শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২২, ০২:৪৭ রাত
আপডেট : ১৭ মে, ২০২২, ১১:০৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে

মুশফিক ওয়াদুদ

মুশফিক ওয়াদুদ: ধরুন, আমরা যদি খুব ঠান্ডা মাথায় একটি লিস্ট বানানোর চেষ্টা করি যেখানে আমরা যাদের সম্মান করি, আদর্শ মনে করি, যাদের মতো হতে চাই অথবা সমাজে যারা সেলিব্রিটি, তবে নিসন্দেহে সেখানে অর্ধেক নাম থাকবে এমন কিছু মানুষের যারা আসলে চোর অথবা বাটপার। চুরি/বাটপারি সব সমাজেই আছে কিন্তু চোর/বাটপাররা সমাজে সেলিব্রিটি/মানুষের আদর্শ এমন অবস্থা মনে হয় না আমাদের মতো অন্য কোনো সমাজে আছে।  আপনার এপার্টমেন্টে যে প্রতিবেশীকে দেখলে সম্মানে দারোয়ান সাহেব নুয়ে পরেন, তিনি এ সম্মান পান মূলত তার চুরি বিদ্যায় পারদর্শীতার জন্য। অথবা আপনি যে প্রতিবেশীর সাথে হাসি মুখে কথা বলেন, কথা বলার সময় সমীহ জাগ্রত হয় তার নতুন কেনা প্রাইভেট কারের জন্য, সেই সমীহ আসলে তিনি চুরি করতে পারেন বলে। যারা চুরি করতে পারেন না তাঁরা আপনার সম্মান পান না। অথবা তরুণদের কাছে যে সরকারি চাকরিজীবী আর্দশ, তাদের মতো হতে চান, এই চাওয়া মূলত তিনি চুরি করতে পারেন বলে।

অথবা মসজিদের খতিব সাহেব শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কালেকশনের সময় যার জন্য দোয়া করেন, যার প্রশংসা করেন সেটা করেন আসলে তিনি চোর বলে (চুরির টাকা দান করতে পারেন বলে)। সমাজের সব ক্ষেত্রে এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। আমরা যাদের সম্মান করি/সমীহ করি/ যারা সমাজে সেলিব্রিটি সেটা আসলে করি তাদের চুরি বিদ্যায় পারদর্শীতার জন্য। কোনো সরকারি চাকরিজীবী যিনি এক লাখ টাকার বেশি বেতন পান না তার পক্ষে দামি প্রাইভেট কার কেনা প্রায় সম্ভব। (অবশ্য অনেকেরই পৈতৃক সম্পত্তি থাকতে পারে। অন্য কোনো আয় থাকতে পারে।) আমি পরিচিত যতো সরকারি চাকরিজীবী চিনি তাদের বেশিরভাগই একাধিক দামি গাড়ি হাকান। তাদের অনেকেই যে চুরি করে এ অবস্থায় এসেছেন, সেটা বুঝতে রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এ সব মানুষদের প্রতি সমাজে শ্রদ্ধা, সম্মান আর সমীহই আছে। এর একটি খারাপ দিক হলো, দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে। সবাই চোর হতে চায়। যারা চোর হতে পারেনি তাঁরা হতাশায় আক্রান্ত! লেখক ও গবেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়