শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২২, ০২:৩৮ রাত
আপডেট : ১৭ মে, ২০২২, ০২:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাত কোটি টাকার চাকরি, ঢাকার জ্যাম ও গার্মেন্টসের জনবল সংকট

খাজা নিজামউদ্দিন

খাজা নিজামউদ্দিন: প্রথম খবর- অ্যাপলের এক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। বছরে বেতন ৭ কোটি টাকার বেশি। গত দুই বছর অফিস ফ্রম হোম করছিলেন। অ্যাপলের নির্বাহী প্রধান আবার সবাইকে ওয়ার্ক প্লেইসে ফিরতে বলেছেন। অনেকেই গোস্বা করেছেন এই সিদ্ধান্তে। এই কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এটি একমাত্র উদাহরণ নয়। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের যে কতো সুবিধা, তা করোনা না আসলে বেশিরভাগ মানুষ জানতে পারতো না হয়তো। বেশিরভাগ কাজই যদি অফিসে না গিয়ে করা যায়, তাহলে তো সবার লাভ। পরিবেশের লাভ, দেশের লাভ, কোম্পানির লাভ, পরিবারের লাভ। সবার জন্য উইন উইন হতে পারে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।

ঢাকার জ্যাম: ঢাকার জ্যাম কমাতে মানুষের টাকায় প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট হয়েছে। জ্যাম আরও বেড়েছে। জ্যাম কমানোর কোনো কৌশলই কাজ করছে না। এক্সপার্টরা বলছেন, স্পষ্ট করে- এসব ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল ঢাকার জ্যাম কমাবে না যদিও বিপুল ব্যয় হচ্ছে। ঢাকার জ্যাম আইসিইউতে চলে গেছে। ঢাকার জ্যাম কমাতে পারে আসলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম অথবা hybrid workplace system. ব্যাংকগুলোতে মানুষের ভীড় না কমার কারণ নেই। অনেক অফিসের অনেক কাজ অফিসে না গিয়েও করা যায়। যদি তা ২০ শতাংশও হয়, তবুও তা জ্যাম কমাবে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহে অন্তত ১ দিন অনলাইন ক্লাস চালু রাখা যায়। সপ্তাহের মাঝের দিন হতে পারে, শেষের দিন হতে পারে। পাতাল রেলের সম্ভাব্য ব্যয়ের লাখ লাখ কোটি টাকা যদি অনলাইন সিস্টেমে ব্যয় করা হয়, এমন সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে নিশ্চয়ই ঘরে বসে ঢাকা বা অন্য শহরের মানুষ ৫০ শতাংশ কাজ করতে পারবে অন্তত। তাতেও তো জ্যাম কমবে।

গার্মেন্টসে জনবল সংকট : এটা কিন্তু ভয়াবহ বিপদের কথা যদি এটি চলতে থাকে। জনবল সংকট কখন কতোটা হবে, তা অর্থনীতিবিদ আর জনসংখ্যাবিদদের সঙ্গে আলাপ করে অনেকটাই আগাম ধারণা করা সম্ভব। সব সেক্টরে দক্ষ জনবলের সংকট তো এমনিতেই আছে। তবে গার্মেন্টস এর বিষয়টা সবচেয়ে সিরিয়াস ইস্যু। কারণ আমাদের রিজার্ভ লাগবে। রিজার্ভ বাড়ানোর ২টা মাত্র জায়গা আছেÑ রেমিটেন্স আর গার্মেন্টস। দক্ষ জনবলে সংকট হলে লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা হয়েছে, তার ব্যবহার হবে কীভাবে? রিজার্ভ না বাড়লে বিশাল বিশাল মেগা ঋণের সুদাসল দিবো কোথা থেকে? এছাড়া ৫০ বছর পরে যে আমরা রেমিটেন্সের স্যাচুরেশনে চলে যাই নাই তাই বা বললো কে? রেমিটেন্স কমছে। যে হারে মানুষ বাংলাদেশ ছাড়ছে, ইতালিসহ নানা দেশের প্রবাসীরা তাদের পরিবার নিয়ে চলে যাচ্ছে, তা রেমিটেন্স আগামীতে আরও কমবে। বরং এই পরিবারগুলো প্রচুর সম্পদ উলটো দেশ থেকেই নিয়ে যাবে। গার্মেন্টসের আয় বাড়ার হার স্লো হয়ে যাবে যদি জনবল সংকট চলতে থাকে। আর হ্যাঁ, তরুণ জনসংখ্যা সস্তায় পাওয়া গেছে বহু বছর। আর বেশিদিন পাওয়া যাবে না।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারিনি, যেখানে ভিয়েতনাম ২০ বছর যুদ্ধ করে আমাদের অনেক পরে শুরু করেও রপ্তানি করে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার। দুনিয়ার অন্য দেশ কিন্তু বহু এগিয়ে গেছে। গার্মেন্টস আর রেমিট্যান্স তরুণ জনসংখ্যার শ্রম আর তাদের জীবন যৌবনের সর্বোচ্চ ত্যাগের উপর চলেছে বহু বছর। সময় কিন্তু আর বেশি নেই। ঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই তরুণ জনসংখ্যা দিয়ে আমরা হয়তো ৫০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারতাম। সেই তরুণরা কিন্তু ৩০+ হওয়া শুরু করেছে, ২০৩০ সালের পরেই একটু একটু দেখা যাবে বাংলাদেশে ৩০+, ৪০+ মানুষের বিপুল সংখ্যা। অর্থনীতির কেমিস্ট্রি কিন্তু পুরো পাল্টে যাবে। আগে থেকে তৈরি হতে হবে। আর বিশাল ঋণের চাপ জনগণকে নিতে বেশ কষ্টই করতে হবে আগামীতে, তা অনেকটাই নিশ্চিত। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়