শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট, ২০২২, ০২:২৬ রাত
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২২, ০২:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নারী সঙ্গী পেতে পুরুষরা কেন নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে?

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম: খেয়াল করেছেন ময়ূর (পুরুষ) তার নারী পক্ষকে আকর্ষণ করতে জমকালো বর্ণিল পেখম মেলে আহ্বান করে। শুধু ময়ূর নয়, অন্যান্য প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে ও দেখা যায় নারী সঙ্গী পেতে পুরুষ বিভিন্ন লোভনীয় অফার করে থাকে  অন্যদিকে নারী খুজে যোগ্যতম পুরুষ। ফলে কাঙ্ক্ষিত নারীর সঙ্গ পেতে পুরুষকে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। কিন্তু কেন? বিবর্তনবাদীরা মনে করেন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ‘বিনিময়’ মূল্যের জন্য দায়ী। কেন পুরুষরা মন ভোলানোর চেষ্টা করে আর স্ত্রী লিঙ্গ বাছাই করার সুযোগ পায়? 

উত্তর হচ্ছে পুং লিঙ্গের ও স্ত্রী লিঙ্গের প্রজনন কোষের আকারের তারতম্যের জন্য। কোটি কোটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পুরুষ জনন কোষ ‘শুক্রাণু’ ছুটে যায় তারচেয়ে বহুগুণে বড় স্ত্রী জনন কোষ ‘ডিম্বাণুকে’ নিষিক্ত করতে। কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে মাত্র একটি ‘সৌভাগ্যবান’ শুক্রাণু সে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করতে পারে। এই জনন কোষের আকারের অসাম্যতাই সব যৌন নির্বাচনের মঞ্চ তৈরি করে।

বৈষম্যসূচক বিনিয়োগ : গর্ভ ধারণের সময়ে বিনিয়োগ -এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করুন গর্ভ ধারণের সময়ে স্ত্রী সদস্যরা নিষিক্ত ডিম্বাণু তাদের শরীরে ধারণ করে ও এর পুষ্টি প্রদান করে (পুরুষরা শুক্রাণু দিয়েই খালাস)। দ্বিতীয়ত ‘সন্তান প্রতিপালনের সময়ে বিনিয়োগ’ : সন্তান জন্মের পর তার প্রতিপালন ‘বেশির ভাগ’ ক্ষেত্রেই নারীরা দায়িত্ব নিয়ে থাকে (পুরুষ তো দুধ দিতে পারে না)। এসব কারণে স্ত্রীরা বাছাই করে ‘যোগ্যতম’ সঙ্গী যাতে তার ও সন্তানের সার্বিক ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা দিতে পারে। আর পুরুষদের নারীদের মন ভুলাতে হয় ও নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। এ কারণে পুরুষ হয় ‘বহুগামী’ আর স্ত্রীরা হয় ‘সাবধানী’, সহজে যারা ধরা দিতে চায় না (তবে স্ত্রীরাও বহুগামী হতে পারে, তবে সেটি নিয়ম নয়,ব্যতিক্রম)। [৩] স্ত্রীরা নাকি তাদের স্নায়ুতন্ত্রে ইতিপূর্বে বিদ্যমান ‘পক্ষপাতিত্ব’-এর জন্য ‘যোগ্যতম’ পুরুষ বাছাই করতে চায়। লেখক: মনোবিদ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়