শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০১:৫৩ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ১০:৫০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: দেশে বিশ্বমানের একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট দরকার

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: নিউটন বা আইনস্টাইন যদি তাদের গবেষণা কাজ শেষে প্রকাশ করে মানবজাতির জন্য রেখে না গিয়ে যদি পুড়িয়ে ফেলতেন কেমন হতো? ওই গবেষণার কোনো মূল্য থাকতো না। ওই গবেষণা দ্বারা কাজ হতো শূন্য। এই জন্যই পদার্থবিজ্ঞানে কাজের একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে। বল প্রয়োগ করলেই কাজ হয় না। বলের দ্বারা বলের দিকে সরণ  হতে হবে। গবেষণা নামক বল দ্বারা মানুষের উপকার হতে হবে। এই উপকার নানাভাবে ঘটতে পারে। মনে রাখতে হবে যে কাজের সফলতা দিনশেষে মানুষ মাপবে। তাই যেই কাজ মানুষের কল্যাণ করবে না মানুষ তাকে মূল্যায়নও করবে না। 

তাহলে মানুষের কাজে না আসলে সেই জ্ঞান উৎপাদনের কোনো অর্থ হয় না। মানুষের উপকারের প্রশ্ন যখন আসে সেই মানুষরা কারা? উপকার কোন মানুষের করতে হবে সেটারও হায়ারার্কি আছে যেমন প্রথম বৃত্তে ঘর, তারপর আমার সমাজ, এরপর আমার দেশ এবং সবশেষ সারা বিশ্ব। এই জন্যই চাইনিজ নোবেল বিজয়ী সি এন ইয়াং সারা জীবন আমেরিকায় কাটিয়েছেন কিন্তু প্রতি বছর অন্তত ৩ মাসের জন্য একদল বিশ্বসেরা পদার্থবিদ বন্ধুদের নিয়ে চীন যেতেন। উদ্যেশ্য নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের উন্নতমানের পদার্থবিদ বা গবেষক হতে সাহায্য করা। একই কাজ এখন করছেন গণিতে নোবেল খ্যাত ফিল্ড অ্যাওয়ার্ড জয়ী প্রথম চীনা গণিবিদ হার্ভাডের অধ্যাপক ইয়াউ শিং-তুং।

তিনিও প্রতিবছর ৩ মাসের ছুটিতে নিজ দেশ চীন চলে যেতেন। কারণ যাহাই করি না কেন নিজ দেশের মানুষদের জন্য কিছু না করলে কাজের মূল্যায়ন হয় না। আমাদের বাংলাদেশের যারা ইউরোপ আমেরিকায় ভালো কাজ করছেন তাদের বন্দনা কিছুটা করলে আমরাই করি। 


অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম ঠিক কাজটিই করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আপন দেশের প্রতি দায়িত্ব। এসেছিলেন বলেই আমরা উনাকে স্মরণ করি। প্রতিবছর উনার জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন নিয়ে আমরা লিখি। যদি না আসতেন আমরা কী এতটা স্মরণ করতাম? উনি যদি দেশে না এসে ইংল্যান্ডেই থাকতেন তারা কী তাকে স্মরণ করতো? হ্যা, খুব বিশাল কিছু হয়ে গেলে তখন কেউ আর কোনো দেশের থাকেন না। তারপরেও নিজ দেশের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি স্মরণ ও মূল্যায়ন করবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে জামাল নজরুল ইসলাম এসে পড়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে দেশের কল্যানে কাজে লাগানো হয়নি। তার মাধ্যমে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট করে সেখানে দেশ বিদেশের বিখ্যাত গবেষকদের এনে একটি শক্তিশালী পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করে দেশে গবেষণার একটা পরিবেশ তৈরি করা যেত। তাহলে একদিকে জামাল নজরুল ইসলামও আরও অনেক গবেষণা করতে পারতেন এবং একইসাথে উনার বিশ্বপরিচিতিকে ব্যবহার করে বিখ্যাত গবেষকদের গেস্ট হিসাবে নিয়মিত আনা যেত। 

এখনো আমাদের দেশের অনেক বড় বড় গবেষক ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। আমাদের সরকারের উচিত তাদের যথোপযুক্ত সম্মান দিয়ে নিয়ম করে প্রতিবছর যেন অন্তত ৩ মাস এখানে এসে দেশের গবেষকদের সাথে collaborate করে কাজ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করা। যার জন্য প্রথমে যেটি প্রয়োজন সেটি হলো দেশে একটি বিশ্বমানের গবেষণা ইনস্টিটিউট তৈরি করা। যেখানে অতিথিদের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থার জন্য বিশ্বমানের একটি গেস্ট হাউস থাকবে। এই কাজ আমরা যত দ্রুত করব দেশ তত দ্রুত উন্নত হবে এবং এই উন্নয়নই হবে আদর্শ টেকসই উন্নয়ন।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ