শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২২, ০১:৫৮ রাত
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২২, ০১:৫৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কোরবানির কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ এবং কয়েকটি প্রশ্ন

রবিউল আলম

রবিউল আলম: একটি ছাগলের চামড়ার জন্য কম করে হলেও ২০-২৫ টাকার লবনের প্রয়োজন হয়। ১৫ টাকা কারিগর খরচ, ১০ টাকা আড়ৎদারি, পরিবহন, আনুষঙ্গিক আরো ৫ টাকা যোগ করলে ৫৫ টাকা একটি চামড়ার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। ১২ টাকা ফুট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪ ফুট চামড়ার বিক্রি ৪৮ টাকা। কোরবানিদাতা চামড়া বিনে পয়সায় দিলে, মৌসুমি ব্যবসায়ীকে চামড়া রক্ষা করার অপরাধে লোকশান গুণতে হবে ৭ টাকা। কোরবানির ছাগলের চামড়ার রক্ষা করবে কে? কুকুরেও খেতে পারবে না। কারণ কোরবানির বর্জ্য খেয়েই কুকুর দিশেহারা। 

মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশ ও জাতির পক্ষে কথা বলার জন্য কি আমাদের মতো ভোক্তা, রপ্তানি খাতকে রক্ষাকারী মাংস ব্যবসায়ী ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতিকে আমন্ত্রণ করা হয়নি? নাকি চামড়াশিল্প মালিকদের থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হতে পারেনি? বিগত ৪৫ বছর দেশ জাতি ও সরকারকে সার্ভিস দিচ্ছি, কটু কথার সত্য শুনতে না পারলে দায়িত্ব পূরণ করবেন কীভাবে? গত কোরবানির লবন জাত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ছিলো ইতিহাসের নাট্যমঞ্চ। কাঁচা চামড়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য মরণফাঁদ। মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য ছিলো বিড়ম্বনা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তার ঘোষিত মূল্য বাস্তবায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার কোনো রেকর্ড নেই। ট্যানারির মালিকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করবে, তার কোনো অঙ্গিকার নেই। নগদ টাকায় লবনযুক্ত চামড়া ক্রয়ের ইতিহাস নেই। বাকিতে চামড়া নেওয়ার পরের ইতিহাস একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। 

অনেক পাওনাদার হার্টএটাক করেছেন, অনেকেই নিঃস্ব হয়ে জীবনযাপন করছেন। পুঁজি ছাড়া কোরবানির কাঁচা চামড়া রক্ষা হবে আল্লাহ উপর নির্ভর করে। মাংস ব্যবসায়ী ও মাংস শ্রমিকদের হাতে দেশের দ্বিতীয় রপ্তানিখাত নির্ভর করে, তাদের প্রশিক্ষণ তিন বছর যাবৎ বন্ধ। আলোচনারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। দেশটা কোন পথে পরিচালিত হচ্ছে? কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হবে, দেশ হারাবে বৈদেশিক মুদ্রা, মাদ্রাসা এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং ও এতিমরা হারাবে তাদের অধিকার, দায় নেবে কে?  লেখক: মহাসচিব বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়