শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০২:১২ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ০২:১৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রাত্য রাইসু:

সামাজিক দর্শন ছাড়া গ্রেট উপন্যাস হয় না

ব্রাত্য রাইসু: সামাজিক দর্শন ছাড়া গ্রেট উপন্যাস হয় না, হবে না। আপনার উপন্যাসের পরে যদি সমাজ একই রকম থাকতে থাকে, আপনি আরামদায়ক উপন্যাস লিখছেন বটে, তা গ্রেট নয়। ভাষা, বাকভঙ্গি ও বর্ণনার মাধ্যমে সমাজ বদল গ্রেট উপন্যাসের বেসিক কাজ। সমকালীন ভাষা, ধারণা, ঘটনা ও সমসাময়িক ভবিষ্যৎকে আয়ত্ত কইরা সমকালীনতাকে ছাড়াইয়া যাওয়া। নতুন ভাষা, ধারণা ও নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ। সর্বোপরি নতুন ধরনের পাঠকের আবির্ভাব ঘটবে আপনার উপন্যাসের কারণে। কিন্তু সামাজিক দর্শন তৈরি করতে গিয়া, নতুন দিন রচনা করতে গিয়া, অধিকাংশ ঔপন্যাসিকই বর্তমানের বিরোধিতা ও বিবিধ বৈচিত্র্যের সহজ রাস্তায় সওয়ার হন। বৈচিত্র্য বর্তমানেরই বিষয়।

[২] কালচার জিনিসটা সামগ্রিক কিছু না। সবটা মিলাইয়াও কালচার না। কালচারের সহাবস্থান হয়। সব কালচার থিকা সব কালচারের নিতে হবে এই আবদারের বেইল নাই। আর যখন ‘সব কালচার’ বলবেন তখন আলাদা আলাদা কালচাররে স্বীকার করতে হয় অগ্রে। বিগ্রহ নির্ভর মঙ্গল শোভাযাত্রারে হিন্দুর জন্যে গ্রহণ করা যত সহজ মুসলমানের কালচারে তা নিয়ে নেওয়া তত সহজ না। এখন একটা বিগ্রহ নির্ভর শোভাযাত্রারে যখন সংখ্যাগুরু সমাজরে খাওয়াইতে ধরবেন রাষ্ট্রের তরফে সেইটা নেওয়া না, নেওয়ানো। রাষ্ট্র চাপ দিয়া মুসলমানদেরকে বিগ্রহ খাওয়াইলেই তারা যখন না খাবে তখন বলার কিছু নাই এরা উগ্রপন্থী। বিষয়টা হইল, এইটা তাদের কালচারে যায় না। হিন্দু জনগোষ্ঠী যদি তাদের নিজের জন্যে এই রকম শোভাযাত্রার কালচার তৈরি করতে চায় মুসলমান সমাজ তাতে কোনো বাধা দিচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের। তাতে রাষ্ট্রের অগ্রে ঘোষণা করতে হবে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা জিনিসটা সকলের জন্যে নয়, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর। তা তারা কেন করছে না, বিগ্রহ কেন নেওয়াইতে চায় অনিচ্ছুক মুসলমানদের? এইখানেই ‘বাদ দিয়ে বাদ দিয়ে’ কালচার হয়। সর্ব ধর্ম সমন্বয় কোনো কালচার না, তা কালচারের মৃত্যু।

ফেসবুক থেকে 

 

  • সর্বশেষ