শিরোনাম
◈ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দুই হাতের রগ কর্তন ◈ ‘শিগগিরই সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবে বিএনপি’ ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ◈ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ◈ নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো ◈ ‘গাজী আনিসের শরীরে আগুন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ◈ ‘নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ উনি আগুন নিয়ে খেলতে পারেন না’, বললেন মমতা ◈ মোহাম্মদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ ◈ চীনে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজ, ১২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২২, ০২:০৭ রাত
আপডেট : ১৮ মে, ২০২২, ০২:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুর্নীতি ও পাচার আমাদের অর্থনীতির বড় রোগ

এম আমির হোসেন

এম আমির হোসেন: বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। ভারতের মতো কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাইয়েও যদি বাংলাদেশের পাচারকারীরা গ্রেপ্তার হতো তবে নিদেনপক্ষে দশ-বিশ হাজার পি কে ধরা পড়তো। এরা কেউ কেউ পি কে হালদারেরও উপরে, কেউ-বা সমকক্ষ, কেউ কাছাকাছি। এই পি কে-দের ধরে যদি যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতো তবে সেই টাকা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু, আট-লেন হাইওয়ে, অসংখ্য ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, কল-কারখানা নির্মাণ করে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া যেতো।

গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)-র তথ্যমতে, গত ছয় বছরে বাংলাদেশ থেকে নাকি ৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে পাচার হচ্ছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এটা রেকর্ড বটে। মাত্র এক বছরের পাচার হওয়া টাকা দিয়েই তিন-চারটি পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

দুই-এক দশক আগেও দেখেছি, শুধু শীর্ষ লেভেলের কিছু রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা বিদেশে অর্থ পাচার করতো। এখন তা জেনারেলাইজড হয়ে গেছেÑথানার ওসি, এসআই থেকে শুরু করে ডিজি অফিস, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরাও ধরা-খাওয়ার ভয়ে বিদেশে তাদের অবৈধ টাকা পাচার করছে। বিভিন্ন ই-কমার্স, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের কারণেও টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। সুশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা না থাকার কারণে বৈধ সম্পদও দেশে রাখা নিরাপদ মনে করছে না অনেকে। পরবর্তী প্রজন্মসহ অর্জিত সম্পদ নিয়ে বিদেশে সেটেল্ড হচ্ছে তারা। এই দেশটা তাদের কাছে হয়ে উঠেছে শুধু উপার্জনের ক্ষেত্র। পাচারকৃত টাকা পাওয়ার লোভে উন্নত দেশগুলোও টাকাওয়ালাদের জন্য চটকদার সুযোগ-সুবিধা, নাগরিক নিরাপত্তাবোধের টোপ সাজিয়ে রেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে মধ্যম-আয়ের দেশে পৌঁছে সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে বাংলাদেশ। এগোতে পারবে না আর। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে। 

টাকা পাচারের উপায়গুলো বন্ধ করতে হবে। এদেশের বড়লোকদের উপর অযথা খড়গহস্ত হওয়া উচিত নয়। তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা, উন্নত লাইফস্টাইল, সামাজিক সম্মান দিন। তারা যেন নির্ভয়ে দেশে বিনিয়োগ করতে পারে, পরবর্তী প্রজন্মও যেন দেশে অবস্থান করে সম্পদের পরিবৃদ্ধি ঘটাতে পারেনÑএই নিশ্চয়তা দিন। তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা জরুরি। টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে দুর্নীতির ফাঁকফোকরগুলো যেন পি কে হালদার তৈরি না হয় আর প্রতিটি নাগরিকের মনে নিরাপত্তাবোধ (sense of security) জাগিয়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে অযাচিত হয়রানি ও ভীতি কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের দেশকে বাইরে থেকে এসে কেউ এগিয়ে দিবে না, নিজেদেরই এগিয়ে নিতে হবে। লেখক: চিকিৎসক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়