শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০২:১৯ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ০২:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খালিদ খলিল:

চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংসের পেছনে কি শুধুই অশ্লীলতা?

খালিদ খলিল

খালিদ খলিল: [১] এক কথায়  না। তাহলে? অনেক বিষয় জড়িত। ছোট করে লিখতে গেলে বলতে হবে- কপিরাইট ও পাইরেসি, অশ্লীল ও অশালীন সিনেমা নির্মাণ, সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়া, সিনেমা নির্মাণে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, গল্প নির্ভর সিনেমার অভাব, সিনেমা সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে দুর্নীতি, দলীয়করণ, যোগ্য ও শিক্ষিত নির্মাতার অভাব, সিনেমা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কলুষিত রাজনীতি ইত্যাদি ইত্যাদি।

[২] আমরা জানি সিনেমা একটি জাতির স্মৃতি তৈরি করে। একসময় সাদাকালো বাংলা সিনেমার যুগকে বলা হতো ‘রুপালি পর্দার সোনালি দিন’। নব্বই দশক এবং তার কিছু আগে যখন রঙিন সিনেমা শুরু হলো তখন বলা হলো বাংলা সিনেমা শিল্পের ‘স্বর্ণযুগ’। আর বিংশ শতাব্দী থেকে শুরু হলো বাংলা সিনেমার ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’।

[৩] অশ্লীল ও অশালীন সিনেমা নির্মাণের হিড়িক যখন মহামারি আকার ধারণ করলো তখনি মুখ থুবড়ে পড়লো বাংলা সিনেমা শিল্প। আর এই ধ্বংসের পরিসমাপ্তি ঘটলো সিনেমা কপিরাইট ও পাইরেসির মধ্য দিয়ে।

[৪] চলচ্চিত্র শিল্প সত্যিকার অর্থেই প্রেক্ষাগৃহ শিল্পের উপাদান। অনলাইন হচ্ছে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির এক বাড়তি ব্যবসা করার মাধ্যম। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে চলচ্চিত্র শিল্প যখন একটু একটু করে এগোচ্ছে, তখন ১৯১৮ সালের আইনের কুঠারাঘাত।

[৫] সম্প্রতি জামালপুরে 'গলুই’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ডিসি মহোদয় বন্ধ করে দিয়েছেন ১৯১৮ সালের বৃটিশ আইন দেখিয়ে। ‘গলুই’ চলচ্চিত্রে শেকড়ের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। হারিয়ে যেতে বসা লোকঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে এই সিনেমায় তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। ‘গলুই’ একটি চমৎকার মৌলিক গল্প ও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো সিনেমা। পিরিওডিক্যাল রোম্যান্টিক গল্প সহজ সরলভাবে উঠে এসেছে এই সিনেমায়। এতে আছে প্রতিটি বাঙালির শেকড়ের গল্প, আরও আছে নৌকা বাইচের মতো প্রায় বিলীন হতে যাওয়া হারানো ঐতিহ্য। সেন্সর বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। তাহলে বন্ধ করে দেওয়া হলো কেনো? দেখা যাক ১৯১৮ সালের আইন। এই আইনে বলা আছে- ‘প্রেক্ষাগৃহ ছাড়া অন্য কোথাও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না’।প্রশ্ন হলো সিনেমা হল তো দেশে এখন আর নাই বললেই চলে। প্রদর্শক সমিতির তথ্যমতে, সাদাকালো যুগ পরবর্তী নব্বই দশকে দেশে হলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৫টির মতো। বর্তমানে সিনেমা হল কমতে কমতে সিনেমা হলের সংখ্যা ৬২টি তে দাঁড়িয়েছে। দেশে ২৫টি জেলায় এখন আর কোনও সিনেমা হলই নেই। তাহলে ছবি প্রদর্শন হবে কোথায়।

[৬] ‘গলুই’ চলচ্চিত্রটি জামালপুরের বিভিন্ন লোকেশনে শ্যুটিং। স্বাভাবিকভাবেই জামালপুরে ছবিটি দেখার হিড়িক পড়ে যায় এবং ছবিটি নিঃসন্দেহে পরিবার নিয়ে দেখার মতো। বাধ্য হয়ে সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য অনুমতি নিয়ে অন্য দুটি অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। তাতেই বিপত্তি। প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

[৭] সময় এসেছে, তা না সময় পার হয়ে গেছে- ১৯১৮ সালের এই আইন ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার। যখন সিনেমা হল ভেঙ্গে শপিং মার্কেট করার হিড়িক পড়লো, জানা মতে সে সব মার্কেটে একটা করে সিনেমা হল করার বাধ্যবাধকতা ছিলো। তবে জানা নেই- এটা আইন ছিলো কী না। না থাকলে আইন করা উচিত ছিলো। দেশের সিনেমা শিল্প বাঁচাতে হলে সিনেমা হলের বিকল্প নেই। এখনো সময় আছে আইন করে প্রতিটি শপিং মলে একটা অন্তত সিনেমা হল করা।

ইচ্ছা থাকলে ভালো সিনেমা করা যায়, আর দর্শক তা দেখতে ভীড় করে- ‘গলুই’ তার প্রমাণ। সিনেমায় অশ্লীলতা দূর করার সব মেকানিজম সরকারের হাতে আছে। যদিও অশ্লীলতা নির্ভর সিনেমাএখন অনেকটা কমে এসেছে। ভালো সিনেমা হচ্ছে। তবে সেন্সর বোর্ড শক্তিশালী করা, সেন্সর বোর্ডের দুর্নীতি দূর করা, যোগ্য চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের দ্বারা  সেন্সর বোর্ড গঠন, বিএফডিসি দুর্নীতি মুক্ত করা, সংগঠনগুলোর কলুষিত রাজনীতি বন্ধ  করা, সরকারি অনুদান বাড়ানো, বিএফডিসি’র আধুনিকায়ন, পীযুষদের মতো দুর্নীতিবাজদের বিচার, গডফাদার মুক্ত করা, সর্বোপরি চলচ্চিত্র নীতিমালা ঢেলে আধুনিকায়ন করা। বিএফডিসি আমলা মুক্ত করাও জরুরি, দলীয় বিবেচনায় বিএফডিসি প্রধান নিয়োগ বন্ধ করা। দেশে অনেক স্বচ্ছ চলচ্চিত্র বোদ্ধা আছেন যাদের বিএফডিসিতে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। কপিরাইট ও পাইরেসি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। 

 

  • সর্বশেষ