শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২২, ০১:৫৪ রাত
আপডেট : ১৫ মে, ২০২২, ০১:৫৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিঝুম মজুমদার : শ্রীলঙ্কা সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো মিলই নেই

নিঝুম মজুমদার

নিঝুম মজুমদার: শ্রীলঙ্কার সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশের আসলে কোনো মিলই নেই। এটা যেমন বলা হচ্ছে অর্থনৈতিক বিদগ্ধ এক্সপার্টদের তরফ থেকে তেমনি রাজনৈতিক অনেক পর্যবেক্ষকও এই মিল খোঁজাকে অতিরঞ্জন বলছেন। কিন্তু একটি কোয়ার্টার থেকে শ্রীলঙ্কার এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের চিত্রকে ক্রমাগত বাংলাদেশের মধ্যে ফেলে কীভাবে কীভাবে যেন গরু রচনাকে নদী রচনায় নিয়ে এসে ফেলছে, এটাও এক বিস্ময়ের ঘটনা।

আমাদের দেশের মানুষদের যে আত্নপরিচয়ের সঙ্কট রয়েছে সেটি আমাদের শৈশব থেকে ‘বাংলাদেশ ভারত হইয়া যাইবো’ কিংবা ‘ভারতের কাছে বাংলাদেশ বেইচা দিসে’ এই দুইটি কান পঁচানো সংগীতের দিকে নজর দিলেই স্পস্ট বুঝতে পারা যায়। আত্মপরিচয়ের সঙ্কট বলেছি যে কারণে সেটি হচ্ছে এই জাতি এখনো নিশ্চিত নয় যে এরা শুধু বাঙালি নাকি বাংলাদেশি নাকি বাঙালি মুসলিম নাকি বাংলাদেশি মুসলিম। এইসব চিত্র আমি খুব কাছ থেকে দেখি যখন ইমিগ্রেশন কেইসে ছেলে-মেয়েদের আবেদনপত্র পূরণের মুহুর্ত আসে।

এথনিসিটি নির্ধারণের প্রশ্নে আমার দিকে তাকিয়ে করুন প্রশ্ন করে, ‘ভাই কি লিখবো?’আসলে নিজের একটা কংক্রীট আত্নপরিচয় ভেতরে লালন না করবার ফলে আশে পাশে যা দেখে সুবিধামতো সেটাই হয়ে যায় এই জনপদে। যেমন কাল যদি হন্ডুরাসে গরু উৎপাদন নিয়ে সমস্যা হয় কিংবা টমেটো নিয়ে সমস্যা, তাহলে কাল দেখবেন ওই একই কোয়ার্টার থেকে আওয়াজ আসবে, ‘বাংলাদেশের কৃষি হন্ডুরাস হয়ে গেছে’ এই এক জিনিস মুহূর্তই আরেক জিনিস হয়ে যাবার এমন অলৌকিক ঘটনা আমাদের একেবারে ঘরেও পৌঁছে গেছে সেই শৈশব থেকে। পাশের বাসার ফার্স্ট বয়কে দেখিয়ে যেমন বাবা-মায়েরা বলতো ‘তুমি তো অমুক হইতে পারলা না’ কিংবা এলাকার মাস্তানকে দেখিয়ে বলা, ‘তুইতো লেদার লিটন হবি’, ব্যাপারটা আসলে এমন। ওগুলো ছোট অর্থে। শ্রীলঙ্কা, ভারত, হন্ডুরাস আরেকটু বড় পরিসরে। এই আর কি। লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ এই যে কালের বিবর্তনে ভারত হয়ে যাচ্ছে কিংবা এখন শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে, মাঝে শুনেছি ইরাক হয়ে গেছে কিংবা বছর পাঁচেক আগে সিরিয়া বা সুদান হয়ে যাবার এইসব গল্পকথা দেশে এত তৃপ্তি ও শক্তিশালী বিশ্বাস নিয়ে চক্রাকারে ঘুরবার মূল কারণ হচ্ছে এই জনপদের লোকজনরা পড়ালেখা করতে এক ধরনের অনীহা বোধ করে। খুব বেশি কিছু করতে হয়না।

গুগোলে গিয়েই যদি টাইপ করা যায়, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রাইসিস’, কিংবা ‘রিজন বাহাইন্ড শ্রীংলঙ্কান ক্রাইসিস’ তাহলেই মোটামুটি ল্যাটা চুকে যায়। আরেকটু প্রো লেভেলে পড়তে হলে ফরেন এফেয়ার্স, টাইম, ইকনোমিস্ট জাতীয় ম্যাগাজিন পড়লেও পুরো ব্যাপারটা সম্পর্কে একটা সম্যক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশিরা এই জ্ঞান লাভে খুব একটা আগ্রহী নয়। এখানে যা হয়, সেটা হয় শোনা কথা থেকে। একজন প্রথমে খুব মন দিয়ে শোনে। তারপর সেটার হয় ভুল না হয় ইচ্ছেকৃত মিথ্যে প্রচার করে। এবার সেই ব্যাক্তির নিজস্ব গাধা বন্ধুদের মাঝে সেটির নিরব বিতরণ চলতে থাকে। এই বিতরনের মাঝে কয়েকটি ধূর্ত ঢুকে পড়ে। ব্যাস হয়ে গেলো। গাধা আর ধূর্তে ধূল পরিমাণ। এইবার খালি বলতে থাকেন- বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে, বাংলাদেশ সিরিয়া হয়ে যাবে, বাংলাদেশ সুদান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ হন্ডুরাস হয়ে যাবে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ