শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২২, ১১:৪৩ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২২, ১১:৪৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে পুঁজি করে এদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: সাম্প্রদায়িকতা যে কী রকম ভয়ংকর জিনিস তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে  পেরেছে বাংলার মানুষ। আর এ কাজটি করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ বদলে যায়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার উত্থান ঘটানো হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং ১৯৭১-এর ঘাতক রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, আল-শামস, আল-বদরদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয়। অতি কৌশলে আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, শাসন ব্যবস্থা, জাতীয় স্লোগান অর্থাৎ সবকিছু বদলানো হয়। এরপর জঘণ্য কাজ হয়েছে এদেশে। বিএনপির জনক জিয়াউর রহমান এদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপন করে দিয়েছেন। আর এ কারণেই কুখ্যাত রাজাকার যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে তার দলের মন্ত্রী -উপদেষ্টা হতে  পেরেছে। আদালতের মাধ্যমে এসব যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের শাস্তি হয়েছে। আর সারা দুনিয়া জানে,  বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে এসব অপরাধীর শাস্তি হতো না। এটাই দিবালোকের মতো সত্য। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে পুঁজি করে বিএনপি ও সমমনাদলগুলোর উত্থান আর এদেশে হবে না।  কিছুদিন আগে শুনলাম আরেক ‘সাম্প্রদায়িক’ উচ্চারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে। 

‘স্বর্গ  থেকে নির্বাচন কমিশন আনলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।' গত মঙ্গলবার, এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘স্বর্গ’ শব্দটি বললেও ‘বেহেশত’ শব্দটি উচ্চারণ করার সাহস নেই তার। কিছুদিন আগে শুনলাম, গণস্বাস্থ্য  কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ  চৌধুরী আলেম-ওলামা ও বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে ১০ হাজার  লোক নিয়ে হাইকোর্ট  ঘেরাও কর্মসূচির  ঘোষণা দিয়েছেন। তার ভাষা ছিলো এরকম, ‘আজকে আমাদের একটা মাত্র দাবি দুই দিনের মধ্যে সব আলেম, রাজনৈতিক কর্মীসহ, খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আপনারা  তৈরি হন, ১০ হাজার  লোক নিয়ে হাইকোর্ট  ঘেরাও করব। ওদের জামিন ছাড়া এবার হাইকোর্টে  কোনো জামাত হবে না।’ 
দেশের মানুষ এবার বুঝুন, কী রকম লিংক সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে। যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন ধ্বংস করে দিলো তাদের পক্ষে সাফাই! একশ্রেণির হেফাজতের লোকেরা তাণ্ডব চালালো বিভিন্ন জেলায়,  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙলো,  সড়ক-মহাসড়ক তছনছ করলো। এসব অন্যায় করা কী ইসলামের নীতি ও আদর্শের পক্ষের  কাজ? 

এককথায় এটা কি ইসলামের পক্ষের কাজ? এর  চেয়ে ইসলামবিরোধী কাজ কী আর হতে পারে? যারা  এই ইসলামবিরোধী কাজ করছেন,  তাদের আবার   জেল থেকে  ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ! আবার তদবির করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে।  

সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,  হেফাজতে ইসলামের  নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে মিটিং করার সুযোগ পায়? এসব অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িতরা  কীভাবে মুক্তি পেতে পারে?  হেফাজত নেতা জঘণ্য মামুনুল হকের কারণে সুনামগঞ্জের  শাল্লার ঝুমন দাশের ওপর একেশ্রেণির লোক আক্রমণ চালিয়েছিল। উপজেলার  পুরো হিন্দু গ্রামে নয়াগাঁও  বর্বর আক্রমণ চালায় মামুনুলের অনুসারীরা। তছনছ করে ফেলেছিল সারা এলাকা। গ্রামের নিরীহ হিন্দুদের কী ধরনের অপরাধ ছিল যে, পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত , চুরমার করতে হবে!  কেনো করা হয়েছিল।  কেনো? শত শত বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিধ্বস্ত করা হয়েছিল। এদের ইন্ধনদাতারা কারা? সুতরাং এটাই আইনের শাসন যে, অপরাধ করলে বিচারের আওতায় আসতেই হবে। বাংলাদেশ পুলিশক সত্য আবিষ্কার করতে সময় দিতে হবে। 

এবার আসা যাক বিএনপির রাজনীতি নিয়ে। সত্যিকার অর্থেই এখন মনে হচ্ছে বিএনপির কোনো গণভিত্তি নেই। ভোট চুরি করা ও সিল মারা তাদের দলের কাজ ছিলো।   আসলে, বিএনপি কী চায় তা কখনো স্পষ্ট ছিল না, এখনো নয়।  দেশ,মানুষ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য খারাপ ও নেতিবাচক সকল অর্জন বিএনপির রয়েছে। বিএনপি ও এর সমমনাদলগুলো পদ্মা সেতু নিয়ে কী জঘণ্য বিরুদ্ধাচরণ করেছিল তা আমাদের সবারই জানা আছে। আর এখন? ঈদুল আজহা সামনে রেখে এদেশের মানুষ কী চাইছে! তারা দ্রুত বাড়িতে যেতে চায় নাড়ির টানে। ভীষণ জনপ্রিয় পদ্মা সেতু দেখা ও দ্রুত সময়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য দেশের ২১টি জেলার মানুষ ভিড় করছে বাসস্টেশনগুলোতে। অথচ বিএনপি উল্টোটা বলেছিল। এবার বিএনপি বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলেছে। সরকারের বিরুদ্ধে দলটির নেতারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। কী রকম হাস্যকর বিষয়। মূর্খ আর কাকে বলে? দুনিয়ার খবরাখবর না রাখা গেলে রাজনীতি হয়? সারা দুনিয়ায় বিদ্যুৎ সংকট চলছে। বিএনপি যে কোনো খবরই রাখে না এটাই আজ বড় প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পস্ট ভাষায় বলেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখাটাই কষ্টকর হয়ে  গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা ‘কঠিন হয়ে পড়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন  তিনি। শেখ হাসিনা বলেছেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশীয় পণ্যের দাম  যেমন বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি  যে সমস্ত পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে, তারও দাম বেড়ে যাচ্ছে।” দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছ থেকে রাজনীতি শেখা বিএনপির উচিৎ। মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। দায়িত্বহীন কথা উচ্চারণ করে রাজনীতিতে স্বস্তা জনপ্রিয়তা কামাই করার দিন শেষ। আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে আর সরকার পতনের হুমকি দিয়ে রাজনীতি চলে না। দলটি ইতিমধ্যেই নানাসময় কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা বলে হাস্যকর হয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উত্তপ্ত করে আর উস্কানীমূলক কথা ছিটিয়ে-ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ হবে অচিরেই। সত্য স্বীকার করতে জানে না বিএনপি, শেখ হাসিনা জানেন।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট  ও কথাসাহিত্যিক
 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়