শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২২, ০১:৪৯ রাত
আপডেট : ১৫ মে, ২০২২, ১০:২৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খাজা নিজাম উদ্দিন: গার্মেন্টস সেক্টরে জনবল সংকট এবং ‘আমি প্রকৌশলী, আপনি কি বেশি জানেন’!

খাজা নিজাম উদ্দিন

খাজা নিজাম উদ্দিন: আশ্চর্য হলেও সত্যি যে গার্মেন্টস সেক্টরে জনবল সংকট শুরু হয়ে গেছে। কেন? বলতে পারি, বিশ্লেষণ করে দিতে পারি। লাভ নাই। তাই আর দিলাম না। জনসংখ্যা বিজ্ঞানটা ভালোভাবে না বুঝলে এই সংকট বুঝা যাবে না। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসংখ্যার প্যাটার্নটা যে খুব গভীরপাবে প্রতিটি প্রকল্পে যেভাবে দেখা দরকার ছিলো, তা দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে। একদম আর্লি ক্যারিয়ার লাইফে কাজ করতাম বিশ্বব্যাংকের এক সৌশিলজিস্ট এর সাথে। তার কাছে সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে আমার আগ্রহ জন্মে এবং আরও ৪ বছর সমাজবিজ্ঞান নিয়ে ব্যাপক একাডেমিক পড়াশুনা করেছিলাম। যাই হোক, তাঁর সাথে প্রায়ই বড় বড় প্রকৌশলীদের ঝগড়া লাগতো।

আমি তখন বুয়েট থেকে পাশ করা। আমার খুব গায়ে লাগতো যে বড় বড় অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা কীভাবে সেই সৌশিওলজিস্ট এর সাথে যুক্তিতে সুবিধা না করতে পেরে বলতো, ‘আমি প্রকৌশলী, ওমুক বিভাগের প্রধান, আপনি রিপোর্ট ছাড় দিচ্ছেন না কেন (রিপোর্ট ছাড় না দিলে বিল পাশ হতো না)? আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট এর কী বুঝেন?’ যাই হোক আমার বস বেশ ঠান্ডা মাথার ছিলেন। উনিও সৌশিওলজির তুখোর মেধাবী ছাত্র। 

তিনি বলতেন, প্রজেক্টের ইভ্যালুয়েশন তো আমি বুঝি, ইম্প্যাক্ট অ্যানালাইসিসও করতে হয়। জনসংখ্যার গত ৭০ বছরের ট্রেন্ড তো দেখছি। আপনার প্রজেক্টের সাইজের সাথে জনসংখ্যার ট্রেন্ড, সেখানে বিজনেস ফ্লো, যেসব রিটার্নের কথা লিখেছনে - তা বাস্তব সম্মত নয়। এদেশে অনেক কিছু হয় জনসংখ্যার প্যাটার্ন আর চাহিদা ঠিকভাবে প্রজেক্ট ডিজাইনে ইনসার্ট না করেই। আপনি লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু করলেন, দেখালেন ব্যাপক রিটার্ন- সেই দেখানোর মধ্যে কার কী হিসাব আছে, আল্লাহ ভালো জানেন। যদি দেখা যায়, সেই রিটার্ন আসলো না। তাহলে?

গার্মেন্টস এ অর্ডার বাড়ছে। রফতানি বাড়ছে। লোকবল বাড়ছে না। অনেকগুলো প্রশ্ন করা যায়। করছি না। আমেরিকায় গার্মেন্টস রপ্তানি বাড়ছে। রাজনীতি আছে এর মধ্যে। রাজনীতি না মিললে আমেরিকা কখন কী করে বুঝা যায় না। আপাতত রপ্তানির অনেক সুযোগ দিচ্ছে। আবার সুতা কখন টান দিবে কেউ জানে না। কেন বাড়ছে না বললেও, এটুকু বলে দেই, জনবল আর বাড়ার সম্ভাবনা বেশ কম। মানবসম্পদে আমরা গত ২৫ বছরে কী করেছি সবাই জানি। সমাধান একটা অংশের হবে- মানে কর্মকর্তা লেভেলে বিদেশ থেকে অনেক আনা যাবে।

তবে শ্রমিক লেভেলে? গার্মেন্টস তরুণ জনসংখ্যা নির্ভর একটি সেক্টর। তরুণরা যে শ্রম দিয়ে গার্মেন্টস থেকে যা পায়, তা তারা অন্য সেক্টর থেকে যদি বেশি পায়? যদি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ে, কারণ সরকারের আগামী ৫/৭ বছরে প্রচুর রিজার্ভ লাগবে, সরকার জানপ্রাণ চেষ্টা করবে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর জন্য। যে তরুণ জনসংখ্যার উপর দুনিয়ার প্রতিটি উন্নত দেশ উন্নয়নটা ঘটিয়ে ফেলে, অনেকবার বলেছি- বাংলাদেশের জন্য এটা ‘মিসিং লিংক’ হয়ে গেছে। প্রতি ১০০ বছরে তরুণ জনসংখ্যার যে প্রবাহ তা ১ বার পাওয়া যায়। বাংলাদেশও পেয়েছিলো। সেই প্রবাহকে দেশে না খাঁটিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে আমরা রেমিট্যান্সের আশায় বসে থাকি।

এই পপুলেশন ডিভিডেন্ড হলো Golden asset. সেই অ্যাসেট যারা সময়মত বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে কাজে না লাগিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে রেমিট্যান্সের আশায় খুশি হয়েছেন, তাদের সেই খুশির দিনও কিন্তু শেষ হয়ে আসছে। কারণ Golden asset এর প্রবাহ আর বেশিদিন নাই। তরুণ জনসংখ্যার সুবিধাটা আর বেশিদিন নাই। গার্মেন্টস হয়তো ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলারেই স্থির হয়ে যেতে পারে। এবং রপ্তানি বলতে তো আমাদের সেই গার্মেন্টসি আছে। আর রেমিট্যান্স? তাও কিন্তু তরুণ জনসংখ্যা নির্ভর। কাজেই সেখানেও ভাটার টান শুরু হবে একটা সময়ের মধ্যেই, তা নিশ্চিত। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ