শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২২, ০১:৪৬ রাত
আপডেট : ১৫ মে, ২০২২, ১০:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদ আহমেদ: বিরোধী দলে থাকলে আওয়ামী লীগকে অনেক বেশি আপন লাগে!

ফরিদ আহমেদ

ফরিদ আহমেদ: বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে আমার একটা ব্যক্তিগত পছন্দ আছে। আমি আওয়ামী লীগকে সবসময় বিরোধী দল হিসাবে দেখতে চাই। এই দলটা শাসন ক্ষমতা হাতে পেলে যে ধরনের রূপ গ্রহণ করে, আর বিরোধী দলে থাকার সময়ে যে চেহারা দেখায়, সেটা পুরোপুরি ভিন্ন। বিরোধী অবস্থানের আওয়ামী লীগ অনিন্দ্য সুন্দর এক দল, ক্ষমতার আওয়ামী লীগ কিম্ভূতকিমাকার এক কদর্য প্রাণ। তবে, এই কথার অর্থ এই না যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য যে রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে আছে, তারা ক্ষমতায় গেলে খুব ভালো কাজ করে বা তাদের রূপবান চেহারা আমরা দেখি। বাংলাদেশের ইতিহাসে, শুধু সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনের তিন মাসকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগই বাংলাদেশকে সবচেয়ে ভালোভাবে চালিয়েছে। সেই সময়কালটা হচ্ছে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ বা ১৯৯৯ পর্যন্ত। 

এর আগেও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসন ক্ষমতায় ছিলো। তবে সেই স্মৃতি ভুলে যেতে পারলেই ভালো। এটা সত্যি যে সে সময়কালটা কঠিন একটা সময় ছিলো। দেশ সদ্য স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানিরা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে। ওই  ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশকে টেনে তোলাটা ভীষণ রকমের একটা কঠিন কাজ ছিলো। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়েও বলবো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ সেই সময়ে ভালোভাবে দেশকে চালাতে পারেন নাই। অসংখ্য অসংখ্য ভুলে ভরা সিদ্ধান্ত তাঁরা তখন নিয়েছেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় থাকলে, তারা দেশ ভালোভাবে চালায় না। সেই ইতিহাস নেই আমাদের দেশে। কিন্তু জনগণের জন্য বড় একটা শক্তির জায়গা হিসাবে থাকে আওয়ামী লীগ। এই দলটার অসংখ্য নিবেদিত প্রাণ কর্মী বাহিনী আছে। এরা দলের সাথে প্রচণ্ড রকমের আবেগী সম্পর্কে আবদ্ধ। এদেরকে দিয়ে খুব সহজেই অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করা যায়। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা মানেই শাসক দলের জন্য মাথাব্যথা। যেকোনো কিছু করতে গেলে তাদের বেশ কয়েকবার ভাবতে হয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে, এই বিষয়টা ঘটে না। বিএনপির আন্দোলন করার মতো কর্মী বাহিনী নেই। দলটা গড়ে উঠেছিলো সামরিক শাসকের হাতে। ফলে, এখানে নানা ধরনের সুবিধাবাদী অংশ গিয়ে জড়ো হয়েছিলো। এদের একক কোনো আদর্শ ছিলো না। ফলে এরা কখনোই দলের সাথে আবেগী কোনো সম্পর্কে জড়ায়নি। স্বার্থ আর আওয়ামী বিরোধী মানসিকতা, এই দু’টো মাত্র কমন ফ্যাক্টর দলের নেতা-কর্মীদের একটা ছাতার নীচে আটকে রেখেছে। আটকে রেখেছে, কিন্তু আন্দোলন করার জন্য এটা খুব একটা শক্তিশালী টনিক না। যে কারণে আওয়ামী লীগ বহু অন্যায় করার পরেও বিএনপি কোনো আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারছে না। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে এখন আন্দোলন করার আগেই কোমর ভেঙে দেওয়া হয়। তারপরেও বলবো, বিএনপি শাসন ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের এই রকম কোমর ভেঙে দিলেই এই দলটার কর্মীরা ঠিকই ফণা তুলতো সেই কোমর ভাঙা অবস্থাতেও।

এর মূল কারণ হচ্ছে, পাকিস্তানের প্রায় পুরো সময়টা আওয়ামী লীগ পাকিস্তানি শাসক এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছে। যে কারণে এর কর্মীরা একটা সুস্পষ্ট আদর্শের ছায়াতলে এসে এই দলের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে। এটা তাদের দলের প্রতি নিবেদিত হতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের গত একান্ন বছরের রাজনীতি দেখার ফলশ্রুতিতে, এটাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আপনাদের  মতামত কিংবা বিশ্লেষণ হয়তো ভিন্ন হবে এ ব্যাপারে। সেটা মেনে নিয়েই বলছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসাবেই দেখতে চাই। ওই আওয়ামী লীগকে অনেক বেশি আপন লাগে। ক্ষমতার আওয়ামী লীগকে শুধু অচেনাই না, বিএনপির চেয়েও ভয়ঙ্কর এক দল বলে মনে হয়। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ