শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট, ২০২২, ০২:২৪ রাত
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২২, ০২:২৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ আর আজহারের নাম কেউ করে না, করে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের!

রাজিক হাসান

রাজিক হাসান: আজহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স পুরো-পাক্কা এক হাজার বৎসর। অক্সফোর্ড, কেম্ব্রিজ, প্যারিস, বার্লিন এর চেয়ে কয়েকশ বছরের ছোট। তবু আজ যে সব গুণীজ্ঞানীর নাম পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে তারা ওই সব ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আজহার থেকে যাঁরা বের হন তাঁদের নাম তো শুনতে পাই নে। হ্যাঁ, মনে, পড়লো, মিশরের গাঁধী বলতে যাঁকে বোঝায় সা’দ জগলুল পাশা ছিলেন আজহারের ছাত্র। কিন্তু আর কারো নাম শুনতে পাই নে কেন?

আশ্চর্য। মুসলমানেরা যখন স্পেন দখল করল তখন তারা সেখানে আজহারের অনুকরণে বিশ্ববিদ্যালয় গড়লো। প্যারিস ইউনিভার্সিটির গোড়াপত্তন যাঁরা করেন তাঁদের অনেকেই লেখাপড়া শিখেছিলেন স্পেনের মুসলমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং প্রথম দিককার পাঠ্যপুস্তকগুলো পর্যন্ত আরবি বই থেকে লাতিনে অনুবাদ করা। আজ আর আজহারের নাম কেউ করে না, করে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের। হায়, তাদের সৃজনী শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছে। কেন ফুরলো? তার একমাত্র কারণ, এক বিশেষ যুগে এসে এরা ভাবলেন, তাদের সবকিছু করা হয়ে গিয়েছে, নতুন কিছু করবার নেই, পুরনো পুঁজি ভাঙিয়ে খেলেই চলবে। এবং তার চেয়েও মারাত্মক কথা, তারা অন্যের কাছ থেকে আর কিছু শিখতে চান না। তাদের দম্ভ দেখে তাই স্তম্ভিত হতে হয়। আজহারের ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলুম, ‘তোমাদের বিশ^বিদ্যালয়ে ফিজিক্স কেমেস্ট্রি বটনি পড়ানো হয়?

সে শুধালে, ‘এ সব কি?’ অনেক কষ্টে বোঝালুম। সে বল, ‘ধর্ম শাস্ত্রে যা নেই, তা জেনে আমার কি হবে?’ আমি বললুম, ‘অতিশয় হক কথা। ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো গতি নেই কিন্তু ভ্রাত, তোমার পা যদি আজ আছাড় খেয়ে ভেঙে যায় আর ডাক্তার বলে, এক্সরে করে দেখতে হবে কোন জায়গায় ভেঙেছে, তখন ধর্মশাস্ত্রে এক্সরে-র কল বানাবার সন্ধান পাবে?’ জলে ডাঙায়, সৈয়দ মুজতবা আলী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়