শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০২:২৩ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ১০:৩৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লুৎফর রহমান হিমেল

মূলত যোগ্যতা অনুযায়ী চাওয়া আর পাওয়ার পার্থক্যের কারনে ডিপ্রেশন সৃষ্টি

লুৎফর রহমান হিমেল

লুৎফর রহমান হিমেল, ফেসবুক থেকে: ‘চোরাবালির মতো ডিপ্রেশন, মুক্তির পথ নেই’ এরকম বক্তব্য লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া তাবাসসুম আত্মহনন করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একজন ভার্সিটি শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়ায় বিষাদ ভর করল মনে। এর আগে মঙ্গলবারই হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অমিত কুমার বিশ্বাস। অমিত লিখেছে, ‘আমার মস্তিষ্কই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী।’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, এটি দিনের মতো সত্যি ঘটনা। গত দুই বছরে দুই শতাধিক ভার্সিটি শিক্ষার্থী নিজেদের এভাবে পৃথিবীর মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। অনেক খবর পত্রিকায় আসেনি যদিও।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই শিক্ষার্থীরা সবাই মেধাবী। কিন্তু এরা যথেষ্ট চালাক না। (অনেকে চালাকি আর মেধাকে এক করে ফেলে।) এরা কিছুটা চালাক হলে পরে নিজেকে এভাবে শেষ করে দিতে হতো না। চালাকরা কখনো আত্মহত্যা করে না। করবার প্রয়োজন পড়েও না। কিন্তু মেধাবীরা যথেষ্ট যোগ্য হয়েও যখন দিনের পর দিন বঞ্চিত হতে থাকে, তখন নিজেকে শেষ করে দেওয়ার অন্তিম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় পারিপার্শ্বিক অবস্থাদৃষ্টে আমার বারবার বলতে বা লিখতে ইচ্ছে করে, হে তারুণ্য, তোমরা যথেষ্ট চালাক হয়ে উঠো। এই চাতুরতায় পরিপূর্ণ এই সময়ের পৃথিবীতে একটু চতুর না হলে টিকতে পারবে না। তোমাকে টিকতে দেবে না। আর যদি চালাক হতে নাইবা চাও, যারা তোমার বঞ্চিতকারী, তাদের মাথায় একটা বাড়ি মেরে তারপর না হয় পৃথিবীকে বিদায় জানাও।

কিন্তু এভাবে লিখতে পারি না। বলতেও পারি না। কাউকে চালাক হওয়ার বা কারুর মাথায় বাড়ি দেওয়ার পরামর্শ এভাবে দেওয়া যায় না। আমি নিজের অভিজ্ঞতাতেও ত দেখেছি, অন্যের কৃতিত্ব চুরি করে নিয়ে লোকে কীভাবে সফল হয়েছে! ওভাবে ভাবলে কিন্তু আমার নিজেরও তো অসংখ্যবার আত্মহত্যা করবার কথা ছিল। কিন্তু নিজেকে নিজে প্রবোধ দিয়ে অতল থেকে বারবার ভাসিয়ে তুলি। আমি নিজেও যে বহু বঞ্চনার ভুক্তভোগী। আমি জানি, লড়তে হবে। কখনো কখনো লড়বার জন্য থামবার দরকার পড়ে। খারাপ সময়ে থেমে থাকাই শ্রেয়। তুমি কি দেখেছ, টেস্ট ক্রিকেটে যখন ভালো বল আসতে থাকে একের পর এক, তখন মেধাবী ব্যাটাররা কিন্তু দেখে শুনে ডজনে ডজনে বল ঠেকাতে থাকে, ছেড়ে দিতে থাকে। রান নেয় না। তাড়াহুড়ো করে না। জীবনটাও ওরকম, একটা টেস্ট ক্রিকেটের মতো। আমি জানি মূলত যোগ্যতা অনুযায়ী চাওয়া আর পাওয়ার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয় ডিপ্রেশন। এই ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে চারপাশের লোভাতুর ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র। এই পার্থক্য ঘুচাবার জন্য বেশি করে দরকার তোমার ঘুরে দাঁড়ানোর। লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।

  • সর্বশেষ