ ছাড়া প্রতিহিংসা বা পরশ্রীকাতরতা বাঙালির প্রধান রোগ।

এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। খালেদা জিয়া দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। জীবন সায়াহ্নে মনের অনেক অতৃপ্তি থাকতে পারে। সরকারের উচিত হবে পদ্মাসেতুর উদ্বোধনে খালেদা জিয়াকে যেন বিশেষ অতিথি করে নেওয়া হয়। উনাকে যেন সেতু পারাপার করে দেখানো হয়। দেশটা আমাদের সবার। আমাদের যে স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করলেন সেই ঋণ আমরা স্বীকার করবো। আরও একটি বিষয়, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রসিডেন্টকেও দাওয়াত দিতে হবে। সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকেও। তারা এসে দেখে যাক, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাঙালি জাতি সঠিক নেতৃত্ব পেলে কি ভাবে জেগে ওঠে। জয় বাংলা। লেখক: সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়