শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০২:১৫ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ১০:৩৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসান মোরশেদ

আওয়ামী লীগকে শ্রীলঙ্কার ভয় দেখিয়ে কুপোকাত করা যাবে, এমন কল্পনা রিজভী-ফখরুলও করেন না

হাসান মোরশেদ

হাসান মোরশেদ: আওয়ামী লীগ তো প্রায় সারাজীবন মাইর খাওয়া দল। ৭৩ বছরের রাজনীতিতে ক্ষমতায় ছিলো সব মিলিয়ে ২১ বছরের মতো। বাকি ৫০ বছরের অধিক মাইরের উপরই আছে। কাদের মাইর খাইছে আওয়ামী লীগ? ইস্কান্দার মীর্জা, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানের মতো পাকিস্তানি সামরিক জান্তা, জিয়াউর রহমান, এরশাদের মতো বাংলাদেশি সামরিক জান্তা, খালেদা নিজামী তারেক জিয়াদের মতো ম্যাগলোম্যানিয়াকদের। জনগণের মাইর খায়নি কোনোদিন আওয়ামী লীগ।

এই দেশের জনগণ কি শাসকদের মাইর দেয় নাই কোনোকালে? দিছে তো। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিচারকদের এজলাস, ঘরবাড়ি- পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছে পাকিস্তানি দালালেরা। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে মাইর দিয়েছে এরশাদের সাঙ্গপাঙ্গদের, ল্যাংটা করে পিটানো হয়েছে এরশাদের মন্ত্রীদের।

মাইর দেওয়া হয়েছে রাজাকারদের, মানুষ পিটিয়েছে কানসাটে ফুলবাড়িতেÑ বিএনপি আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। আওয়ামী লীগরে এনার্কির ভয় দেখিয়ে লাভ আছে? নকশাল, সর্বহারা, জাসদের গণবাহিনী আর জামাত শিবিরের এনার্কির মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ টিকে গেছে। মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতি সবচেয়ে বিশ্বস্ত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারগুলো। প্রায় দেড় লক্ষ পরিবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাতাসহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন এসময়ে। সুবিধা না পেলেও রক্তের টানে এঁরা বিশ্বস্ত। দুই ডিসিমিল জায়গার মালিকানাসহ পাকা ঘর পেয়ে গেছেন লক্ষাধিক পরিবার, মোট নয় লক্ষ পাবেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ১০ টাকা কেজি চাল, ভিজিডি কার্ডের চাল- প্রতি ইউনিয়নে গড়ে দুই হাজার মানুষ উপকারভোগী হলে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে সরাসরি উপকারভোগী প্রায় এক কোটি মানুষ।

তর্কের খাতিরে বলা যেতে পারে, এই উপকারভোগীরা কেনো আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে, যেকোনো সরকারেই এসব সুবিধা পাবে। এর আগে জানতে হবে, এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কোন সময়ে চালু হয়েছে, কোন সময়ে বিকশিত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিলো, কারণ এগুলো শেখ হাসিনার চালু করা ছিলো।

দেশের মোট ভোটারের ৩০% (+) চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগ ছাড়েনি, ছাড়বে না। আওয়ামী লীগ তার এসব রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক পুঁজি ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারবে কিনা, বর্তমান আওয়ামী লীগের সেই দক্ষতা ও মনোযোগ আছে কিনা- এ নিয়ে আমার নিজের সন্দেহ আছে। সে অন্য আলাপ। কিন্তু আওয়ামী লীগকে শ্রীলঙ্কার ভয় দেখিয়ে কুপোকাত করা যাবে- এ কল্পনা আসলে রিজভী-ফখরুলও করেন না।

লেখক: লেখক ও গবেষক

  • সর্বশেষ