শিরোনাম
◈ প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার: ক্রেনের চালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গার্ডার চাপায় নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে সোহরাওয়ার্দীর মর্গে ◈ উত্তরায় দুর্ঘটনা: শিশু জাকারিয়া জীবিত ছিল আধাঘণ্টা ◈ পুলিশের উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে: এমপি শম্ভু ◈ রাজধানীতে ক্রেন থেকে রড পড়ে ৫ পথচারী আহত ◈ চকবাজার ও উত্তরার ঘটনায় শোক জানিয়ে তদন্তের দাবি ফখরুলের ◈ মানবাধিকারকর্মীদের কথা শুনলেন জাতিসংঘের মিশেল ব্যাচেলেট ◈ উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনা: বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি ◈ খায়রুনকে লাথি মেরে সেই রাতে বাইরে যান স্বামী ◈ উত্তরায় প্রাইভেট কারের উপর ফ্লাইওভারের গার্ডার, নিহত ৫ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২২, ০২:১৬ রাত
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২২, ০২:১৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কোনো কিছুই আর এখন কোনো কিছুতে নেই!

লুৎফর রহমান হিমেল

লুৎফর রহমান হিমেল: শ্রাবণে তো ঝরঝর করে ঝরে শ্রাবণ বর্ষণধারা। কোথাকার কী। ধারা তো ধারা, ছিটেফোটা বৃষ্টিরও দেখা নেই। শ্রাবণে বর্ষণ নেই! বর্ষণহীন শ্রাবণ! এর বদলে আকাশ থেকে ঝরছে অগ্নিধারা। অগ্নিস্নানে ধরার অবস্থা এখন সারা। অবশ্য শ্রাবণকে দোষ দিয়ে কী হবে? অনেক কিছুতেই ত এখন অনেক কিছু ‘নেই’ হয়ে গেছে। দেশে বিদ্যালয় আছে বহু, কিন্তু বিদ্যা নেই। পড়ালেখা আছে বিস্তর, জিপিএ-৫ আছে, বড় বড় সনদ আছে; কিন্তু জ্ঞান নেই। ক্লাসমেট আছে বহু, কিন্তু বন্ধু নেই। বাজারভরা ফলমূল, তাতে পুষ্টির দেখা মেলা ভার। এর বদলে ফলে মেশানো আছে নানা জাতের কীটনাশকের বিষ। উপরন্তু হাইব্রিড ফল দেখতে মনোহর, দিচ্ছে না তারা কোনো স্বাদ। বেশি উদাহরনে যেয়ে কাজ নেই, শবরি কলার কথাই ধরুন। এককালে শবরি কলা পাকলে সুগন্ধে সারাঘর ম ম করতো। মানুষ সেসব দুধ-ভাতে গোগ্রাসে গিলতো। যেন অমৃত খাচ্ছে। এখন শবরি কলা নাকে ঘষলেও গন্ধ মেলে না। 

ছোট দেশ। সংবাদমাধ্যম সে তুলনায় কম নয়। কিন্তু সংবাদমাধ্যম থাকলেও সাংবাদিকতা কই? সম্পাদক হতে এ দেশে সাংবাদিক হতে হচ্ছে না। মোটের ওপর সাংবাদিকতায় সংবাদ নেই। নেতা আছে, নেতৃত্ব গুন নেই। এখন কর্মীর চেয়ে অবশ্য নেতা বেশি। সমস্যা আর সম্ভাবনার এই দেশ। প্রতিনিয়ত সমস্যার কথা নিয়ে কথা হচ্ছে। সমস্যা আছে, থাকবে। কিন্তু সমাধান নিয়ে কথা নেই। সমালোচনার নামে বিষোদগার হয়। বিষোদগার আর বিশ্লেষণ এক নয়। সমস্যা বিশ্লেষণের সাথে সাথে সমাধানের সূত্র দিতে হয়। কিন্তু সেই সূত্র কই? সূত্রের আলাপ নেই। কারণ সমাধান বাতলে দেওয়ার জন্য লাগে প্রজ্ঞা। জ্ঞানের উচ্চস্তরকেই বলে প্রজ্ঞা। যেহেতু জ্ঞানচর্চা নেই, তাই সেই প্রজ্ঞাবান লোকও নেই। 

প্রজ্ঞাবান লোকের কথা বাদই দিলাম, সাধারন মানুষেই এখন নেই মনুষত্ব। এ কারণে দু-চারজন ভাল মানুষের দেখা পেলে এখন তাঁদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে বলতে হয়, তিনি একজন মানবিক মানুষ। অথচ ‘মানুষ’ শব্দটির মধ্যেই মানবিকতার গুনটি উপস্থিত থাকবার কথা। মানবিক মানুষ শব্দবন্ধটি তাই ভুল। (বহু আগে এই ‘মানবিক মানুষ’ ধারনাটির কথা আমি লিখেছিলাম বেশ কিছু কলাম ও পোস্টে। আমি অখ্যাত মানুষ হলেও, আমার এই শব্দবন্ধটি অনেক প্রখ্যাত মানুষও দেখি এখন ব্যবহার করছেন। হয়তো ধারনাটি এরপর ছড়িয়ে গেছে। বা আমি ঠিক জানি না, আমারও আগে কেউ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে আসছেন কিনা।)

যাই হোক, এই ‘নেই’য়ের কথা ইদানিংই যে আলোচনা হচ্ছে, তা-ও নয়। বহু আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছে। যেমন কবি নজরুল তৎকালে তাঁর স্বজাতি মুসলমানদের মধ্যে মুসলমানিত্ব খুঁজে পেতে হয়রান হয়েছেন। তিনি বলে গেছেন, আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান (?)। অর্থাৎ পূর্ণ ঈমানের মুসলমানের বড় অভাব চলছে। তখনই যদি মুসলমানদের ওই দশা চলে থাকে এখন ত তাহলে ভয়ানক কাল চলছে মুসলমানদের। 

দোকানদাররা মুখে দাঁড়ি রাখছনে। এই দাঁড়িতে তার বিক্রি বাড়াচ্ছে। মাপে ঠকাচ্ছে, রঙে ঠকাচ্ছে, দামে ঠকাচ্ছে। দাঁড়িটা তার অন্যকে ঠকাবার অস্ত্র হয়ে উঠছে। আল্লাহর ভয়ডর তার অন্তরে নেই! এমন মুসলমানে ভরে উঠছে দেশ। আমি কোরআনে পড়া সেই বিনম্র আল্লাহর বান্দাকে খুঁজি। আমি সেই নিরহঙ্কার বান্দাকে খুঁজি। আল্লাহর ভয়ে ভীত সেই মিতব্যয়ী বান্দাকে খুঁজি। সেই শান্ত ধীর গভীর চিন্তাধারী মুসলমানকে খুঁজি। আমি সেই মুসলমানকে খুঁজি যে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে অন্যের তরে। সেই মুসলিমকে খুঁজি যে এতিমের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য নিজে না খেয়ে থাকছে। কিন্তু কোথা সে মুসলমান? প্রতিবেশীর খোঁজ রাখা সেই মুসলমান কই? নিজের বৃদ্ধ বাবা-মাকে কষ্ট পেতে না দেওয়া সেই মুসলমান কই? বিপদে ধৈর্য্য ধরা আর অন্যকে ধৈর্য ধরতে বলা সেই মুসলমান কোথায়? সৎ কাজের উপদেশ দেওয়া, নিজে সৎ থেকে অন্যকে বিরত থাকার অনুরোধ করা সেই মুসলমানরা কোথায় হারালো?

কেউ পড়ে মুসলমান হচ্ছে না। শুনে মুসলমান হবার চেষ্টা করছে। এ কারণে ভুল ওয়াজ শুনে এক শ্রেণির ‘শুইনা মুসলমান’ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘পইড়া মুসলমান’ বাড়ছে না। অথচ কোরআন মানে পাঠ, পঠিত, পাঠযোগ্য, পঠনীয়, পঠিতব্য। নবী হজরত মুহম্মদের (সা.) নিকট সর্বপ্রথম যে ওহি নাজিল হয় তার প্রথম শব্দই ছিল ‘ইক্রা’ মানে ‘পড়ো।’ (*ধর্মচিন্তা ও দর্শনে অন্য ধর্মেরও একই দশা এখন।) শুরু করেছিলাম শ্রাবণ মাস নিয়ে, মুসলমানে এসে ঠেকেছি! তাই আর বেশি আগাবো না। মানে আগালে আমিও আর আমার টপিকে স্থির থাকতে পারবো না! লেখক: সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ